বাংলাদেশ ০৯:১৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিসিকে নিয়োগ ৪ কোটি টাকার বাণিজ্যে পলাতক মেয়র ও সিন্ডিকেট জড়িত

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৮:১৪:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর ২০২৫
  • ৪৬ Time View

 

বিকাল বার্তা প্রতিবেদকঃ সিলেট সিটি কর্পোরেশনে (সিসিক) অনিয়ম ও দুর্নীতির তালিকায় যুক্ত হয়েছে নতুন অধ্যায় — কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ বাণিজ্য। অস্থায়ী ভিত্তিতে চাকরি দেওয়ার নামে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন মেয়র ও তার নিয়োগ সিন্ডিকেট।

 

সিসিক সূত্রে জানা যায়, অনেক দপ্তরে কাজের প্রয়োজন না থাকলেও প্রতিটি মেয়াদেই নিয়োগ চলছে বাণিজ্যিক পদ্ধতিতে। চেয়ার নেই, টেবিল নেই, টোল নেই — বসারও জায়গা নেই, তবুও চলছে লোকবল নিয়োগ! বর্তমানে সিটি কর্পোরেশনে প্রয়োজনের তুলনায় ১৫ শতাংশ বেশি জনবল রয়েছে।

 

সরকারি অনুমোদন না থাকায় কর্পোরেশন প্রতি মেয়াদেই দৈনিক মজুরিতে (মাস্টাররোল) কর্মী নিয়োগ দিয়ে থাকে। কিন্তু এই প্রক্রিয়াই পরিণত হয়েছে ঘুষ ও বাণিজ্যের বড় উৎসে। সূত্রমতে, বর্তমানে ১,৮০৫ জন অস্থায়ী কর্মচারী রয়েছেন সিসিকে, যাদের মধ্যে সম্প্রতি ৪৪ জনকে বাদ দেওয়া হয়েছে মেয়রের অনুমোদন না পাওয়ায়।

 

২০২৪ সালের ২১ জুন আওয়ামী লীগ নেতা আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তার ঘনিষ্ঠদের নিয়ে নিয়োগ সিন্ডিকেট সক্রিয় হয়ে ওঠে। মাত্র দেড় মাসে, অর্থাৎ ৫ আগস্ট পর্যন্ত ১৭৫ জনকে মাস্টাররোলে অস্থায়ী চাকরি দেওয়া হয়।

 

তাদের মধ্যে অনেকেই আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের বিভিন্ন পদে রয়েছেন। দলীয় প্রভাবে অনেকেই নিয়োগ পান বিনা মেধায়, আবার অনেক প্রার্থীকে ঘুষ দিয়েই চাকরিতে ঢুকতে হয়।

 

সূত্র জানিয়েছে, পদভেদে দেড় লাখ থেকে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেওয়া হয়। চলতি মেয়াদেই মেয়র, তার পিএস, এপিএসসহ সিন্ডিকেটের ঘুষ বাণিজ্যের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় চার কোটি টাকা।

 

এই নিয়োগ বাণিজ্যে জড়িত ছিলেন মেয়রের ঘনিষ্ঠজন আওয়ামী ডেভিল সাজলু লস্কর, শংকর দাশ, শামীম, একলিমসহ কয়েকজন। তাদের মাধ্যমেই চাকরিপ্রার্থীদের তালিকা তৈরি ও ঘুষের টাকা আদান-প্রদান হতো।

 

গত বছরের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর মেয়র পালিয়ে যান এবং পরে তিনি পদচ্যুত হন।

ফলে তার অনুমোদন না পাওয়া ৪৪ জন কর্মচারী চাকরি হারান। তারা এক মাস কাজ করলেও নিয়োগে দেওয়া ঘুষের টাকা ফেরত পাননি। এতে চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন তারা।

 

সূত্র জানায়, বাদ পড়া কর্মচারীদের ফের চাকরিতে ফিরিয়ে আনতে সক্রিয় রয়েছে নিয়োগপ্রাপ্ত একদল প্রভাবশালী। তারা ইতোমধ্যে কর্মচারী সংগঠন গঠন ও আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

 

এ বিষয়ে জানতে সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মোবাইলে তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

 

সিলেট সিটি কর্পোরেশনে অস্থায়ী নিয়োগের নামে কোটি টাকার বাণিজ্য হয়েছে— যেখানে মেয়র ও তার ঘনিষ্ঠ সিন্ডিকেট সদস্যরা সরাসরি জড়িত বলে অভিযোগ।

কাজহীন পদে নিয়োগ, ঘুষ, অনুমোদনবিহীন ফাইল— সব মিলিয়ে সিসিক এখন এক দুর্নীতির দুর্গে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

jogo hosterbd

Popular Post
error: Content is protected !!

সিসিকে নিয়োগ ৪ কোটি টাকার বাণিজ্যে পলাতক মেয়র ও সিন্ডিকেট জড়িত

Update Time : ০৮:১৪:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর ২০২৫

 

বিকাল বার্তা প্রতিবেদকঃ সিলেট সিটি কর্পোরেশনে (সিসিক) অনিয়ম ও দুর্নীতির তালিকায় যুক্ত হয়েছে নতুন অধ্যায় — কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ বাণিজ্য। অস্থায়ী ভিত্তিতে চাকরি দেওয়ার নামে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন মেয়র ও তার নিয়োগ সিন্ডিকেট।

 

সিসিক সূত্রে জানা যায়, অনেক দপ্তরে কাজের প্রয়োজন না থাকলেও প্রতিটি মেয়াদেই নিয়োগ চলছে বাণিজ্যিক পদ্ধতিতে। চেয়ার নেই, টেবিল নেই, টোল নেই — বসারও জায়গা নেই, তবুও চলছে লোকবল নিয়োগ! বর্তমানে সিটি কর্পোরেশনে প্রয়োজনের তুলনায় ১৫ শতাংশ বেশি জনবল রয়েছে।

 

সরকারি অনুমোদন না থাকায় কর্পোরেশন প্রতি মেয়াদেই দৈনিক মজুরিতে (মাস্টাররোল) কর্মী নিয়োগ দিয়ে থাকে। কিন্তু এই প্রক্রিয়াই পরিণত হয়েছে ঘুষ ও বাণিজ্যের বড় উৎসে। সূত্রমতে, বর্তমানে ১,৮০৫ জন অস্থায়ী কর্মচারী রয়েছেন সিসিকে, যাদের মধ্যে সম্প্রতি ৪৪ জনকে বাদ দেওয়া হয়েছে মেয়রের অনুমোদন না পাওয়ায়।

 

২০২৪ সালের ২১ জুন আওয়ামী লীগ নেতা আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তার ঘনিষ্ঠদের নিয়ে নিয়োগ সিন্ডিকেট সক্রিয় হয়ে ওঠে। মাত্র দেড় মাসে, অর্থাৎ ৫ আগস্ট পর্যন্ত ১৭৫ জনকে মাস্টাররোলে অস্থায়ী চাকরি দেওয়া হয়।

 

তাদের মধ্যে অনেকেই আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের বিভিন্ন পদে রয়েছেন। দলীয় প্রভাবে অনেকেই নিয়োগ পান বিনা মেধায়, আবার অনেক প্রার্থীকে ঘুষ দিয়েই চাকরিতে ঢুকতে হয়।

 

সূত্র জানিয়েছে, পদভেদে দেড় লাখ থেকে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেওয়া হয়। চলতি মেয়াদেই মেয়র, তার পিএস, এপিএসসহ সিন্ডিকেটের ঘুষ বাণিজ্যের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় চার কোটি টাকা।

 

এই নিয়োগ বাণিজ্যে জড়িত ছিলেন মেয়রের ঘনিষ্ঠজন আওয়ামী ডেভিল সাজলু লস্কর, শংকর দাশ, শামীম, একলিমসহ কয়েকজন। তাদের মাধ্যমেই চাকরিপ্রার্থীদের তালিকা তৈরি ও ঘুষের টাকা আদান-প্রদান হতো।

 

গত বছরের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর মেয়র পালিয়ে যান এবং পরে তিনি পদচ্যুত হন।

ফলে তার অনুমোদন না পাওয়া ৪৪ জন কর্মচারী চাকরি হারান। তারা এক মাস কাজ করলেও নিয়োগে দেওয়া ঘুষের টাকা ফেরত পাননি। এতে চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন তারা।

 

সূত্র জানায়, বাদ পড়া কর্মচারীদের ফের চাকরিতে ফিরিয়ে আনতে সক্রিয় রয়েছে নিয়োগপ্রাপ্ত একদল প্রভাবশালী। তারা ইতোমধ্যে কর্মচারী সংগঠন গঠন ও আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

 

এ বিষয়ে জানতে সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মোবাইলে তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

 

সিলেট সিটি কর্পোরেশনে অস্থায়ী নিয়োগের নামে কোটি টাকার বাণিজ্য হয়েছে— যেখানে মেয়র ও তার ঘনিষ্ঠ সিন্ডিকেট সদস্যরা সরাসরি জড়িত বলে অভিযোগ।

কাজহীন পদে নিয়োগ, ঘুষ, অনুমোদনবিহীন ফাইল— সব মিলিয়ে সিসিক এখন এক দুর্নীতির দুর্গে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।