বাংলাদেশ ০৯:২৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় শত কোটি টাকার সরকারি সম্পত্তি ভূমিখেকোদের দখলে সংবাদ প্রকাশের পরও অভিযানে পড়িমসি সওজের

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:১১:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫
  • ৩৩ Time View

সিলেট বিভাগীয় ব্যুরোঃ সিলেট নগরীর কদমতলী কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের সামনে প্রায় শত কোটি টাকার সরকারি সম্পত্তি দখল করে রাখার অভিযোগের সংবাদ প্রকাশের পরও অভিযানে পড়িমসি সওজের বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। তারা বলেন সংবাদ প্রকাশের পর মাইকিং করেই দায়িত্ব শেষ করছে সপজ কতৃপক্ষ। তারা গোপন আতাতে সমজোতা হয়েছে বলে এই প্রতিবেদকের কাছে অভিযোগ করেন।

 

 

এর আগে সিলেট নগরীর কদমতলী কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের সামনে প্রায় শত কোটি টাকার সরকারি সম্পত্তি দখল করে রাখার অভিযোগ উঠে প্রভাবশালী একদল ভূমিখেকোর বিরুদ্ধে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিগত প্রায় ২৫ বছর ধরে এই সম্পত্তি দখল করে তারা কোটি কোটি টাকার ব্যবসা পরিচালনা করছে।

 

অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন সময়ে ক্ষমতায় থাকা দলের প্রভাবশালী নেতাদের বড় অংকের টাকার বিনিময়ে ‘ম্যানেজ’ করে এই দখল বজায় রেখেছে তারা। বিশেষ করে বিগত স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ ১৭ বছরে দখলদাররা অর্ধশত কোটি টাকার বেশি ব্যবসা করেছে বলে স্থানীয়দের দাবি।

 

সম্প্রতি ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর, বিএনপি-জামায়াত পরিচয়ে নতুন কিছু ব্যক্তি পুরনো দখলকারীদের সরিয়ে পুনর্দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে বলে একটি সূত্র জানিয়েছে। এতে এলাকায় চাপা উত্তেজনা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।

 

গত ১৬ সেপ্টেম্বর নবাগত জেলা প্রশাসক মো. সারোয়ার আলম কদমতলী কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল পরিদর্শনে গিয়ে টার্মিনালের সামনে থাকা সব অবৈধ স্থাপনা সরাতে ৭ দিনের আল্টিমেটাম দেন।

 

এরপর সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ নড়েচড়ে বসে। তারা টার্মিনালের দক্ষিণ পাশে অবৈধভাবে দখলকৃত সরকারি জমি চিহ্নিত করে ফিতা টেনে সীমারেখা নির্ধারণ করে। বিষয়টি তখন সিলেটজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে।

 

তবে জমি চিহ্নিত হওয়ার পর দখলকারীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ দেখা দেয়। তারা নিজেদের দখল টিকিয়ে রাখতে গত ৩ অক্টোবর (শুক্রবার) সন্ধ্যায় সিলেট সওজ কর্মকর্তাদের সঙ্গে গোপন বৈঠক করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

 

স্থানীয়রা দাবি করছেন, ঐ বৈঠকে কর্মকর্তাদের ‘বখরা’ দিয়ে ম্যানেজ করা হয়েছে—এমন গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে এলাকায়। এরপর স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে সওজ অভিযান দিয়ে নতুন রেলস্টেশন এলাকায় কিছু অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করলেও গডফাদাররা রয়েগেছে বহাল তবিয়তে।

এরপর সওজ মাইকিং করে নিজ দায়িত্বে অবৈধ দখলকৃত ভূমি ছেড়ে দিগে আরো এক সপ্তাহ সময় দিলেও উচ্ছেদ হয়নি, বরং সপ্তাহের পর দেড় মাস অতিবাহিত হলেও উচ্ছেদ অভিযানের কোন লক্ষন দেখা যাচ্ছেনা।

 

দখলকৃত সরকারি জমিতে বর্তমানে রয়েছে—

আহমেদ পরিবহন, রজনী রেস্টুরেন্ট, বিলাস পরিবহন, রোমার পরিবহন, শ্যামলী পরিবহন, ইউনিক পরিবহন, রয়েল সুপার, তায়েফ পরিবহন, লোপা ভ্যারাইটিজ স্টোর, আল-আমিন রেস্টুরেন্ট, ব্রাদার্স পেট্রোল পাম্প, হাজী আব্দুল মতলিব পেট্রোল পাম্প, যাত্রীসেবা আবাসিক হোটেল, সৌদিয়া রেস্টুরেন্টসহ অসংখ্য দোকান ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান।

 

এই সব স্থাপনা তৈরি করে দখলদাররা ভাড়া দিয়ে বছরে কোটি টাকার আয় করছে বলে জানা গেছে।

 

মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে সিলেট সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আমির হোসেন বলেন,

 

“কদমতলী বাস টার্মিনালের সামনে যারা সরকারি জমি দখল করেছে, তাদের উচ্ছেদের নোটিশ দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে মাইকিংও করা হয়েছে, এবং যে কোনো সময় জেলা প্রশাসক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করবেন।” তিনি বলেন আমরা কয়েকবার মাইকিং করেছি, আবারও মাইকিং করবো এরপর যে কোন সময় অভিযান হবে।

 

 

সেদিনের পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন— সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার,

সিসিকের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ একলিম আবদীন,

এবং প্রশাসনের আরও কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

 

প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের কারণে এখন কদমতলী এলাকায় আবারও উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার জোর প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

jogo hosterbd

Popular Post
error: Content is protected !!

সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় শত কোটি টাকার সরকারি সম্পত্তি ভূমিখেকোদের দখলে সংবাদ প্রকাশের পরও অভিযানে পড়িমসি সওজের

Update Time : ০২:১১:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫

সিলেট বিভাগীয় ব্যুরোঃ সিলেট নগরীর কদমতলী কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের সামনে প্রায় শত কোটি টাকার সরকারি সম্পত্তি দখল করে রাখার অভিযোগের সংবাদ প্রকাশের পরও অভিযানে পড়িমসি সওজের বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। তারা বলেন সংবাদ প্রকাশের পর মাইকিং করেই দায়িত্ব শেষ করছে সপজ কতৃপক্ষ। তারা গোপন আতাতে সমজোতা হয়েছে বলে এই প্রতিবেদকের কাছে অভিযোগ করেন।

 

 

এর আগে সিলেট নগরীর কদমতলী কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের সামনে প্রায় শত কোটি টাকার সরকারি সম্পত্তি দখল করে রাখার অভিযোগ উঠে প্রভাবশালী একদল ভূমিখেকোর বিরুদ্ধে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিগত প্রায় ২৫ বছর ধরে এই সম্পত্তি দখল করে তারা কোটি কোটি টাকার ব্যবসা পরিচালনা করছে।

 

অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন সময়ে ক্ষমতায় থাকা দলের প্রভাবশালী নেতাদের বড় অংকের টাকার বিনিময়ে ‘ম্যানেজ’ করে এই দখল বজায় রেখেছে তারা। বিশেষ করে বিগত স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ ১৭ বছরে দখলদাররা অর্ধশত কোটি টাকার বেশি ব্যবসা করেছে বলে স্থানীয়দের দাবি।

 

সম্প্রতি ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর, বিএনপি-জামায়াত পরিচয়ে নতুন কিছু ব্যক্তি পুরনো দখলকারীদের সরিয়ে পুনর্দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে বলে একটি সূত্র জানিয়েছে। এতে এলাকায় চাপা উত্তেজনা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।

 

গত ১৬ সেপ্টেম্বর নবাগত জেলা প্রশাসক মো. সারোয়ার আলম কদমতলী কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল পরিদর্শনে গিয়ে টার্মিনালের সামনে থাকা সব অবৈধ স্থাপনা সরাতে ৭ দিনের আল্টিমেটাম দেন।

 

এরপর সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ নড়েচড়ে বসে। তারা টার্মিনালের দক্ষিণ পাশে অবৈধভাবে দখলকৃত সরকারি জমি চিহ্নিত করে ফিতা টেনে সীমারেখা নির্ধারণ করে। বিষয়টি তখন সিলেটজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে।

 

তবে জমি চিহ্নিত হওয়ার পর দখলকারীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ দেখা দেয়। তারা নিজেদের দখল টিকিয়ে রাখতে গত ৩ অক্টোবর (শুক্রবার) সন্ধ্যায় সিলেট সওজ কর্মকর্তাদের সঙ্গে গোপন বৈঠক করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

 

স্থানীয়রা দাবি করছেন, ঐ বৈঠকে কর্মকর্তাদের ‘বখরা’ দিয়ে ম্যানেজ করা হয়েছে—এমন গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে এলাকায়। এরপর স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে সওজ অভিযান দিয়ে নতুন রেলস্টেশন এলাকায় কিছু অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করলেও গডফাদাররা রয়েগেছে বহাল তবিয়তে।

এরপর সওজ মাইকিং করে নিজ দায়িত্বে অবৈধ দখলকৃত ভূমি ছেড়ে দিগে আরো এক সপ্তাহ সময় দিলেও উচ্ছেদ হয়নি, বরং সপ্তাহের পর দেড় মাস অতিবাহিত হলেও উচ্ছেদ অভিযানের কোন লক্ষন দেখা যাচ্ছেনা।

 

দখলকৃত সরকারি জমিতে বর্তমানে রয়েছে—

আহমেদ পরিবহন, রজনী রেস্টুরেন্ট, বিলাস পরিবহন, রোমার পরিবহন, শ্যামলী পরিবহন, ইউনিক পরিবহন, রয়েল সুপার, তায়েফ পরিবহন, লোপা ভ্যারাইটিজ স্টোর, আল-আমিন রেস্টুরেন্ট, ব্রাদার্স পেট্রোল পাম্প, হাজী আব্দুল মতলিব পেট্রোল পাম্প, যাত্রীসেবা আবাসিক হোটেল, সৌদিয়া রেস্টুরেন্টসহ অসংখ্য দোকান ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান।

 

এই সব স্থাপনা তৈরি করে দখলদাররা ভাড়া দিয়ে বছরে কোটি টাকার আয় করছে বলে জানা গেছে।

 

মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে সিলেট সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আমির হোসেন বলেন,

 

“কদমতলী বাস টার্মিনালের সামনে যারা সরকারি জমি দখল করেছে, তাদের উচ্ছেদের নোটিশ দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে মাইকিংও করা হয়েছে, এবং যে কোনো সময় জেলা প্রশাসক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করবেন।” তিনি বলেন আমরা কয়েকবার মাইকিং করেছি, আবারও মাইকিং করবো এরপর যে কোন সময় অভিযান হবে।

 

 

সেদিনের পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন— সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার,

সিসিকের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ একলিম আবদীন,

এবং প্রশাসনের আরও কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

 

প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের কারণে এখন কদমতলী এলাকায় আবারও উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার জোর প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।