বাংলাদেশ ০৮:২১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিলেটের কৈলাশটিলায় মাসে উৎপাদিত প্রায় ৩০ হাজার এলপি গ্যাস হলেও পাচ্ছে না গ্রাহকরা

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৩:৪৮:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১০১ Time View

সিলেট থেকে বিকাল বার্তা প্রতিবেদকঃ সিলেটের কৈলাশটিলায় উৎপাদিত ৩০ হাজার এলপি গ্যাসের বোতল এলপি গ্যাস লিমিটেড এর মাধ্যমে পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের নির্ধারিত ডিলারের মাধ্যমে বাজারজাত করলেও কোন বাজারের গ্যাসের দোকানে মিলছে না একটি বোতলও। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ কালোবাজারীর মাধ্যমে সরকারী গ্যাসের বোতল বেসরকারী কোম্পানীর বোতলে ক্রসিংয়ের মাধ্যমে বেশী দামে বিক্রি করা হচ্ছে। হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি টাকা। এ অনিয়ম দুর্নীতির সাথে জড়িত কোম্পানীর মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটচক্র।

 

সরজমিন ঘুরে দেখা যায়, সিলেট বিভাগের সিলেট সুনামগঞ্জ মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের বিভিন্ন হাটবাজারে বেসরকারী গ্যাসের বোতলে সয়লাভ হলেও মিলছে না সরকারী এলপি গ্যাসের কোন বোতল। সরকারী এলপি গ্যাসের ১২ কেজির বোতলের মূল্য ৮২৫ টাকা এবং বেসরকারী কোম্পানীর গ্যাসের বোতল ১২৯০ টাকা থেকে ১৫০০ টাকা। সুত্র জানায়, অক্টোবর ২০২৫ মাসে সিলেটের তিনটি পেট্রোলিয়াম কোম্পানী পদ্মা, মেঘনা ও যমুনার মাধ্যমে ৩০ হাজার বোতল বাজারজাত করা হয়েছে। চলতি মাসের ১২ তারিখ পর্যন্ত প্রতিটি কোম্পানীকে ৩৬৪০টি বোতল সরবরাহ করা হয়েছে। সে অনুযায়ী পদ্মা মেঘনা ও যমুনা তিনটি মিলে ১০৯২০ টি বোতল বাজারজাত করা হয়েছে কিন্তু কোথাও কোন দোকানে একটি সরকারী বোতলও পাওয়া যায়নি। তাহলে এত বোতল যায় কোথায়? তথ্য অধিকার আইনে তথ্য চেয়েও মিলছে না তথ্য। স্থানীয় কর্মকর্তারা বলছে আমাদের কোন তথ্য দেয়ার সুযোগ নাই। যে কোন তথ্য জানতে চাইলে আমাদের প্রধান কার্যালয় চট্টগ্রাম থেকে জানতে হবে।

 

সুত্র জানায়, প্রতি মাসে সরকারী এলপি গ্যাস বিক্রয়ের অনিমের মাধ্যমে কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে কর্মকর্তা ও গ্যাস সংশ্লিষ্ট কথিত ডিলাররা। দীর্ঘ বছর ধরে চলছে একই নিয়মে। অনেক ডিলার মারা গেছেন কিংবা ব্যবসা পরিবর্তন করছেন কিন্তু সেই নামেই চলছে গ্যাসের ব্যবসা। পদ্মা মেঘনা ও যমুনা পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের সিলেট জোনের অধীনে ৪০-৪৫জন করে ডিলার থাকলেও তাদের কাছ থেকে মিলছে না তালিকা। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সরকারী এলপি গ্যাসের বোতলের দাম বেসরকারী বোতলের চেয়ে ৫শ টাকা বেশী হওয়ায় বেসরকারী গ্যাসের বোতলে ক্রসিং করে হাতিয়ে নিচ্ছে হাজার হাজার টাকা। সিলেটের উৎপাদিত গ্যাস সিলেটের মানুষ ব্যবহার করতে পারছেন না। সিলেটের উৎপাদিত গ্যাস কথিত ডিলারের নাম ব্যবহার করে পাচার করা হচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলায়। সিলেটের গ্যাস স্থানীয় বাজারে বিক্রি না করে প্রতিটি বোতলে ৫শ টাকা বেশী পেয়ে কালোবাজারীদের মাধ্যমে বাজারজাত করা হচ্ছে।

 

স্থানীয় এলপি গ্যাস বোতল ব্যবসায়ী নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জানান, আমরা বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের গ্যাসই বিক্রি করছি। সরকারী গ্যাসের বোতল পাওয়া যায় না। আর পাইলেও বোতলগুলো খুবই পুরাতন জরাজীর্ন হওয়ায় কাস্টমাররা ভয়ে নিতে চায় না। মাসে ১০-১৫টি বোতল পেলেও বেশীরভাগ বোতলের গ্যাস লিক হয়ে গ্যাসের পরিমাণ কমে যায়। আমাদের লাভের চেয়ে লোকসানের পরিমানই বেড়ে যায়। কিছু কিছু অসৎ ব্যবসায়ী আছেন যারা সরকারী গ্যাসের বোতল ক্রসিং করে বেসরকারী বোতলে ভরে প্রতিটি বোতল ১২-১৩শ টাকায় বিক্রি করছেন। ক্রসিং করতে গিয়ে অনেক সময় বিস্ফোরণ ঘটে বহু মানুষ মারা যায়। এলপি গ্যাস নিয়ন্ত্রনের জন্য কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নাই। যে যার মত ব্যবসা করছে। আমরা চাই সরকারী গ্যাসের বোতলগুলো যেন সঠিক দামে উন্নত বোতলের মাধ্যমে সব জায়গায় সরবরাহ করা হয়।

 

পদ্মা অয়েল কোম্পানী লি: এর সিলেট জোনের সহকারী ব্যবস্থাপক (বিপনন) জানান, আমাদের কোম্পানীর কোন ধরনের তথ্য দিতে নিষেধ আছে। যে কোন তথ্য জানতে আমাদের চট্টগ্রাম অফিসের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। কতজন ডিলার রয়েছে জানতে চাইলে তিনি তা জানাতে অস্বীকার করেন। সরকারী কর্মকর্তারা গ্যাস বিতরণে অনিয়মের সাথে জড়িত থাকার বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, পদ্মা ওয়েল কোম্পানীর কোন কর্মকর্তা-কর্মচারী অনিয়মের সাথে জড়িত নয়। ডিলারদের মাধ্যমে গ্যাসের বোতল সরবরাহ করা হয়ে থাকে। বাজারে কোন গ্যাসের বোতল নেই কথাটি সঠিক নয়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

jogo hosterbd

Popular Post
error: Content is protected !!

সিলেটের কৈলাশটিলায় মাসে উৎপাদিত প্রায় ৩০ হাজার এলপি গ্যাস হলেও পাচ্ছে না গ্রাহকরা

Update Time : ০৩:৪৮:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫

সিলেট থেকে বিকাল বার্তা প্রতিবেদকঃ সিলেটের কৈলাশটিলায় উৎপাদিত ৩০ হাজার এলপি গ্যাসের বোতল এলপি গ্যাস লিমিটেড এর মাধ্যমে পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের নির্ধারিত ডিলারের মাধ্যমে বাজারজাত করলেও কোন বাজারের গ্যাসের দোকানে মিলছে না একটি বোতলও। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ কালোবাজারীর মাধ্যমে সরকারী গ্যাসের বোতল বেসরকারী কোম্পানীর বোতলে ক্রসিংয়ের মাধ্যমে বেশী দামে বিক্রি করা হচ্ছে। হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি টাকা। এ অনিয়ম দুর্নীতির সাথে জড়িত কোম্পানীর মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটচক্র।

 

সরজমিন ঘুরে দেখা যায়, সিলেট বিভাগের সিলেট সুনামগঞ্জ মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের বিভিন্ন হাটবাজারে বেসরকারী গ্যাসের বোতলে সয়লাভ হলেও মিলছে না সরকারী এলপি গ্যাসের কোন বোতল। সরকারী এলপি গ্যাসের ১২ কেজির বোতলের মূল্য ৮২৫ টাকা এবং বেসরকারী কোম্পানীর গ্যাসের বোতল ১২৯০ টাকা থেকে ১৫০০ টাকা। সুত্র জানায়, অক্টোবর ২০২৫ মাসে সিলেটের তিনটি পেট্রোলিয়াম কোম্পানী পদ্মা, মেঘনা ও যমুনার মাধ্যমে ৩০ হাজার বোতল বাজারজাত করা হয়েছে। চলতি মাসের ১২ তারিখ পর্যন্ত প্রতিটি কোম্পানীকে ৩৬৪০টি বোতল সরবরাহ করা হয়েছে। সে অনুযায়ী পদ্মা মেঘনা ও যমুনা তিনটি মিলে ১০৯২০ টি বোতল বাজারজাত করা হয়েছে কিন্তু কোথাও কোন দোকানে একটি সরকারী বোতলও পাওয়া যায়নি। তাহলে এত বোতল যায় কোথায়? তথ্য অধিকার আইনে তথ্য চেয়েও মিলছে না তথ্য। স্থানীয় কর্মকর্তারা বলছে আমাদের কোন তথ্য দেয়ার সুযোগ নাই। যে কোন তথ্য জানতে চাইলে আমাদের প্রধান কার্যালয় চট্টগ্রাম থেকে জানতে হবে।

 

সুত্র জানায়, প্রতি মাসে সরকারী এলপি গ্যাস বিক্রয়ের অনিমের মাধ্যমে কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে কর্মকর্তা ও গ্যাস সংশ্লিষ্ট কথিত ডিলাররা। দীর্ঘ বছর ধরে চলছে একই নিয়মে। অনেক ডিলার মারা গেছেন কিংবা ব্যবসা পরিবর্তন করছেন কিন্তু সেই নামেই চলছে গ্যাসের ব্যবসা। পদ্মা মেঘনা ও যমুনা পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের সিলেট জোনের অধীনে ৪০-৪৫জন করে ডিলার থাকলেও তাদের কাছ থেকে মিলছে না তালিকা। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সরকারী এলপি গ্যাসের বোতলের দাম বেসরকারী বোতলের চেয়ে ৫শ টাকা বেশী হওয়ায় বেসরকারী গ্যাসের বোতলে ক্রসিং করে হাতিয়ে নিচ্ছে হাজার হাজার টাকা। সিলেটের উৎপাদিত গ্যাস সিলেটের মানুষ ব্যবহার করতে পারছেন না। সিলেটের উৎপাদিত গ্যাস কথিত ডিলারের নাম ব্যবহার করে পাচার করা হচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলায়। সিলেটের গ্যাস স্থানীয় বাজারে বিক্রি না করে প্রতিটি বোতলে ৫শ টাকা বেশী পেয়ে কালোবাজারীদের মাধ্যমে বাজারজাত করা হচ্ছে।

 

স্থানীয় এলপি গ্যাস বোতল ব্যবসায়ী নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জানান, আমরা বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের গ্যাসই বিক্রি করছি। সরকারী গ্যাসের বোতল পাওয়া যায় না। আর পাইলেও বোতলগুলো খুবই পুরাতন জরাজীর্ন হওয়ায় কাস্টমাররা ভয়ে নিতে চায় না। মাসে ১০-১৫টি বোতল পেলেও বেশীরভাগ বোতলের গ্যাস লিক হয়ে গ্যাসের পরিমাণ কমে যায়। আমাদের লাভের চেয়ে লোকসানের পরিমানই বেড়ে যায়। কিছু কিছু অসৎ ব্যবসায়ী আছেন যারা সরকারী গ্যাসের বোতল ক্রসিং করে বেসরকারী বোতলে ভরে প্রতিটি বোতল ১২-১৩শ টাকায় বিক্রি করছেন। ক্রসিং করতে গিয়ে অনেক সময় বিস্ফোরণ ঘটে বহু মানুষ মারা যায়। এলপি গ্যাস নিয়ন্ত্রনের জন্য কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নাই। যে যার মত ব্যবসা করছে। আমরা চাই সরকারী গ্যাসের বোতলগুলো যেন সঠিক দামে উন্নত বোতলের মাধ্যমে সব জায়গায় সরবরাহ করা হয়।

 

পদ্মা অয়েল কোম্পানী লি: এর সিলেট জোনের সহকারী ব্যবস্থাপক (বিপনন) জানান, আমাদের কোম্পানীর কোন ধরনের তথ্য দিতে নিষেধ আছে। যে কোন তথ্য জানতে আমাদের চট্টগ্রাম অফিসের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। কতজন ডিলার রয়েছে জানতে চাইলে তিনি তা জানাতে অস্বীকার করেন। সরকারী কর্মকর্তারা গ্যাস বিতরণে অনিয়মের সাথে জড়িত থাকার বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, পদ্মা ওয়েল কোম্পানীর কোন কর্মকর্তা-কর্মচারী অনিয়মের সাথে জড়িত নয়। ডিলারদের মাধ্যমে গ্যাসের বোতল সরবরাহ করা হয়ে থাকে। বাজারে কোন গ্যাসের বোতল নেই কথাটি সঠিক নয়।