বাংলাদেশ ০৮:২৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিলেটের গোয়াইনঘাটে গভীর রাতে ৭ মহিষ চুরি, দেড় দিন পর প্রায় ৩ লাখ টাকায় উদ্ধার!

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৬:৫৮:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১২০ Time View

বিকাল বার্তা প্রতিবেদকঃ সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার ডৌবাড়ী ইউনিয়নের যাত্রাভা (কান্দিগ্রাম) এলাকায় গভীর রাতে একটি বাড়ি থেকে ২টি বাচ্চাসহ ৭টি মহিষ চুরির ঘটনা ঘটেছে। পরে দেড় দিন পর প্রায় ২ লাখ ৯০ হাজার টাকা দেওয়ার মাধ্যমে মহিষগুলো উদ্ধার করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৯ ডিসেম্বর ২০২৫ ইং রাত আনুমানিক ১টা ৪৫ মিনিটে যাত্রাভা (কান্দিগ্রাম) এলাকার বাসিন্দা ছয়ফুল মিয়ার নিজ বাড়ির গোয়ালঘর থেকে মহিষগুলো চুরি হয়। ওই সময় হঠাৎ করে ছয়ফুল মিয়ার ছেলে তাজুল ইসলামের শিশু সন্তান ঘুম থেকে জেগে কান্নাকাটি করলে পরিবারের এক নারী সদস্য জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বের হন। এ সময় তিনি গোয়ালঘর খালি দেখতে পেয়ে চিৎকার দেন।

 

পরবর্তীতে পরিবারের লোকজন ও এলাকাবাসী বাড়ির পশ্চিম পাশের ক্ষেতের জমি হয়ে হাওরের দিকে মহিষের পায়ের চিহ্ন অনুসরণ করেন। চিহ্ন ধরে গোয়ান নদী পার হওয়ার আলামত পাওয়া যায়। নদী পার হয়ে লেংগুড়ার হাওর পর্যন্ত মহিষের পায়ের ছাপ দেখা যায়। সেখান থেকে উত্তর দিকে সনিরগ্রাম এলাকার গুপাট হয়ে সতিগ্রাম গ্রামের পূর্ব ও উত্তর পাশের আরও একটি গুপাট পর্যন্ত মহিষ যাওয়ার আলামত পাওয়া যায়।

 

এ সময় সতিগ্রাম এলাকার একটি ধানের খলায় এক পা প্রতিবন্ধী বৃদ্ধ ব্যক্তিকে দেখা গেলে তাকে বিষয়টি জানানো হয়। ওই বৃদ্ধ জানান, কিছুক্ষণ আগে কয়েকটি মহিষ ওই দিক দিয়ে যেতে দেখেছেন, তবে শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি ডাকতে পারেননি। তখন রাত আনুমানিক ৩ থেকে ৪টা।

 

পরবর্তীতে সন্দেহের ভিত্তিতে কামরুল নামের এক ব্যক্তির বাড়িতে লোক পাঠানো হলে তিনি চুরির বিষয়টি অস্বীকার করেন। তবে লেংগুড়া গ্রামের কয়েকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা যায়, ওই গ্রামের কয়েকজন চোর একত্রিত হয়ে এ চুরির ঘটনা ঘটিয়েছে বলে স্থানীয়দের ধারণা।

 

পরদিন বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগের একপর্যায়ে জানা যায়, কামরুল দাবি করেন তিনি মহিষগুলো ছেড়ে দিয়েছেন এবং খোঁজাখুঁজি করে পাওয়া গেলে টাকা লাগবে। পরে পরদিন সন্ধ্যায় ২ লাখ ৯০ হাজার টাকা তার হাতে পৌঁছালে তিনি মহিষগুলোর অবস্থান দেখিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেন।

 

এরই ধারাবাহিকতায় ১০ ডিসেম্বর রাত আনুমানিক ১০টার দিকে দরগ্রাম ঈদগাহের এক পাশে টর্চলাইটের ইশারায় স্থান নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। সেখান থেকে মহিষের মালিক ছয়ফুল মিয়ার ছোট ছেলে আনিছুল ইসলাম, সঙ্গে আব্দুল হামিদ, ইসমাঈল, মঈনুলসহ ৫–৬ জন গিয়ে মহিষগুলো গ্রহণ করে বাড়িতে নিয়ে আসেন।

 

এ ঘটনায় এলাকায় চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত চোরচক্র শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এর আগেও গোয়াইনঘাট উপজেলার সদর ইউনিয়নের হুওয়াউরা গ্রামের মাঃ আব্দুর রাকিব এর ৭ টি মহিষ চুরি হইলে সেই কামরুল গং দের হাত থেকে ১ লাখ ৭০ হাজার টাকায় উদ্দার করা হয় বলে স্থানীয় সুত্রে জানা যায়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

jogo hosterbd

Popular Post
error: Content is protected !!

সিলেটের গোয়াইনঘাটে গভীর রাতে ৭ মহিষ চুরি, দেড় দিন পর প্রায় ৩ লাখ টাকায় উদ্ধার!

Update Time : ০৬:৫৮:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫

বিকাল বার্তা প্রতিবেদকঃ সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার ডৌবাড়ী ইউনিয়নের যাত্রাভা (কান্দিগ্রাম) এলাকায় গভীর রাতে একটি বাড়ি থেকে ২টি বাচ্চাসহ ৭টি মহিষ চুরির ঘটনা ঘটেছে। পরে দেড় দিন পর প্রায় ২ লাখ ৯০ হাজার টাকা দেওয়ার মাধ্যমে মহিষগুলো উদ্ধার করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৯ ডিসেম্বর ২০২৫ ইং রাত আনুমানিক ১টা ৪৫ মিনিটে যাত্রাভা (কান্দিগ্রাম) এলাকার বাসিন্দা ছয়ফুল মিয়ার নিজ বাড়ির গোয়ালঘর থেকে মহিষগুলো চুরি হয়। ওই সময় হঠাৎ করে ছয়ফুল মিয়ার ছেলে তাজুল ইসলামের শিশু সন্তান ঘুম থেকে জেগে কান্নাকাটি করলে পরিবারের এক নারী সদস্য জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বের হন। এ সময় তিনি গোয়ালঘর খালি দেখতে পেয়ে চিৎকার দেন।

 

পরবর্তীতে পরিবারের লোকজন ও এলাকাবাসী বাড়ির পশ্চিম পাশের ক্ষেতের জমি হয়ে হাওরের দিকে মহিষের পায়ের চিহ্ন অনুসরণ করেন। চিহ্ন ধরে গোয়ান নদী পার হওয়ার আলামত পাওয়া যায়। নদী পার হয়ে লেংগুড়ার হাওর পর্যন্ত মহিষের পায়ের ছাপ দেখা যায়। সেখান থেকে উত্তর দিকে সনিরগ্রাম এলাকার গুপাট হয়ে সতিগ্রাম গ্রামের পূর্ব ও উত্তর পাশের আরও একটি গুপাট পর্যন্ত মহিষ যাওয়ার আলামত পাওয়া যায়।

 

এ সময় সতিগ্রাম এলাকার একটি ধানের খলায় এক পা প্রতিবন্ধী বৃদ্ধ ব্যক্তিকে দেখা গেলে তাকে বিষয়টি জানানো হয়। ওই বৃদ্ধ জানান, কিছুক্ষণ আগে কয়েকটি মহিষ ওই দিক দিয়ে যেতে দেখেছেন, তবে শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি ডাকতে পারেননি। তখন রাত আনুমানিক ৩ থেকে ৪টা।

 

পরবর্তীতে সন্দেহের ভিত্তিতে কামরুল নামের এক ব্যক্তির বাড়িতে লোক পাঠানো হলে তিনি চুরির বিষয়টি অস্বীকার করেন। তবে লেংগুড়া গ্রামের কয়েকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা যায়, ওই গ্রামের কয়েকজন চোর একত্রিত হয়ে এ চুরির ঘটনা ঘটিয়েছে বলে স্থানীয়দের ধারণা।

 

পরদিন বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগের একপর্যায়ে জানা যায়, কামরুল দাবি করেন তিনি মহিষগুলো ছেড়ে দিয়েছেন এবং খোঁজাখুঁজি করে পাওয়া গেলে টাকা লাগবে। পরে পরদিন সন্ধ্যায় ২ লাখ ৯০ হাজার টাকা তার হাতে পৌঁছালে তিনি মহিষগুলোর অবস্থান দেখিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেন।

 

এরই ধারাবাহিকতায় ১০ ডিসেম্বর রাত আনুমানিক ১০টার দিকে দরগ্রাম ঈদগাহের এক পাশে টর্চলাইটের ইশারায় স্থান নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। সেখান থেকে মহিষের মালিক ছয়ফুল মিয়ার ছোট ছেলে আনিছুল ইসলাম, সঙ্গে আব্দুল হামিদ, ইসমাঈল, মঈনুলসহ ৫–৬ জন গিয়ে মহিষগুলো গ্রহণ করে বাড়িতে নিয়ে আসেন।

 

এ ঘটনায় এলাকায় চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত চোরচক্র শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এর আগেও গোয়াইনঘাট উপজেলার সদর ইউনিয়নের হুওয়াউরা গ্রামের মাঃ আব্দুর রাকিব এর ৭ টি মহিষ চুরি হইলে সেই কামরুল গং দের হাত থেকে ১ লাখ ৭০ হাজার টাকায় উদ্দার করা হয় বলে স্থানীয় সুত্রে জানা যায়।