
নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট: সিলেটের গোলাপগঞ্জে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে এক গৃহবধূর ওপর দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বর্বরোচিত হামলার অভিযোগ উঠেছে। গত ৫ ডিসেম্বর দুপুর ২টার দিকে উপজেলার খুমিয়া সিতেশ্বর এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। হামলায় আহত মনোয়ারা বেগম (৩৮) বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় তিনি সিলেট আমলগ্রহণকারী ২নং আদালতে ৫ জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করেছেন (মামলা নং- ৩৪/২০২৫)।
মামলার আরজি থেকে জানা যায়, বাদীনীর স্বামী সামছুল ইসলাম পাপলু আসামিদের বিরুদ্ধে ১৪৪ ধারায় একটি মামলা দায়ের করায় তারা ক্ষিপ্ত ছিল। গত ৫ ডিসেম্বর মনোয়ারা বেগম ঘর থেকে বের হলে ওত পেতে থাকা আসামিরা লোহার রড, লাঠি ও রুল নিয়ে তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। প্রধান আসামি জবরুল আহমদের নির্দেশে এমাদ আহমদ লোহার রড দিয়ে মনোয়ারা বেগমের মাথায় আঘাত করার চেষ্টা করলে তিনি হাত দিয়ে তা ঠেকাতে গিয়ে গুরুতর জখম হন। পরে আসামিরা তাকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত জখম করে।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, হামলার সময় আসামি অলি আহমদ বাদীনীর গলা থেকে চার আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন (মূল্য প্রায় ৫০ হাজার টাকা) এবং নাজমুল ইসলাম আবু বাদীনীর কান থেকে ছয় আনা ওজনের স্বর্ণের দুল (মূল্য প্রায় ৮০ হাজার টাকা) ছিনিয়ে নেয়। এছাড়া নারী আসামি আনোয়ারী বেগম বাদীনীর চুল ধরে টেনে মাটিতে ফেলে শ্লীলতাহানি ও শারীরিক নির্যাতন করেন।
মাকে বাঁচাতে মেয়ে জেসি আক্তার জোহা এগিয়ে এলে আসামি অলি আহমদ তাকে দুই হাত দিয়ে গলা টিপে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা চালায় এবং মারধর করে। স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে আসামিরা পালিয়ে যাওয়ার সময় মামলা করলে প্রাণনাশের ও লাশ গুম করার হুমকি প্রদান করে।
আহত মনোয়ারা বেগমকে প্রথমে গোলাপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে অবস্থার অবনতি হলে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ২৬নং ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা শেষে কিছুটা সুস্থ হয়ে তিনি আদালতে এই মামলা দায়ের করেন।
আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। এলাকায় এ নিয়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
Reporter Name 
























