
ক্রাইম রিপোর্ট জসিম হোসেন, ঝিনাইদহ: বঙ্গবন্ধু প্রেম ছেড়ে এখন ভোল বদলে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের রেদওয়ান আহমেদ হৃদয় নামের এক যুবককে জামায়াত-শিবিরের বিভিন্ন কার্যক্রমে সক্রিয় দেখা যাচ্ছে। ৫ ই আগস্টের পট পরিবর্তনের সাথে সাথে এই যুবকের ভোলবদল দেখে খোদ তাজ্জব বনে গেছে এলাকার তরুণ সমাজ। ৫ই আগস্টের আগ পর্যন্ত যার ফেসবুক টাইমলাইন ছিল বঙ্গবন্ধুর নৌকার ভালোবাসায় ভরপুর এবং বিতর্কিত অশ্লীল কর্মকাণ্ডে ঠাসা, সেই যুবককেই এখন ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের সাথে মিছিলে ও মিটিংয়ে দেখা যাচ্ছে। শিবির নেতাকর্মীদের সাথে সেলফি তুলে নিজের ফেসবুক আইডিতে নিয়মিত শেয়ার করায় এলাকায় এখন সে ‘শিবির ঘনিষ্ঠ’ হিসেবেই পরিচিতি পাচ্ছে। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে গোয়েন্দা সংস্থা ও সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে বিরামহীন উস্কানি ও বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে সে।
হৃদয়ের ফেসবুক আইডির টাইমলাইনে দেখা যায়, ৫ই আগস্টের আগে তার আইডিতে বঙ্গবন্ধু ও নৌকার প্রতি বিশেষ সখ্যতা ও অনুরাগের চিত্র। বঙ্গবন্ধুর ছবি সম্বলিত ব্যানার ও পোস্টার ধরে দাঁড়িয়ে থাকার একাধিক ছবিতে ছড়াছড়ি তার টাইমলাইনে। সেসময়ের বঙ্গবন্ধুর আদর্শ লালন করা আলোচিত তরুণের চারিত্রিক রুচি নিয়ে প্রশ্ন জনমনে। বিদেশি নীল ছবির তারকা জনি সিন্সের ছবি শেয়ার করা, অশ্লীল ভাস্কর্যের সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তোলা এবং কুরুচিপূর্ণ টিকটক ভিডিওতে মত্ত থাকার নজিরও রয়েছে তার আইডিতে।
পট পরিবর্তনের পর হৃদয়ের ভোলবদল করে এখন সে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের আশ্রয়ে নিজেকে বেশ দাপুটে মনে করছে। শিবিরের নেতাকর্মীদের সাথে সার্বক্ষণিক চলাচল ও দলীয় কার্যক্রমে তার সক্রিয় উপস্থিতির কারণে সাধারণ মানুষের মাঝে সে এখন শিবির হিসেবেই পরিচয় পাচ্ছে। এই নতুন অবস্থানকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে সে ধরাকে সরাজ্ঞান করছে। কালীগঞ্জের স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী এবং গোয়েন্দা সংস্থাকে নিয়ে ফেসবুকে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য ও বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে দেদারছে। সম্প্রতি বিভিন্ন ফেসবুক পোস্টে সে সাংবাদিকদের পেশাগত মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করতে তাদের সরাসরি “হলুদ সাংবাদিক” বলে আখ্যা দিচ্ছে এবং দেশের গোয়েন্দা সংস্থাকে “ইউজলেস” বা অকেজো বলে মন্তব্য করছে।
রেদওয়ান আহমেদ হৃদয় নামের এই যুবকের এমন উস্কানি জনমনে চরম বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করার অপচেষ্টা বলে মনে করছেন স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ। কালীগঞ্জের সাধারণ মানুষ প্রশ্ন তুলছেন— গতকাল পর্যন্ত যে ছেলেটি অশ্লীলতা আর ফ্যাসিস্ট আওয়ামী রাজনৈতিক চর্চায় ডুবে ছিল, আজ সে কীভাবে শিবির নেতাকর্মীদের সাথে মিশে প্রশাসন ও সাংবাদিকদের নিয়ে মন্তব্য করে? এই ধরণের সুবিধাবাদী অনুপ্রবেশকারীরা মূলত ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতেই এমন উস্কানি দিচ্ছে। এলাকার সচেতন মানুষ ও স্থানীয়দের দাবি, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়ানো এই গিরগিটি প্রকৃতির যুবকের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে আর কেউ প্রশাসন বা সাংবাদিকদের নিয়ে এমন ধৃষ্টতা দেখানোর সাহস না পায়।
এ বিষয়ে তার সাথে কথা বললে, তিনি বিভিন্ন স্ট্যাটাস এবং কমেন্টস এর কথা স্বীকার করেন।
Reporter Name 


















