
সিলেট বিভাগীয় ব্যুরোঃ সিলেটে সীমান্তবর্তী উপজেলা গোয়াইনঘাটকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে ভয়াবহ চোরাচালান বাণিজ্যের জাল, যেখানে একাধিক ব্যক্তি ‘লাইনম্যান’ হিসেবে সক্রিয় থেকে পণ্যের সরবরাহ, পাইকারি বিক্রি ও প্রভাবশালী শেল্টার নিয়ে কাজ করছে—এমন অভিযোগ করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাজার সংশ্লিষ্টরা।
অভিযোগের তথ্যমতে, গোয়াইনঘাট উপজেলার বিছনাকান্দির হাদারপার এলাকা থেকে কথিত চোরাচালান সিন্ডিকেটের মূল হোতারা পণ্য পাঠান সিলেটের কালীঘাট, কাচাবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায়। এই পণ্য পরিবহনে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করেন আম্বরখানা এলাকার লাইনম্যান মামুন।
পরবর্তীতে আম্বরখানা থেকে চোরাইপণ্য ডেলিভারির দায়িত্ব দেওয়া হয় কয়েকজন লাইনম্যানের হাতে। এর মধ্যে রয়েছেন—বড়বাজার এলাকার রাসেল, হায়দার, কালিঘাট-সোবহানীঘাট এলাকায় মাছুম এবং ডেবিল রাহী।
স্থানীয়দের দাবি লাইনম্যান মাছুম ও রাহী অবৈধ চিনি, পেঁয়াজ, জিরা ও আলু—সোবহানীঘাট কাঁচাবাজারে এনে বিভিন্ন পাইকারি দোকানে বিক্রি ও কালিঘাটে পৌছে দেন।
বাজার ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, চোরাই পণ্যের অবাধ প্রবেশ নিশ্চিত করতে কয়েকটি থানা ও পুলিশ ফাঁড়ি প্রভাব খাটিয়ে ‘ম্যানেজ’ করা হয়—এর মধ্যে রয়েছে গোয়াইনঘাট থানা, সালুটিকর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র, এসএমপির বিমান বন্দর থানা, কালাগুল পুলিশ ফাঁড়ি, মুলাগুল পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র, আম্বরখানা পুলিশ ফাঁড়ি, শাহ্পরান (রহ:) থানা, সুরমাগেইট পুলিশ ফাঁড়ি, কোতোয়ালী থানা, সোবহানীঘাট পুলিশ ফাঁড়ি, বন্দর পুলিশ ফাঁড়ি।
বিমানবন্দর থানা ও আম্বরখানা পুলিশ ফাঁড়ি — নিয়ন্ত্রণে রাখেন লাইনম্যান হায়দার ও মামুন, সোবহানীঘাট পুলিশ ফাঁড়ি দেখভালের দায়িত্বে আছেন লাইনম্যান রাহী। সুরমাগেইট ফাঁড়ি ও শাহ্পরান থানা ম্যানেজ করেন লাইনম্যান রাসেল ও মামুন, কোতোয়ালি থানা ও বন্দরবাজার ফাঁড়ি ম্যানেজ করেন লাইনম্যান ডেবিল রাহী ও মাসুম।
অভিযোগ রয়েছে চোরাইপণ্যে ভর্তি প্রতিগাড়ী থেকে বিমান বন্দর থানার নামে ২ হাজার, আম্বরখানা ফাঁড়ির নামে ১ হাজার ৫ শত, সোবহানীঘাট ফাঁড়ির নামে ২ হাজার এবং বন্দরবাজার ফাঁড়ি, সুরমাগেইট ফাঁড়ির নামে লাইনম্যানরা টাকা আদায় করে।
এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে, আম্বরখানা ফাঁড়ির আইসি এস আই মিজান এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন আমার এলাকা দিয়ে চোরাইপণ্যে শহরে প্রবেশ করে এটা আমার জানা নেই। কিছুদিন আগে চোরাইপণ্যেসহ হায়দারকে আটকের বিষয়ে শিকার করে বলেন সে জামিনে বেড়িয়ে আবার অপকর্মে জড়িয়েছে। তিনি বলেন আমি ও আমার টিম কঠোর অবস্থানে আছি তথ্যদিয়ে সহযোগিতা করতে আহবান করেন। তিনি আবার বলেন মনে হয় সাহেববাজার থেকে বাগানের ভিতর দিয়ে শাহ্পরান এলাকা দিয়ে সোবহানীঘাট কাচাবাজারে চোরাইপণ্যে আসে। ঐ রাস্তায় কিছুদিন আগে ৪ টি গাড়ী চোরাইপণ্যেসহ আটক করেছিলেন বলে জানান।
সোবহানীঘাট ফাঁড়ির আইসি এস আই শিপলু’র সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন আমার এলাকা দিয়ে চোরাইপণ্যে শহরে প্রবেশ করে এটা আমার জানা নেই। তথ্যদিয়ে সহযোগিতা করেন অভিযান দিয়ে সব আটকের ব্যবস্থা করবো।
সোবহানীঘাট কাঁচাবাজারের একাধিক ব্যবসায়ী জানান, “চোরাই পণ্যের কারণে বৈধ ব্যবসায় ধস নেমেছে। সরকারের রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে, বাজার দখল করছে চোরাচালান সিন্ডিকেট। প্রশাসনের জোর অভিযান ছাড়া এটি থামানো যাবে না।”
এদিকে, সচেতন মহল বলেন পুলিশের সহযোগিতা ছাড়া চোরাচালান ব্যবসা কোনভাবেই সম্ভবনা। দ্রুত তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
Reporter Name 


















