বাংলাদেশ ০৮:২১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিলেট দক্ষিণ সুরমায় নকল স্বর্ণের জমজমাট প্রতারণা নীরব ভূমিকায় প্রশাসন 

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:৫৬:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১১০ Time View

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় নকল সোনার প্রতারকদের খপ্পরে পরে ১ভরি ওজনের স্বর্নের খানের রিং খোয়েছেন নগরীর ৪ মাইল এলাকার এক মধ্যবয়সী মহিলা। গত ১০দিন পূর্বে ঐ মহিলা কদমতলী থেকে সিএনজিতে করে চার মাইল বাসায় যাওয়ার পথে এই ঘটনা ঘটে।

 

সুত্রে জানাযায়, ঘটনার দিন আসরের আযানের পূর্বমুহুর্তে বাসায় যাওয়ার পথে কদমতলী থেকে সিএনজিতে উঠেন, এসময় সিএনজি চালক তাকে একটি কাগজ হাতে ধরিয়ে দেয়। কিছুক্ষণ দেখার পর তাহার স্বাভাবিক স্ত্রৃতি হারিয়ে নিজে নিজেই চালকের হাতে ১ ভরি ওজনের স্বর্নের রিং তুলেদেন। সিএনজি থেকে নেমে স্বাভাবিক সেন্স ফিরে আসলে তিনি বুঝতে পারেন প্রতারনার শিকার হয়েছেন। এভাবে প্রতিদিন অনেক নীরিহ সহজ সরল মানুষ ও পর্যটকরা প্রতারনার শিকার হলেও পুলিশের কার্যকর কোন ভূমিকা নেই।

 

উল্লেখ্য এর আগে বিভিন্ন অনলাইন মিডিয়া এই প্রতারনার বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ করে।নিন্ম তা দেওয়া হলো:-

সিলেট নগরীর দক্ষিণ সুরমার হুমায়ুন রশীদ চত্ত্বর একটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট।সেই পয়েন্ট দিয়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভিআইপি দূরপাল্লার বাসের যাত্রী বা পর্যটকগন সিলেট শহরে প্রবেশ করে। এই সুযোগটিকে কাজে লাগিয়ে ২০ জনের একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র সিন্ডিকেটের মাধ্যমে হুমায়ূন রশীদ চত্ত্বর-কদমতলী-বাসটার্মিনাল এলাকায় গড়ে তুলেছে নকল সোনার জমজমাট প্রতারণা। তাদের প্রতারণার খপ্পরে পরে বিভিন্ন জেলা থেকে আগত দর্শনার্থী এবং সিলেটের বিভিন্ন প্রান্তের গ্রাম থেকে আসা সহজ-সরল মানুষ ও পর্যটকরা সর্বস্ব হারিয়ে পড়েন বিপাকে। এই প্রতারক চক্রের নেতৃত্ব দিচ্ছে আলমগীর হোসেন ও আনোয়ার গং । সে ২৫ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মোমিন খোলা নিবাসী আশিকুর রহমান আশিক এর কলোনীতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতো বলে বিশ্বস্ত একটি সূত্র জানিয়েছে। তবে সে এখন সেখানে থাকেনা। আনোয়ার লাউয়াই দক্ষিণ সুরমা রায়ের গ্রামের বাসিন্দা।

 

খোঁজ নিয়ে জানা যায় দক্ষিণ সুরমার হুমায়ুন রশীদ চত্ত্বর সংলগ্ন ফুট ওভারব্রিজ, কদমতলী পয়েন্ট ও বাসটার্মিনাল এলাকার আশপাশে তারা ওতপেতে থাকে। তাদের রয়েছে নিজেদের নিয়ন্ত্রিত রিকশা ও সিএনজি। বিশেষ করে গ্রীণলাইন,লন্ডন এক্সপ্রেস ও শ্যমলী পরিবহনের যাত্রীরা তাকে তাদের টার্গেটে। সকাল ০৬.০০ ঘটিকা থেকে রাত ১২.০০ ঘটিকা পর্যন্ত চলে তাদের নকল সোনার ব্যবসা। এরপর তারা তাদের গন্তব্যে চলে যায়।সরেজমিনে গিয়ে একটানা একমাস সকাল ৯.০০ ঘটিকা বিকাল ৫.০০ ঘটিকা পর্যন্ত একটানা অবস্থান করে গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে এই চক্রকে শনাক্ত করা হয়।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যবসায়ী ও পথচারীদের সাথে কথা হলে তারা এই প্রতিবেদককে জানিয়েছেন প্রতারক চক্রটি খুবই শক্তিশালী,তারা স্থানীয় এক প্রভাবশালী আওয়ামীলীগ নেতা ২৫ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আশিকুর রহমান আশিক এর নাম বাঙ্গিয়ে অপরাধ চক্রটি প্রকাশ্যে দিবালোকে পিতলকে সোনা বলে ব্লাকমেইলের মাধ্যমে হাতিয়ে নিচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা। তাদের এই অপরাধ নিবিঘ্নে করতে কিছু সাংবাদিক ও পুলিশের গুটিকয়েক অসাধু কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে চলে তাদের নকল সোনার জমজমাট প্রতারণা। তাই অপরাধ করেও তারা জনসম্মুখে অবাধে চলাফেরা করে।

 

এই নকল সোনার প্রতারণার কৌশল,চক্রটির সদস্যরা রিকশা ও সিএনজি নিয়ে বিলাশবহুল বাসের কাউন্টারের সামনে দাড়িয়ে থাকে।বাস থেকে যাত্রী নামার পর তারা বিভিন্ন পাড়া মহল্লা বন্দর, জিন্দাবাজার, আম্বরখানা, দরগাগেইট, উপশহর ও সোবহানীঘাট নামে ডেকে তাদের গাড়ীতে যাত্রী তুলে। কিছুদূর যাওয়ার পর অপরাধী চক্রের রিকশা চালক বা সিএনজি চালক যাত্রীকে একটি কাগজ দিয়ে বলেন দেখেনতো এখানে কি লিখা আছে,আমি লেখা পড়া জানিনা প্রতারক এ কথা বললে যাত্রী চিঠি পড়ে দেখেন সোনার পরিমাণ ও প্রাপকের ঠিকানা এই কাগজে লিখা,সেখানে সোনা পৌছে দেওয়ার কথা রয়েছে। ততক্ষণে ভোক্তভোগীর স্বাভাবিক সেন্স নষ্ট হয়ে যায়, ফলে নিজ থেকেই ভূক্তভোগী তাহার কাছে থাকা সবকিছু প্রতারকদের দিয়ে দেয়।

 

এ ব্যাপারে এসএমপির দক্ষিণ সুরমা থানার অফিসার ইনচার্জ আনিসুর রহমান এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করে নকল সোনার প্রতারণা বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ফোন রিসিভ না করায় তাহার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

jogo hosterbd

Popular Post
error: Content is protected !!

সিলেট দক্ষিণ সুরমায় নকল স্বর্ণের জমজমাট প্রতারণা নীরব ভূমিকায় প্রশাসন 

Update Time : ১২:৫৬:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় নকল সোনার প্রতারকদের খপ্পরে পরে ১ভরি ওজনের স্বর্নের খানের রিং খোয়েছেন নগরীর ৪ মাইল এলাকার এক মধ্যবয়সী মহিলা। গত ১০দিন পূর্বে ঐ মহিলা কদমতলী থেকে সিএনজিতে করে চার মাইল বাসায় যাওয়ার পথে এই ঘটনা ঘটে।

 

সুত্রে জানাযায়, ঘটনার দিন আসরের আযানের পূর্বমুহুর্তে বাসায় যাওয়ার পথে কদমতলী থেকে সিএনজিতে উঠেন, এসময় সিএনজি চালক তাকে একটি কাগজ হাতে ধরিয়ে দেয়। কিছুক্ষণ দেখার পর তাহার স্বাভাবিক স্ত্রৃতি হারিয়ে নিজে নিজেই চালকের হাতে ১ ভরি ওজনের স্বর্নের রিং তুলেদেন। সিএনজি থেকে নেমে স্বাভাবিক সেন্স ফিরে আসলে তিনি বুঝতে পারেন প্রতারনার শিকার হয়েছেন। এভাবে প্রতিদিন অনেক নীরিহ সহজ সরল মানুষ ও পর্যটকরা প্রতারনার শিকার হলেও পুলিশের কার্যকর কোন ভূমিকা নেই।

 

উল্লেখ্য এর আগে বিভিন্ন অনলাইন মিডিয়া এই প্রতারনার বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ করে।নিন্ম তা দেওয়া হলো:-

সিলেট নগরীর দক্ষিণ সুরমার হুমায়ুন রশীদ চত্ত্বর একটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট।সেই পয়েন্ট দিয়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভিআইপি দূরপাল্লার বাসের যাত্রী বা পর্যটকগন সিলেট শহরে প্রবেশ করে। এই সুযোগটিকে কাজে লাগিয়ে ২০ জনের একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র সিন্ডিকেটের মাধ্যমে হুমায়ূন রশীদ চত্ত্বর-কদমতলী-বাসটার্মিনাল এলাকায় গড়ে তুলেছে নকল সোনার জমজমাট প্রতারণা। তাদের প্রতারণার খপ্পরে পরে বিভিন্ন জেলা থেকে আগত দর্শনার্থী এবং সিলেটের বিভিন্ন প্রান্তের গ্রাম থেকে আসা সহজ-সরল মানুষ ও পর্যটকরা সর্বস্ব হারিয়ে পড়েন বিপাকে। এই প্রতারক চক্রের নেতৃত্ব দিচ্ছে আলমগীর হোসেন ও আনোয়ার গং । সে ২৫ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মোমিন খোলা নিবাসী আশিকুর রহমান আশিক এর কলোনীতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতো বলে বিশ্বস্ত একটি সূত্র জানিয়েছে। তবে সে এখন সেখানে থাকেনা। আনোয়ার লাউয়াই দক্ষিণ সুরমা রায়ের গ্রামের বাসিন্দা।

 

খোঁজ নিয়ে জানা যায় দক্ষিণ সুরমার হুমায়ুন রশীদ চত্ত্বর সংলগ্ন ফুট ওভারব্রিজ, কদমতলী পয়েন্ট ও বাসটার্মিনাল এলাকার আশপাশে তারা ওতপেতে থাকে। তাদের রয়েছে নিজেদের নিয়ন্ত্রিত রিকশা ও সিএনজি। বিশেষ করে গ্রীণলাইন,লন্ডন এক্সপ্রেস ও শ্যমলী পরিবহনের যাত্রীরা তাকে তাদের টার্গেটে। সকাল ০৬.০০ ঘটিকা থেকে রাত ১২.০০ ঘটিকা পর্যন্ত চলে তাদের নকল সোনার ব্যবসা। এরপর তারা তাদের গন্তব্যে চলে যায়।সরেজমিনে গিয়ে একটানা একমাস সকাল ৯.০০ ঘটিকা বিকাল ৫.০০ ঘটিকা পর্যন্ত একটানা অবস্থান করে গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে এই চক্রকে শনাক্ত করা হয়।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যবসায়ী ও পথচারীদের সাথে কথা হলে তারা এই প্রতিবেদককে জানিয়েছেন প্রতারক চক্রটি খুবই শক্তিশালী,তারা স্থানীয় এক প্রভাবশালী আওয়ামীলীগ নেতা ২৫ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আশিকুর রহমান আশিক এর নাম বাঙ্গিয়ে অপরাধ চক্রটি প্রকাশ্যে দিবালোকে পিতলকে সোনা বলে ব্লাকমেইলের মাধ্যমে হাতিয়ে নিচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা। তাদের এই অপরাধ নিবিঘ্নে করতে কিছু সাংবাদিক ও পুলিশের গুটিকয়েক অসাধু কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে চলে তাদের নকল সোনার জমজমাট প্রতারণা। তাই অপরাধ করেও তারা জনসম্মুখে অবাধে চলাফেরা করে।

 

এই নকল সোনার প্রতারণার কৌশল,চক্রটির সদস্যরা রিকশা ও সিএনজি নিয়ে বিলাশবহুল বাসের কাউন্টারের সামনে দাড়িয়ে থাকে।বাস থেকে যাত্রী নামার পর তারা বিভিন্ন পাড়া মহল্লা বন্দর, জিন্দাবাজার, আম্বরখানা, দরগাগেইট, উপশহর ও সোবহানীঘাট নামে ডেকে তাদের গাড়ীতে যাত্রী তুলে। কিছুদূর যাওয়ার পর অপরাধী চক্রের রিকশা চালক বা সিএনজি চালক যাত্রীকে একটি কাগজ দিয়ে বলেন দেখেনতো এখানে কি লিখা আছে,আমি লেখা পড়া জানিনা প্রতারক এ কথা বললে যাত্রী চিঠি পড়ে দেখেন সোনার পরিমাণ ও প্রাপকের ঠিকানা এই কাগজে লিখা,সেখানে সোনা পৌছে দেওয়ার কথা রয়েছে। ততক্ষণে ভোক্তভোগীর স্বাভাবিক সেন্স নষ্ট হয়ে যায়, ফলে নিজ থেকেই ভূক্তভোগী তাহার কাছে থাকা সবকিছু প্রতারকদের দিয়ে দেয়।

 

এ ব্যাপারে এসএমপির দক্ষিণ সুরমা থানার অফিসার ইনচার্জ আনিসুর রহমান এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করে নকল সোনার প্রতারণা বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ফোন রিসিভ না করায় তাহার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।