
আব্দুস শহীদ শাকির |জকিগঞ্জ সিলেট প্রতিনিধি: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সিলেট-৫ (জকিগঞ্জ-কানাইঘাট) আসনে বইছে নির্বাচনী হাওয়া। বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামী ও খেলাফত মজলিসসহ সমমনা দলগুলোর নবগঠিত ‘৮ দলীয় জোট’ থেকে কে পাচ্ছেন চূড়ান্ত মনোনয়ন, তা নিয়ে স্থানীয় রাজনীতির অন্দরমহলে চলছে ব্যাপক জল্পনা-কল্পনা।এই আসনে জোটের মনোনয়ন লড়াইয়ে মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আলোচনায় আছেন দুই প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব— খেলাফত মজলিসের মনোনীত এমপি পদপ্রার্থী, জকিগঞ্জের জনপ্রিয় ইসলামি আলোচক মুফতি আবুল হাসান এবং জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী হাফিজ আনোয়ার হোসেন খান।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মনোনয়ন দৌড়ে মুফতি আবুল হাসান বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন। এর প্রধান কারণ হিসেবে তাঁর সর্বজনীন গ্রহণযোগ্যতাকে দেখা হচ্ছে। স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, মুফতি আবুল হাসান কেবল ইসলামি ঘরানার ভোটই নয়, বরং জোটের বাইরে থাকা বিএনপি, আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, আল ইসলাহ ও এনসিপি সমর্থকদের একটি বড় অংশের ভোট নিজের বাক্সে টানার ক্ষমতা রাখেন। তাঁর ক্লিন ইমেজ এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ তাঁকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।অন্যদিকে, জামায়াত নেতা হাফিজ আনোয়ার হোসেন খান নিজ দলীয় ভোটব্যাংকে শক্তিশালী হলেও সাধারণ ভোটার বা অন্যান্য রাজনৈতিক বলয়ে তাঁর প্রভাব মুফতি আবুল হাসানের তুলনায় সীমিত বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। জোটের বাইরে অন্যান্য ঘরানার ভোটারদের সমর্থন পাওয়ার ক্ষেত্রে তিনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারেন।সিলেট-৫ আসনটি ঐতিহাসিকভাবেই ইসলামি ও ডানপন্থী দলগুলোর জন্য একটি উর্বর ক্ষেত্র। অতীতেও এই আসনে জোটগত রাজনীতির নানা সমীকরণ দেখা গেছে। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ৮ দলীয় জোট এমন একজনকে বেছে নিতে চায়, যিনি সব মহলে গ্রহণযোগ্য এবং নির্বাচনে জয়ী হওয়ার সামর্থ্য রাখেন।জকিগঞ্জ ও কানাইঘাটের সাধারণ ভোটারদের মতে, মুফতি আবুল হাসানের মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা এই মুহূর্তে প্রবল। কারণ নির্বাচনে জয় নিশ্চিত করতে সব ঘরানার ভোট পাওয়া অপরিহার্য, যা তাঁর ক্ষেত্রে অনেক বেশি সহজ হতে পারে।শেষ পর্যন্ত জোটের নীতিনির্ধারকরা কার ওপর আস্থা রাখেন, এখন সেটাই দেখার বিষয়। তবে দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যেই এখন টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে।
Reporter Name 
























