
**ন্যায়বিচারের দাবি, সাংবাদিক সমাজে উদ্বেগ
নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ), প্রতিনিধি: নবীগঞ্জ প্রেসক্লাবের আলোচিত সাবেক সভাপতি ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আশাহীদ আলী আশাকে বহিষ্কার করার ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক সমাজে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রেসক্লাবের অভ্যন্তরীণ অনিয়ম ও হিসাবসংক্রান্ত প্রশ্ন তোলায় তাঁকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
আশাহীদ আলী আশা দীর্ঘদিন নবীগঞ্জ প্রেসক্লাবের বিভিন্ন দায়িত্বশীল পদে নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি জাতীয় দৈনিক বিকাল বার্তা-এর স্টাফ রিপোর্টার, জাতীয় সাংবাদিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের সিলেট বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক এবং বাংলাদেশ পরিবেশ পরিক্রমা মানবাধিকার সাংবাদিক সোসাইটির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২৫ সালের ৩ জুলাই নবীগঞ্জ প্রেসক্লাব ভবন উন্নয়ন প্রকল্পের হিসাব-নিকাশ ও কথিত অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করেন আশাহীদ আলী আশা। ওই ঘটনার পর তাঁকে লক্ষ্য করে সন্ত্রাসী হামলার অভিযোগ ওঠে। তবে এ ঘটনায় এখনো কোনো কার্যকর বিচার বা তদন্তের অগ্রগতি হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে তাঁকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বহিষ্কারের সুনির্দিষ্ট কারণ ও প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় সাংবাদিকরা। তাঁদের দাবি, গঠনতন্ত্র অনুসরণ না করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।এদিকে আরও অভিযোগ উঠেছে, গঠনতন্ত্র সংশোধনের নামে একটি বিতর্কিত কাঠামো তৈরি করে তা নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর স্বার্থে ব্যবহার করা হচ্ছে। এমনকি গঠনতন্ত্র পরিপন্থীভাবে একজন আওয়ামিলীগ নেতা দীর্ঘদিন কারাবন্দি থাকার পরও ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।এ ঘটনায় সাংবাদিক সমাজ মনে করছেন, এটি শুধু একজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নয়; বরং ভিন্নমত ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার ওপর চাপ সৃষ্টি করার একটি দৃষ্টান্ত। তাঁরা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত সাংবাদিকতার স্বাধীনতা ও নৈতিকতার জন্য হুমকিস্বরূপ।
বাংলাদেশ জাতীয় সাংবাদিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান ও জাতীয় দৈনিক বিকাল বার্তা-এর সম্পাদক ও প্রকাশক সাইফুল ইসলাম সাইফুল এক বিবৃতিতে বলেন,
“একজন সৎ ও সাহসী সাংবাদিকের বিরুদ্ধে এমন সিদ্ধান্ত পুরো সাংবাদিক সমাজের জন্য উদ্বেগজনক। ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যতে আরও বড় সংকট তৈরি হতে পারে।” ফ্যাসিস্ট আওয়ামিলীগ সরকারের আমলে ২০২৩ ও ২০২৪ সালে ইলেকশন বাদ দিয়ে সিলেকশন কমিটি গঠন করা হয় এর প্রেক্ষিতে আশাহীদ আলী আশা একাংশের সভাপতি দ্বায়িত্ব পালন করে দীর্ঘ ৩ মাস লড়াই করে হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবের মধ্যস্থতায় সিলেকশন কমিটি বিলুপ্ত করে সাংবাদিক সমাজের গণতান্ত্রিক ভোটের অধিকার ফিরিয়ে এনেছেন।।
স্থানীয় সাংবাদিক নেতারা বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আনার দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, নবীগঞ্জ প্রেসক্লাবের নির্বাচন ও সাংগঠনিক কার্যক্রম এখন আর শুধু অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়; এটি সাংবাদিকতার নৈতিকতা, আইনশৃঙ্খলা ও রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে।
এ বিষয়ে নবীগঞ্জ প্রেসক্লাব কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
Reporter Name 


















