বাংলাদেশ ০৮:০৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মামলা, লিগ্যাল নোটিশ উপেক্ষা করে ভাগাভাগি করে ক্ষমতা বণ্টনের নাটক গঠনতন্ত্র ছিঁড়ে ফেলা হয় প্রকাশ্যে: নবীগঞ্জ প্রেসক্লাব নির্বাচন অবৈধ ঘোষণার দাবি

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৬:১০:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৬৯ Time View

স্টাফ রিপোটার। আদালতে মামলা, অভিযোগ সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে অনুষ্ঠিত হলো বহুল আলোচিত ও তীব্র বিতর্কিত নবীগঞ্জ প্রেসক্লাব নির্বাচন। গঠনতন্ত্রের সুস্পষ্ট বিধান লঙ্ঘন, বেআইনি নির্বাচন কমিশন গঠন, অবৈধ ভোটার তালিকা প্রণয়ন ও গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উপেক্ষা করেই গতকাল (৩০ ডিসেম্বর) এই তথাকথিত নির্বাচন সম্পন্ন করা হয়। এতে করে প্রকৃত ও পেশাদার সাংবাদিক সমাজে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে এবং পুরো নির্বাচনের বৈধতা এখন প্রশ্নবিদ্ধ।

চলমান মামলা ও উত্থাপিত অভিযোগগুলো নিষ্পত্তি না করেই পূর্বপরিকল্পিতভাবে গঠিত একটি পক্ষপাতদুষ্ট নির্বাচন কমিশন তড়িঘড়ি করে এই বিতর্কিত নির্বাচন আয়োজন করে, যা আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়া ও আইনের শাসনের প্রতি চরম অবমাননার শামিল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কথিত এ নির্বাচনে সভাপতি পদে দুই প্রার্থী এমএ বাছিত ও এসআর চৌধুরী সেলিম সমান ২১ ভোট করে পান। একইভাবে কোষাধ্যক্ষ পদেও দুই প্রার্থী শাহরিয়া আহমেদ শাওন ও সাগর আহমেদ সমান ২১ ভোট লাভ করেন। অথচ গঠনতন্ত্রে সমান ভোটের ক্ষেত্রে পুনর্র্নিবাচনের সুস্পষ্ট বিধান থাকা সত্ত্বেও তা উপেক্ষা করে ‘সমঝোতা’র নামে দুই সভাপতিকে ছয় মাস করে দায়িত্ব দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্ত গঠনতন্ত্রবিরোধী, আইনগতভাবে অগ্রহণযোগ্য এবং প্রেসক্লাবের ইতিহাসে নজিরবিহীন বলেই অভিযোগ উঠেছে।

উল্লেখ্য, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এর আগেই গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন, বেআইনি নির্বাচন কমিশন গঠন, অবৈধ ভোটার তালিকা প্রণয়ন এবং সম্ভাব্য সহিংসতার আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে নির্বাচন বাতিলের দাবিতে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেন নবীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও নির্বাহী সদস্য সাংবাদিক আশাহীদ আলী আশা। তিনি অভিযোগ করেন, অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় একটি প্রভাবশালী মহল পরিকল্পিতভাবে তাকে কোণঠাসা করেছে এবং গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করে বারবার বহিষ্কার করা হয়েছে। এসব বিষয়ে একটি মামলা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে এবং জেলা প্রশাসকের কাছেও লিখিত অভিযোগ দাখিল করা আছে।

আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, গঠনতন্ত্রের বাইরে গিয়ে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্ত করে অবৈধ ভোটার তালিকা তৈরি করা হয়েছে; নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রভাব, বিদেশে অবস্থানরত ও কারাবন্দি ব্যক্তিদের ভোটার হিসেবে অন্তর্ভুক্তির অভিযোগও উত্থাপন করা হয়েছে। এসব গুরুতর অনিয়মের বিরুদ্ধে ১৫ ডিসেম্বর লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ রহস্যজনকভাবে নীরব থাকে। আশাহীদ আলী আশা আরও অভিযোগ করেন, তার ওপর সংঘটিত হামলার বিচার আজও হয়নি; বরং আপোষের মাধ্যমে অভিযুক্তদের রক্ষা করা হয়েছে।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, গঠনতন্ত্রের ০৫ ধারা (ঝ) অনুযায়ী সমান ভোটের ক্ষেত্রে একই দিনে পুনরায় নির্বাচন করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে ৬+৬ মাসের একটি ‘মনগড়া’ ও বেআইনি সমাধান চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন চলাকালে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, সুশীল সমাজ বা রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের কোনো দৃশ্যমান উপস্থিতিও ছিল না, যা পুরো প্রক্রিয়াকে আরও সন্দেহজনক ও প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে।

ফলে আদালতে মামলা চলমান থাকা অবস্থায় অনুষ্ঠিত এই বিতর্কিত ও তথাকথিত নির্বাচন নবীগঞ্জ প্রেসক্লাবকে এখন গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন, অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা ও স্বচ্ছতার চরম সংকটের প্রতীকে পরিণত করেছে—যার দায় কোনোভাবেই এড়াতে পারছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

jogo hosterbd

Popular Post
error: Content is protected !!

মামলা, লিগ্যাল নোটিশ উপেক্ষা করে ভাগাভাগি করে ক্ষমতা বণ্টনের নাটক গঠনতন্ত্র ছিঁড়ে ফেলা হয় প্রকাশ্যে: নবীগঞ্জ প্রেসক্লাব নির্বাচন অবৈধ ঘোষণার দাবি

Update Time : ০৬:১০:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫

স্টাফ রিপোটার। আদালতে মামলা, অভিযোগ সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে অনুষ্ঠিত হলো বহুল আলোচিত ও তীব্র বিতর্কিত নবীগঞ্জ প্রেসক্লাব নির্বাচন। গঠনতন্ত্রের সুস্পষ্ট বিধান লঙ্ঘন, বেআইনি নির্বাচন কমিশন গঠন, অবৈধ ভোটার তালিকা প্রণয়ন ও গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উপেক্ষা করেই গতকাল (৩০ ডিসেম্বর) এই তথাকথিত নির্বাচন সম্পন্ন করা হয়। এতে করে প্রকৃত ও পেশাদার সাংবাদিক সমাজে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে এবং পুরো নির্বাচনের বৈধতা এখন প্রশ্নবিদ্ধ।

চলমান মামলা ও উত্থাপিত অভিযোগগুলো নিষ্পত্তি না করেই পূর্বপরিকল্পিতভাবে গঠিত একটি পক্ষপাতদুষ্ট নির্বাচন কমিশন তড়িঘড়ি করে এই বিতর্কিত নির্বাচন আয়োজন করে, যা আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়া ও আইনের শাসনের প্রতি চরম অবমাননার শামিল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কথিত এ নির্বাচনে সভাপতি পদে দুই প্রার্থী এমএ বাছিত ও এসআর চৌধুরী সেলিম সমান ২১ ভোট করে পান। একইভাবে কোষাধ্যক্ষ পদেও দুই প্রার্থী শাহরিয়া আহমেদ শাওন ও সাগর আহমেদ সমান ২১ ভোট লাভ করেন। অথচ গঠনতন্ত্রে সমান ভোটের ক্ষেত্রে পুনর্র্নিবাচনের সুস্পষ্ট বিধান থাকা সত্ত্বেও তা উপেক্ষা করে ‘সমঝোতা’র নামে দুই সভাপতিকে ছয় মাস করে দায়িত্ব দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্ত গঠনতন্ত্রবিরোধী, আইনগতভাবে অগ্রহণযোগ্য এবং প্রেসক্লাবের ইতিহাসে নজিরবিহীন বলেই অভিযোগ উঠেছে।

উল্লেখ্য, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এর আগেই গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন, বেআইনি নির্বাচন কমিশন গঠন, অবৈধ ভোটার তালিকা প্রণয়ন এবং সম্ভাব্য সহিংসতার আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে নির্বাচন বাতিলের দাবিতে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেন নবীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও নির্বাহী সদস্য সাংবাদিক আশাহীদ আলী আশা। তিনি অভিযোগ করেন, অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় একটি প্রভাবশালী মহল পরিকল্পিতভাবে তাকে কোণঠাসা করেছে এবং গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করে বারবার বহিষ্কার করা হয়েছে। এসব বিষয়ে একটি মামলা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে এবং জেলা প্রশাসকের কাছেও লিখিত অভিযোগ দাখিল করা আছে।

আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, গঠনতন্ত্রের বাইরে গিয়ে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্ত করে অবৈধ ভোটার তালিকা তৈরি করা হয়েছে; নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রভাব, বিদেশে অবস্থানরত ও কারাবন্দি ব্যক্তিদের ভোটার হিসেবে অন্তর্ভুক্তির অভিযোগও উত্থাপন করা হয়েছে। এসব গুরুতর অনিয়মের বিরুদ্ধে ১৫ ডিসেম্বর লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ রহস্যজনকভাবে নীরব থাকে। আশাহীদ আলী আশা আরও অভিযোগ করেন, তার ওপর সংঘটিত হামলার বিচার আজও হয়নি; বরং আপোষের মাধ্যমে অভিযুক্তদের রক্ষা করা হয়েছে।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, গঠনতন্ত্রের ০৫ ধারা (ঝ) অনুযায়ী সমান ভোটের ক্ষেত্রে একই দিনে পুনরায় নির্বাচন করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে ৬+৬ মাসের একটি ‘মনগড়া’ ও বেআইনি সমাধান চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন চলাকালে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, সুশীল সমাজ বা রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের কোনো দৃশ্যমান উপস্থিতিও ছিল না, যা পুরো প্রক্রিয়াকে আরও সন্দেহজনক ও প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে।

ফলে আদালতে মামলা চলমান থাকা অবস্থায় অনুষ্ঠিত এই বিতর্কিত ও তথাকথিত নির্বাচন নবীগঞ্জ প্রেসক্লাবকে এখন গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন, অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা ও স্বচ্ছতার চরম সংকটের প্রতীকে পরিণত করেছে—যার দায় কোনোভাবেই এড়াতে পারছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।