
**নির্বাচনী মাঠে হিসাব বদলের ইঙ্গিত, চট্টগ্রাম-১২ আসনে নতুন মেরুকরণ
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) সংসদীয় আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ডা. শাখাওয়াত হোসাইন (হিরু)’র মনোনয়ন দাখিল ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন হিসাব-নিকাশ শুরু হয়েছে। সোমবার দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের বহর নিয়ে পটিয়া উপজেলা নির্বাচন অফিসে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন তিনি। তার উপস্থিতি ঘিরে নির্বাচন অফিস এলাকায় উত্তেজনা ও কৌতূহল তৈরি হয়।
মনোনয়ন দাখিলকালে তার সঙ্গে ছিলেন জরি আহমদ, জহির আহমদ, ফারুকুজ্জামান, মাসুদুজ্জামান, সায়েম মাহমুদ, রাফিকুল ইসলাম ছাহীম, মোহাম্মদ জাকারিয়া সামির, তরিকুল ইসলাম সাদমান, মিসবাউর রহমান রাফসান, ইমন, মিরাজ, সালমান ফারুক শোয়েব, আবদুল খালেক, কুতুবউদ্দিন, দিদারুল ইসলাম, রাসেলসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রভাবশালী ব্যক্তিরা।
মনোনয়ন জমা শেষে সাংবাদিকদের সামনে ডা. শাখাওয়াত হোসাইন (হিরু) সরাসরি রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করেন। তিনি বলেন, “পটিয়ার মানুষ শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, কাজের হিসাব চায়।” তিনি দাবি করেন, সরকারি ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অনুদান এনে তিনি পটিয়ায় মসজিদ, মন্দির ও গীর্জায় সহযোগিতা করেছেন। পাশাপাশি সরকারি ত্রাণ তহবিল ও জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদের মাধ্যমে অসহায় ও জটিল রোগে আক্রান্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন।
লবণ শিল্প ইস্যুতে সরাসরি আক্রমণ
ডা. শাখাওয়াত হোসাইন অভিযোগ করেন, পটিয়ার অন্যতম অর্থনৈতিক খাত লবণ শিল্প দীর্ঘদিন ধরে অবহেলার শিকার। ধলঘাট ইউনিয়নের চন্দ্রকলা সেতু অপসারণ না হওয়ায় ২০১১ সাল থেকে শ্রমজীবী মানুষ চরম ভোগান্তির মধ্যে রয়েছে। তার ভাষায়, “এত বছর যারা ক্ষমতায় ছিল, তারা লবণচাষিদের কষ্ট দেখেও নীরব থেকেছে।”
তিনি জানান, চলতি সপ্তাহে কাজ শেষ হলে বোটের মাধ্যমে লবণের কাঁচামাল সরাসরি পটিয়ার কারখানায় পৌঁছানো সম্ভব হবে। এতে বাঁশখালী, মহেশখালী ও কুতুবদিয়া থেকে ট্রাকে কাঁচামাল পরিবহন কমবে এবং আরাকান সড়কে লবণের পানি জমে যে দুর্ঘটনা হচ্ছে, তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে বলে তিনি দাবি করেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষণ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ডা. শাখাওয়াত হোসাইন (হিরু)’র স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে নামা চট্টগ্রাম-১২ আসনের নির্বাচনী সমীকরণে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে দলীয় রাজনীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা এই আসনে এবার উন্নয়ন বনাম অবহেলা ইস্যু সামনে আসছে।
বিশেষ করে লবণ শিল্প, শ্রমজীবী মানুষের জীবন-জীবিকা এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও সমাজকল্যাণে অবদান—এই তিনটি ইস্যুকে সামনে এনে তিনি সরাসরি প্রচলিত রাজনৈতিক নেতৃত্বের ব্যর্থতা তুলে ধরার চেষ্টা করছেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, যদি স্বতন্ত্র ভোট একত্রিত হয়, তবে এই আসনে ক্ষমতাসীন ও বিরোধী উভয় শিবিরই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। ইতোমধ্যে তার মনোনয়ন দাখিলকে কেন্দ্র করে পটিয়ার রাজনৈতিক মাঠে নতুন মেরুকরণ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
মনোনয়ন দাখিলের দিন নির্বাচন অফিস এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়, যা আসন্ন নির্বাচনে পটিয়ায় উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতিরই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
Reporter Name 






















