বাংলাদেশ ০৯:১৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় সিলেটে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:৩৬:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৮৫ Time View

বিকাল বার্তা প্রতিবেদকঃ শুক্রবার ২ জানুয়ারি জুমার নামাজ শেষে সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপির উদ্যোগে নগরীর ঐতিহাসিক কোর্ট পয়েন্টে এ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এতে বিএনপির নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক সাধারণ মুসল্লি অংশগ্রহণ করেন।

 

দোয়া মাহফিল পরিচালনা করেন হযরত শাহজালাল (রহ.) দরগাহ জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব হযরত মাওলানা হাফিজ আসজাদ আহমেদ। দোয়ার পূর্বে সংক্ষিপ্ত আলোচনায় তিনি বেগম খালেদা জিয়ার কর্মজীবন ও ধর্মীয় অবদানের কথা স্মরণ করে বলেন, ইসলাম ও আলেম সমাজের প্রতি তার দরদ ও ভালোবাসা ছিল অনন্য। বাংলাদেশের রাজনীতিতে ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতিফলন এবং আলেম সমাজের সঙ্গে সুদৃঢ় সম্পর্ক গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তিনি একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

 

তিনি বলেন, ব্যক্তিগত জীবনে ধর্মপ্রাণ হওয়ার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয়ভাবেও ইসলামের প্রসার ও বিকাশে বেগম খালেদা জিয়া কার্যকর ভূমিকা রেখেছেন। ধর্মীয় চেতনা ও জাতীয়তাবাদের সমন্বয়ে যে রাজনৈতিক ধারা তিনি অনুসরণ করেছিলেন, তাতে আলেম সমাজের সঙ্গে তার সম্পর্ক একটি শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে। তার শাসনামলে দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম-উলামাদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত সম্মানজনক এবং গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইস্যুতে তিনি নিয়মিত তাদের পরামর্শ গ্রহণ করতেন।

 

আলোচনায় আরও বলা হয়, দেশের দ্বীনি শিক্ষা বিশেষ করে মাদরাসা শিক্ষা উন্নয়নে মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার অবদান অনস্বীকার্য। মাদরাসা শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে তিনি বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করেন। একই সঙ্গে অবহেলিত ও বঞ্চিত স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসা ও বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে সমপর্যায়ের ঘোষণা দিয়ে বেতন-ভাতা চালু করেন।

 

বক্তারা স্মৃতিচারণ করে বলেন, বেগম খালেদা জিয়া আলেম সমাজকে ভালোবাসতেন এবং আজ আলেম সমাজ তার জন্য দোয়া করে সেই ভালোবাসার প্রতিদান দিচ্ছে। তিনি ছিলেন ইসলামের এক অকৃত্রিম সেবক। তার সরকারের সময়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে শক্তিশালী করা, মসজিদ-মাদরাসা সংস্কার, হজ ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়নসহ বহু প্রশংসনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। মুসলিম উম্মাহর ঐক্য রক্ষায় আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও তিনি ছিলেন সোচ্চার।

 

দোয়া মাহফিলে দেশনেত্রীর রুহের মাগফিরাত কামনার পাশাপাশি দেশ ও জাতির কল্যাণ, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং নির্যাতিত নেতাকর্মীদের জন্য বিশেষ দোয়া করা হয়।

 

দোয়া মাহফিলের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন সিলেট আম্বরখানা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব মুফতি মাওলানা সালেহ আহমদ।

 

দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সিলেট-১ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, সিলেট-৩ আসনের মনোনীত প্রার্থী এম এ মালিক, সিলেট-৪ আসনের মনোনীত প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী, বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী, সহ-ক্ষুদ্র ঋণ বিষয়ক সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল রাজ্জাক, জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী, মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সাধারণ সম্পাদক মো. ইমদাদ হোসেন চৌধুরীসহ জেলা ও মহানগর বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ এবং বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

jogo hosterbd

Popular Post
error: Content is protected !!

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় সিলেটে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

Update Time : ০২:৩৬:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ জানুয়ারী ২০২৬

বিকাল বার্তা প্রতিবেদকঃ শুক্রবার ২ জানুয়ারি জুমার নামাজ শেষে সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপির উদ্যোগে নগরীর ঐতিহাসিক কোর্ট পয়েন্টে এ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এতে বিএনপির নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক সাধারণ মুসল্লি অংশগ্রহণ করেন।

 

দোয়া মাহফিল পরিচালনা করেন হযরত শাহজালাল (রহ.) দরগাহ জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব হযরত মাওলানা হাফিজ আসজাদ আহমেদ। দোয়ার পূর্বে সংক্ষিপ্ত আলোচনায় তিনি বেগম খালেদা জিয়ার কর্মজীবন ও ধর্মীয় অবদানের কথা স্মরণ করে বলেন, ইসলাম ও আলেম সমাজের প্রতি তার দরদ ও ভালোবাসা ছিল অনন্য। বাংলাদেশের রাজনীতিতে ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতিফলন এবং আলেম সমাজের সঙ্গে সুদৃঢ় সম্পর্ক গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তিনি একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

 

তিনি বলেন, ব্যক্তিগত জীবনে ধর্মপ্রাণ হওয়ার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয়ভাবেও ইসলামের প্রসার ও বিকাশে বেগম খালেদা জিয়া কার্যকর ভূমিকা রেখেছেন। ধর্মীয় চেতনা ও জাতীয়তাবাদের সমন্বয়ে যে রাজনৈতিক ধারা তিনি অনুসরণ করেছিলেন, তাতে আলেম সমাজের সঙ্গে তার সম্পর্ক একটি শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে। তার শাসনামলে দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম-উলামাদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত সম্মানজনক এবং গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইস্যুতে তিনি নিয়মিত তাদের পরামর্শ গ্রহণ করতেন।

 

আলোচনায় আরও বলা হয়, দেশের দ্বীনি শিক্ষা বিশেষ করে মাদরাসা শিক্ষা উন্নয়নে মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার অবদান অনস্বীকার্য। মাদরাসা শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে তিনি বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করেন। একই সঙ্গে অবহেলিত ও বঞ্চিত স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসা ও বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে সমপর্যায়ের ঘোষণা দিয়ে বেতন-ভাতা চালু করেন।

 

বক্তারা স্মৃতিচারণ করে বলেন, বেগম খালেদা জিয়া আলেম সমাজকে ভালোবাসতেন এবং আজ আলেম সমাজ তার জন্য দোয়া করে সেই ভালোবাসার প্রতিদান দিচ্ছে। তিনি ছিলেন ইসলামের এক অকৃত্রিম সেবক। তার সরকারের সময়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে শক্তিশালী করা, মসজিদ-মাদরাসা সংস্কার, হজ ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়নসহ বহু প্রশংসনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। মুসলিম উম্মাহর ঐক্য রক্ষায় আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও তিনি ছিলেন সোচ্চার।

 

দোয়া মাহফিলে দেশনেত্রীর রুহের মাগফিরাত কামনার পাশাপাশি দেশ ও জাতির কল্যাণ, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং নির্যাতিত নেতাকর্মীদের জন্য বিশেষ দোয়া করা হয়।

 

দোয়া মাহফিলের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন সিলেট আম্বরখানা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব মুফতি মাওলানা সালেহ আহমদ।

 

দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সিলেট-১ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, সিলেট-৩ আসনের মনোনীত প্রার্থী এম এ মালিক, সিলেট-৪ আসনের মনোনীত প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী, বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী, সহ-ক্ষুদ্র ঋণ বিষয়ক সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল রাজ্জাক, জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী, মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সাধারণ সম্পাদক মো. ইমদাদ হোসেন চৌধুরীসহ জেলা ও মহানগর বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ এবং বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী।