
সম্পাদকীয়
আমাদের দেশের রাজনীতি আজ আর আদর্শ, নীতি কিংবা জনকল্যাণের পথে নেই। যে রাজনীতি একদিন ছিল মানুষের অধিকার, ন্যায়বিচার ও গণতন্ত্রের সংগ্রাম আজ তা রূপ নিয়েছে নির্লজ্জ পকেটনীতিতে। রাজনীতির ময়দানে আদর্শের বদলে এখন দাপট দেখাচ্ছে অর্থ, ক্ষমতা ও ব্যক্তিগত স্বার্থ।
আজকের রাজনীতি মানেই কোটি কোটি টাকার ব্যাংক ব্যালেন্স, আলিশান বাড়ি-গাড়ি, বিদেশে অর্থ পাচার। স্ত্রী-সন্তান ও আত্মীয়স্বজনের নামে গোপনে গড়ে তোলা হয় পাহাড়সম সম্পদ। জনগণের করের টাকা, রাষ্ট্রের সম্পদ—সবই লুটপাটের পণ্যে পরিণত হয়েছে। ক্ষমতায় যাওয়া আর ক্ষমতায় টিকে থাকাই যেন একমাত্র লক্ষ্য; জনগণের কথা কেবল নির্বাচনের সময়ই উচ্চারিত হয়।
এই পকেটনীতির সবচেয়ে ভয়াবহ দিক হলো—এটি রাজনীতিকে অপরাধের সঙ্গে একাকার করেছে। চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, দখলবাজি, টেন্ডারবাজি—সবই এখন রাজনৈতিক সংস্কৃতির অংশ। আদর্শবান, ত্যাগী কর্মীরা কোণঠাসা; সামনে আসে অর্থশালী ও প্রভাবশালীরা। ফলে রাজনীতি জনগণের সেবা নয়, হয়ে উঠেছে ব্যক্তিগত ব্যবসা।
প্রশ্ন হলো এই রাজনীতি কাদের জন্য? রাষ্ট্রের জন্য, না কয়েকজন সুবিধাভোগীর পকেট ভরার জন্য? যখন একজন রাজনীতিকের সম্পদ বেড়ে যায় অস্বাভাবিকভাবে, অথচ সাধারণ মানুষের জীবনমান নেমে যায় তখন বুঝতে বাকি থাকে না, রাজনীতি পথ হারিয়েছে।
এই অবস্থা থেকে উত্তরণের একমাত্র পথ হলো—জবাবদিহি, স্বচ্ছতা ও নৈতিকতার রাজনীতি। অবৈধ সম্পদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা, অর্থ পাচার রোধ, দলীয় গণতন্ত্র ও ত্যাগী নেতাদের সামনে আনা—এগুলো ছাড়া রাজনীতির বিশ্বাসযোগ্যতা ফিরবে না। নইলে ইতিহাস ক্ষমা করবে না, আর জনগণও নয়।
রাজনীতি যদি আবার মানুষের না হয়, তবে তা কেবল পকেটনীতির কুৎসিত নামেই চিহ্নিত হয়ে থাকবে।
মোঃ সাইফুল ইসলাম
সম্পাদক ও চেয়ারম্যান
জাতীয় সাংবাদিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন
কেন্দ্রীয় কমিটি, ঢাকা
Reporter Name 






















