
ঢাকার রাজপথে প্রকাশ্য হত্যাকাণ্ড এখন আর বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় এটি এক ধরনের নিয়মে পরিণত হয়েছে। মুসাব্বির হত্যাকাণ্ডের সিসিটিভি ফুটেজে ঘাতকদের মুখ ধরা পড়লেও গ্রেপ্তার নেই। এই চিত্র নতুন নয়। অতীতেও রাজধানীর শ্যামবাজারে আব্দুর রহমানকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল। সেই মামলার বিচার আজও ঢিলেঢালা, একাধিক আসামি এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে।
সবচেয়ে ভয়াবহ দিক হলো সূত্রাপুর থানা পুলিশ বারবার মূল আসামি খুনি নয়নকে রিমান্ডে আনলেও তিন দফা রিমান্ড শেষ করেও হত্যার মূল রহস্য উদঘাটনে ব্যর্থ হয়েছে। বরং পুলিশের হেফাজতেই খুনি নয়ন প্রকাশ্যে হুমকি দিয়েছে মামলার বাদীকে।
“বের হয়ে আসলে তোমাকেও মারবো।”
প্রশ্ন হলো, থানার ভেতরে দাঁড়িয়ে একজন খুনি যদি এমন হুমকি দিতে পারে, তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?
রিমান্ড কি তদন্তের জন্য, নাকি খুনিকে ‘দাওয়াত করে’ এনে আবার ছেড়ে দেওয়ার আনুষ্ঠানিকতা? কেন বারবার রিমান্ডে এনে কার্যকর জবানবন্দি নেওয়া যাচ্ছে না? কেন পলাতক আসামিরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকে? এসব প্রশ্নের জবাব আজ জনগণ জানতে চায়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যদি কেবল রিমান্ডের সংখ্যা বাড়িয়েই দায়িত্ব শেষ মনে করে, যদি খুনির হুমকির পরও কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা না নেয় তবে এটি শুধু ব্যর্থতা নয়, এটি ভয়ংকর উদাসীনতা। এই উদাসীনতাই অপরাধীদের সাহস জোগায়, আর নাগরিকদের ঠেলে দেয় চরম অনিশ্চয়তার দিকে।
আজ আব্দুর রহমান, আজ মুসাব্বির কাল তালিকায় কে যুক্ত হবে? বিচারহীনতার সংস্কৃতি চলতে থাকলে রাজধানী আর রাজধানী থাকবে না, পরিণত হবে খুনিদের নিরাপদ আশ্রয়ে।
রাষ্ট্রকে এখনই সিদ্ধান্ত নিতে হবে সে নাগরিকের পাশে দাঁড়াবে, নাকি খুনিদের নীরব প্রশ্রয়দাতা হয়ে থাকবে? কারণ খুনি নয়ন যখন থানার ভেতর দাঁড়িয়ে হুমকি দেয়, তখন বোঝা যায় আইন নয়, ভয়ই এখন শাসন করছে।
মোঃ সাইফুল ইসলাম
সম্পাদক ও চেয়ারম্যান
জাতীয় সাংবাদিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন
Reporter Name 






















