বাংলাদেশ ০৮:২৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নবীগঞ্জের দেবপাড়ায় সরকারি সড়কের ওপর আইন অমান্য ও অনুমতি ছাড়াই অবৈধ কালভার্ট নির্মাণ!

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:১৪:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১১০ Time View

স্টাফ রিপোর্টার: নবীগঞ্জ উপজেলার ১০নং দেবপাড়া ইউনিয়নের ঝিটকিয়া বটের তল এলাকায় কাংলাখাই সরকারি সড়কের ওপর কোনো ধরনের প্রশাসনিক বা ইউনিয়ন পরিষদের অনুমতি ছাড়াই অবৈধভাবে কালভার্ট ও ড্রেইন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, একটি প্রভাবশালী চক্র নিজস্ব স্বার্থে সরকারি সড়কের কাঠামো পরিবর্তন করে এই নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করেছে।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঝিটকিয়া বটের তল এলাকায় ওমানপ্রবাসী মোস্তাকিম মিয়া এবং আওয়ামী লীগের কয়েকজন সক্রিয় কর্মীর সমন্বয়ে একটি সিন্ডিকেট সরকারি রাস্তার ওপর কালভার্ট ও ড্রেইন নির্মাণ করে। এতে করে সড়কটি মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। নির্মিত কালভার্টটি রাস্তার মূল মাটি থেকে প্রায় ৬ ইঞ্চি উঁচুতে উঠে গেছে, যা সড়কের স্বাভাবিক পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাকে ব্যাহত করছে।

 

এলাকাবাসী বাধা দিলে এবং ৯৯৯ নম্বরে কল করে বিষয়টি জানালে নবীগঞ্জ থানার গোপলার বাজার ফাঁড়ির এসআই হাসিবুল ইসলাম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে তিনি চলে যাওয়ার পর পুনরায় নির্মাণকাজ শুরু হয়। বর্তমানে কালভার্ট নির্মাণ সম্পূর্ণ করা হয়েছে।

 

গত ৮ জানুয়ারি ২০২৬ ইং বৃহস্পতিবার বিকেলে সাংবাদিক ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেন। এ সময় নির্মাণকাজের সঙ্গে জড়িত মুতি মিয়ার ছেলে মোস্তাকিম মিয়ার সঙ্গে কথা হলে তাকে উপজেলা প্রশাসন বা ইউনিয়ন পরিষদের অনুমতি বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হয়। তিনি দাবি করেন, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, ওয়ার্ড মেম্বার সালাম সাহেব এবং জেলা প্রশাসকের অনুমতি রয়েছে। তবে লিখিত অনুমতির কপি দেখতে চাইলে তিনি তা দেখাতে অনীহা প্রকাশ করেন।

 

এ সময় সাংবাদিককে বিভিন্নভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হলেও তা ব্যর্থ হয়। পরে স্থানীয় আওয়ামী লীগর ওযার্ড সভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল আজিজের ভাই, আওয়ামী লীগের সক্রিয় কর্মী আব্দুল আহাদ ঘটনাস্থলে এসে সাংবাদিকের কাজে বাধা প্রদান ও উত্তেজনা সৃষ্টি ও মব করার চেষ্টা করেন।

 

ঘটনার বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান শাহ রিয়াজ নাদির সুমনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, এ ধরনের কোনো অনুমতি ইউনিয়ন পরিষদ থেকে দেওয়া হয়নি এবং বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত নন।

 

এদিকে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। গোপলার বাজার ফাঁড়ির এসআই হাসিবুল ইসলাম বলেন, ৯৯৯-এর কল পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি এলাকাবাসীর কথা শুনে বলেন এলাকার জনপ্রতিনিধি আছে আছে তাদের সাথে যোগাযোগ করেন যোগাযোগ করে আপনারা কাজ পরবর্তীতে কাজ করতে পারেন। কিন্তু সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাস্তব চিত্র তার বক্তব্যের সঙ্গে সম্পূর্ণ ভিন্ন। স্থানীয়দের আশঙ্কা, বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানি জমে সড়ক ও কালভার্টের মাঝখানে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হবে, যা সরকারি রাস্তা ও আশপাশের এলাকার জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।

 

এ বিষয়ে এলাকাবাসী দ্রুত প্রশাসনিক তদন্ত, অবৈধ কালভার্ট অপসারণ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

jogo hosterbd

Popular Post
error: Content is protected !!

নবীগঞ্জের দেবপাড়ায় সরকারি সড়কের ওপর আইন অমান্য ও অনুমতি ছাড়াই অবৈধ কালভার্ট নির্মাণ!

Update Time : ০১:১৪:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার: নবীগঞ্জ উপজেলার ১০নং দেবপাড়া ইউনিয়নের ঝিটকিয়া বটের তল এলাকায় কাংলাখাই সরকারি সড়কের ওপর কোনো ধরনের প্রশাসনিক বা ইউনিয়ন পরিষদের অনুমতি ছাড়াই অবৈধভাবে কালভার্ট ও ড্রেইন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, একটি প্রভাবশালী চক্র নিজস্ব স্বার্থে সরকারি সড়কের কাঠামো পরিবর্তন করে এই নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করেছে।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঝিটকিয়া বটের তল এলাকায় ওমানপ্রবাসী মোস্তাকিম মিয়া এবং আওয়ামী লীগের কয়েকজন সক্রিয় কর্মীর সমন্বয়ে একটি সিন্ডিকেট সরকারি রাস্তার ওপর কালভার্ট ও ড্রেইন নির্মাণ করে। এতে করে সড়কটি মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। নির্মিত কালভার্টটি রাস্তার মূল মাটি থেকে প্রায় ৬ ইঞ্চি উঁচুতে উঠে গেছে, যা সড়কের স্বাভাবিক পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাকে ব্যাহত করছে।

 

এলাকাবাসী বাধা দিলে এবং ৯৯৯ নম্বরে কল করে বিষয়টি জানালে নবীগঞ্জ থানার গোপলার বাজার ফাঁড়ির এসআই হাসিবুল ইসলাম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে তিনি চলে যাওয়ার পর পুনরায় নির্মাণকাজ শুরু হয়। বর্তমানে কালভার্ট নির্মাণ সম্পূর্ণ করা হয়েছে।

 

গত ৮ জানুয়ারি ২০২৬ ইং বৃহস্পতিবার বিকেলে সাংবাদিক ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেন। এ সময় নির্মাণকাজের সঙ্গে জড়িত মুতি মিয়ার ছেলে মোস্তাকিম মিয়ার সঙ্গে কথা হলে তাকে উপজেলা প্রশাসন বা ইউনিয়ন পরিষদের অনুমতি বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হয়। তিনি দাবি করেন, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, ওয়ার্ড মেম্বার সালাম সাহেব এবং জেলা প্রশাসকের অনুমতি রয়েছে। তবে লিখিত অনুমতির কপি দেখতে চাইলে তিনি তা দেখাতে অনীহা প্রকাশ করেন।

 

এ সময় সাংবাদিককে বিভিন্নভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হলেও তা ব্যর্থ হয়। পরে স্থানীয় আওয়ামী লীগর ওযার্ড সভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল আজিজের ভাই, আওয়ামী লীগের সক্রিয় কর্মী আব্দুল আহাদ ঘটনাস্থলে এসে সাংবাদিকের কাজে বাধা প্রদান ও উত্তেজনা সৃষ্টি ও মব করার চেষ্টা করেন।

 

ঘটনার বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান শাহ রিয়াজ নাদির সুমনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, এ ধরনের কোনো অনুমতি ইউনিয়ন পরিষদ থেকে দেওয়া হয়নি এবং বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত নন।

 

এদিকে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। গোপলার বাজার ফাঁড়ির এসআই হাসিবুল ইসলাম বলেন, ৯৯৯-এর কল পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি এলাকাবাসীর কথা শুনে বলেন এলাকার জনপ্রতিনিধি আছে আছে তাদের সাথে যোগাযোগ করেন যোগাযোগ করে আপনারা কাজ পরবর্তীতে কাজ করতে পারেন। কিন্তু সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাস্তব চিত্র তার বক্তব্যের সঙ্গে সম্পূর্ণ ভিন্ন। স্থানীয়দের আশঙ্কা, বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানি জমে সড়ক ও কালভার্টের মাঝখানে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হবে, যা সরকারি রাস্তা ও আশপাশের এলাকার জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।

 

এ বিষয়ে এলাকাবাসী দ্রুত প্রশাসনিক তদন্ত, অবৈধ কালভার্ট অপসারণ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।