বাংলাদেশ ০৯:২০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গণমাধ্যম কর্মী যদি দালাল হয় জাতি ও রাষ্ট্র কার কাছে আশ্রয় নিবেন?

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:৪৯:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১৪৩ Time View

শোকসভায় শক্তি প্রদর্শন: সাংবাদিকতার মর্যাদায় নগ্ন হস্তক্ষেপ প্রয়াত সাবেক বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে আয়োজিত নাগরিক শোকসভা ছিল শ্রদ্ধা, সংযম ও গণতান্ত্রিক সহাবস্থানের প্রতীক হওয়ার কথা। অথচ আজ শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় সেই শোকসভাই রূপ নেয় বিশৃঙ্খলা ও ক্ষমতার দম্ভ প্রদর্শনের মঞ্চে। লাইভ সম্প্রচারের মধ্যেই আয়োজক কমিটির সমন্বয়ক সালেহ উদ্দিনের অশালীন ও দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, যা শুধু অনুষ্ঠানের মর্যাদাই নয় সাংবাদিকতার স্বাধীনতাকেও নগ্নভাবে লাঞ্ছিত করেছে।

 

 

প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, সালেহ উদ্দিন প্রকাশ্য মঞ্চেই সাংবাদিকদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন এবং অন্তত তিনজন সাংবাদিককে শারীরিকভাবে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। এটি কোনো “ভুল বোঝাবুঝি” নয়, এটি ছিল পরিকল্পিত শক্তি প্রদর্শন এবং সংবাদকর্মীদের পেশাগত দায়িত্বে সরাসরি হস্তক্ষেপ। একটি শোকসভায় এমন আচরণ শুধু অগ্রহণযোগ্য নয় এটি নিন্দনীয় ও ঘৃণ্য।

 

 

গণমাধ্যম কোনো দলীয় কর্মী নয়, কারও ব্যক্তিগত নিরাপত্তার ঝামেলাও নয়। সাংবাদিকরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন জনগণের চোখ ও কণ্ঠ হয়ে সত্য তুলে ধরতে। সেই দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া মানে জনগণের তথ্য জানার অধিকারকে পদদলিত করা। যারা সাংবাদিকের গায়ে হাত তোলার সাহস দেখায়, তারা মূলত গণতন্ত্রের গায়েই হাত তোলে।

বিতর্কিত অতীত, প্রশ্নবিদ্ধ

 

 

বর্তমান সালেহ উদ্দিন বর্তমানে দৈনিক ইত্তেফাক-এর ব্যবস্থাপনা (নির্বাহী) সম্পাদক এই পরিচয়েই তার আচরণ আরও বেশি উদ্বেগজনক। পেশাগত জীবনে তিনি একসময় আইন বিটে রিপোর্টিং করলেও বিভিন্ন সময়ে তার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, আদালত ও আইনমন্ত্রণালয়কেন্দ্রিক প্রতিবেদনের সুবাদে তিনি ক্ষমতাকেন্দ্রের সঙ্গে অস্বাভাবিক সখ্য গড়ে তোলেন।

 

 

১/১১–পরবর্তী সময়ে সাব-রেজিস্ট্রার বদলিকে কেন্দ্র করে অনিয়ম ও আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগে তথাকথিত দুর্নীতিবাজ সাংবাদিকদের তালিকায় তার নাম ওঠার কথাও বিভিন্ন সূত্রে আলোচিত। এমনকি দুদকের অভিযানের মুখে সপরিবারে দেশত্যাগের অভিযোগও রয়েছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে তার কোনো ব্যাখ্যা বা অবস্থান আজও জাতির সামনে পরিষ্কার নয়।

 

 

পরবর্তীতে দেশে ফিরে আবার সাংবাদিকতার নেতৃত্বের আসনে বসা এবং এখন রাজনৈতিক কর্মসূচির নিয়ন্ত্রকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়া সব মিলিয়ে তার বর্তমান আচরণ অতীতের অভিযোগগুলোকেই যেন নতুন করে জোরালো করে তুলছে সংস্কারের বুলি, আচরণে স্বৈরাচার রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিসরে আজকাল ‘সংস্কার’, ‘গণতন্ত্র’ ও ‘স্বচ্ছতা’ শব্দগুলো খুব উচ্চকিতভাবে উচ্চারিত হয়। কিন্তু বাস্তব আচরণে যখন একজন আয়োজক প্রকাশ্য মঞ্চে সাংবাদিককে ধাক্কা দেন, অপমান করেন, তখন এসব শব্দ অর্থহীন প্রহসনে পরিণত হয়।

 

 

এই ঘটনা স্পষ্ট করে দিয়েছে সমস্যা শুধু ব্যক্তির নয়, সমস্যা দায়িত্বহীনতাকে প্রশ্রয় দেওয়ার সংস্কৃতির। আয়োজক কমিটি যদি এখনই স্পষ্ট ব্যাখ্যা না দেয়, দায় স্বীকার না করে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে এই নীরবতা অপরাধেরই শামিল হবে।

শোকসভা ছিল একজন প্রয়াত নেত্রীর স্মরণে। সেখান যদি সাংবাদিক নিরাপদ না থাকেন, সম্মান না পান—তবে সেই শোকসভা শ্রদ্ধার নয়, লজ্জার অধ্যায় হিসেবেই ইতিহাসে লেখা থাকবে।

 

 

গণমাধ্যমকে ভয় দেখিয়ে, ধাক্কা দিয়ে, অপমান করে কেউ গণতন্ত্রের পক্ষের শক্তি হতে পারে না এ সত্য মনে রাখাই এখন সময়ের দাবি।

 

আমার প্রশ্ন এবং আইন গঠন চাই? 

 

* দেশের যেকোনো গণমাধ্যম যেকোনো রাজনীতির দলের বা একক ব্যক্তির পক্ষ নিতে পারবে না? 

* যেকোনো পক্ষ নিলে তাকে গণমাধ্যম কর্মী থেকে বহিষ্কার বা আইনগত ব্যবস্থা নেবেন?

* কোন মাধ্যম কর্মীর কোন রাজনীতি নেই সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ? 

* কোন প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি যদি দালালি করে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে?

 

 

বিগত দিনে আমরা দেখেছি স্বৈরাচার সরকারের আমলে ওর মধ্যম কর্মীরা যে পরিমাণ দালালি বা সামসাম করেছেন সম্পূর্ণ দালালি বলতে হয় এবং বাস্তবতা জনগণ ও রাষ্ট্রের অনেক বড় ক্ষতি হয়েছে কাপুর করার মত নায় আমরা এই ধরনের গণমাধ্যম কর্মী চাই না । যারা বিগত সরকারের আমলে সাংবাদিকতা করেছেন তারা দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরী প্রয়োজন। তা না হলে বিশ্বের গণমাধ্যম কর্মীরা তাদের মত শিখবে এই আচরণ থেকে এবং আইন সংস্কার করা অতি জরুরী বলে আমি মনে করি।

 

মোঃ সাইফুল ইসলাম

চেয়ারম্যান

জাতীয় সাংবাদিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন

কেন্দ্রীয় কমিটি ঢাকা

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

jogo hosterbd

Popular Post
error: Content is protected !!

গণমাধ্যম কর্মী যদি দালাল হয় জাতি ও রাষ্ট্র কার কাছে আশ্রয় নিবেন?

Update Time : ১১:৪৯:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬

শোকসভায় শক্তি প্রদর্শন: সাংবাদিকতার মর্যাদায় নগ্ন হস্তক্ষেপ প্রয়াত সাবেক বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে আয়োজিত নাগরিক শোকসভা ছিল শ্রদ্ধা, সংযম ও গণতান্ত্রিক সহাবস্থানের প্রতীক হওয়ার কথা। অথচ আজ শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় সেই শোকসভাই রূপ নেয় বিশৃঙ্খলা ও ক্ষমতার দম্ভ প্রদর্শনের মঞ্চে। লাইভ সম্প্রচারের মধ্যেই আয়োজক কমিটির সমন্বয়ক সালেহ উদ্দিনের অশালীন ও দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, যা শুধু অনুষ্ঠানের মর্যাদাই নয় সাংবাদিকতার স্বাধীনতাকেও নগ্নভাবে লাঞ্ছিত করেছে।

 

 

প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, সালেহ উদ্দিন প্রকাশ্য মঞ্চেই সাংবাদিকদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন এবং অন্তত তিনজন সাংবাদিককে শারীরিকভাবে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। এটি কোনো “ভুল বোঝাবুঝি” নয়, এটি ছিল পরিকল্পিত শক্তি প্রদর্শন এবং সংবাদকর্মীদের পেশাগত দায়িত্বে সরাসরি হস্তক্ষেপ। একটি শোকসভায় এমন আচরণ শুধু অগ্রহণযোগ্য নয় এটি নিন্দনীয় ও ঘৃণ্য।

 

 

গণমাধ্যম কোনো দলীয় কর্মী নয়, কারও ব্যক্তিগত নিরাপত্তার ঝামেলাও নয়। সাংবাদিকরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন জনগণের চোখ ও কণ্ঠ হয়ে সত্য তুলে ধরতে। সেই দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া মানে জনগণের তথ্য জানার অধিকারকে পদদলিত করা। যারা সাংবাদিকের গায়ে হাত তোলার সাহস দেখায়, তারা মূলত গণতন্ত্রের গায়েই হাত তোলে।

বিতর্কিত অতীত, প্রশ্নবিদ্ধ

 

 

বর্তমান সালেহ উদ্দিন বর্তমানে দৈনিক ইত্তেফাক-এর ব্যবস্থাপনা (নির্বাহী) সম্পাদক এই পরিচয়েই তার আচরণ আরও বেশি উদ্বেগজনক। পেশাগত জীবনে তিনি একসময় আইন বিটে রিপোর্টিং করলেও বিভিন্ন সময়ে তার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, আদালত ও আইনমন্ত্রণালয়কেন্দ্রিক প্রতিবেদনের সুবাদে তিনি ক্ষমতাকেন্দ্রের সঙ্গে অস্বাভাবিক সখ্য গড়ে তোলেন।

 

 

১/১১–পরবর্তী সময়ে সাব-রেজিস্ট্রার বদলিকে কেন্দ্র করে অনিয়ম ও আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগে তথাকথিত দুর্নীতিবাজ সাংবাদিকদের তালিকায় তার নাম ওঠার কথাও বিভিন্ন সূত্রে আলোচিত। এমনকি দুদকের অভিযানের মুখে সপরিবারে দেশত্যাগের অভিযোগও রয়েছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে তার কোনো ব্যাখ্যা বা অবস্থান আজও জাতির সামনে পরিষ্কার নয়।

 

 

পরবর্তীতে দেশে ফিরে আবার সাংবাদিকতার নেতৃত্বের আসনে বসা এবং এখন রাজনৈতিক কর্মসূচির নিয়ন্ত্রকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়া সব মিলিয়ে তার বর্তমান আচরণ অতীতের অভিযোগগুলোকেই যেন নতুন করে জোরালো করে তুলছে সংস্কারের বুলি, আচরণে স্বৈরাচার রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিসরে আজকাল ‘সংস্কার’, ‘গণতন্ত্র’ ও ‘স্বচ্ছতা’ শব্দগুলো খুব উচ্চকিতভাবে উচ্চারিত হয়। কিন্তু বাস্তব আচরণে যখন একজন আয়োজক প্রকাশ্য মঞ্চে সাংবাদিককে ধাক্কা দেন, অপমান করেন, তখন এসব শব্দ অর্থহীন প্রহসনে পরিণত হয়।

 

 

এই ঘটনা স্পষ্ট করে দিয়েছে সমস্যা শুধু ব্যক্তির নয়, সমস্যা দায়িত্বহীনতাকে প্রশ্রয় দেওয়ার সংস্কৃতির। আয়োজক কমিটি যদি এখনই স্পষ্ট ব্যাখ্যা না দেয়, দায় স্বীকার না করে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে এই নীরবতা অপরাধেরই শামিল হবে।

শোকসভা ছিল একজন প্রয়াত নেত্রীর স্মরণে। সেখান যদি সাংবাদিক নিরাপদ না থাকেন, সম্মান না পান—তবে সেই শোকসভা শ্রদ্ধার নয়, লজ্জার অধ্যায় হিসেবেই ইতিহাসে লেখা থাকবে।

 

 

গণমাধ্যমকে ভয় দেখিয়ে, ধাক্কা দিয়ে, অপমান করে কেউ গণতন্ত্রের পক্ষের শক্তি হতে পারে না এ সত্য মনে রাখাই এখন সময়ের দাবি।

 

আমার প্রশ্ন এবং আইন গঠন চাই? 

 

* দেশের যেকোনো গণমাধ্যম যেকোনো রাজনীতির দলের বা একক ব্যক্তির পক্ষ নিতে পারবে না? 

* যেকোনো পক্ষ নিলে তাকে গণমাধ্যম কর্মী থেকে বহিষ্কার বা আইনগত ব্যবস্থা নেবেন?

* কোন মাধ্যম কর্মীর কোন রাজনীতি নেই সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ? 

* কোন প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি যদি দালালি করে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে?

 

 

বিগত দিনে আমরা দেখেছি স্বৈরাচার সরকারের আমলে ওর মধ্যম কর্মীরা যে পরিমাণ দালালি বা সামসাম করেছেন সম্পূর্ণ দালালি বলতে হয় এবং বাস্তবতা জনগণ ও রাষ্ট্রের অনেক বড় ক্ষতি হয়েছে কাপুর করার মত নায় আমরা এই ধরনের গণমাধ্যম কর্মী চাই না । যারা বিগত সরকারের আমলে সাংবাদিকতা করেছেন তারা দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরী প্রয়োজন। তা না হলে বিশ্বের গণমাধ্যম কর্মীরা তাদের মত শিখবে এই আচরণ থেকে এবং আইন সংস্কার করা অতি জরুরী বলে আমি মনে করি।

 

মোঃ সাইফুল ইসলাম

চেয়ারম্যান

জাতীয় সাংবাদিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন

কেন্দ্রীয় কমিটি ঢাকা