
আব্দুল কাইয়ুম সামি, সিলেট: সংসদ নির্বাচনে প্রতীক সব সময় গুরুত্বপূর্ণ। এখনো ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের প্রতীক বরাদ্দের ঘোষণা দেয়নি নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে দলীয় প্রতীক সম্পর্কে সবাই জানেন, তাই সিলেটের সব কটি আসনেই জমে উঠেছে নির্বাচনি প্রচারণা। প্রার্থী ও সমর্থকরা ছুটে চলেছেন ভোটাদের দ্বারে দ্বারে। নানান কৌশল ও আশ্বাসে চেষ্টা করছেন ভোটাদের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করতে। বিশেষ করে সবার নজরে রয়েছেন এবার ভোটার হওয়া প্রায় দেড় লাখ তরুণ, যারা এবারই প্রথম ভোট দেবেন। সিলেটের নির্বাচনে তরুণ্যদের প্রথম ভোট এককভাবে কোনো দলের পক্ষে যাবে, নাকি বিভিন্ন দলে ভাগ হয়ে যাবে তা নিয়ে চলছে নানান হিসাবনিকাশ। বিএনপি, জামায়াতসহ সবাই তরুণদের গতিবিধি বিশেষ করে নির্বাচনি গণসংযোগে তাদের ভূমিকার ওপর নজর রাখছে। কারণ তাদের ভোট এককভাবে কোনো দলের পক্ষে গেলে তারা হয়ে উঠবেন জয়পরাজয়ের নিয়ামক। তাই প্রার্থীরাও তরুণ ভোটারদের নিজেদের পক্ষে টানতে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছেন। এবার জেলার ছয়টি আসনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি নতুন ভোটার রয়েছেন সিলেট-৩-এ। এ আসনে প্রথমবারের মতো ভোট দেবেন ৪৩ হাজার ৩৬২ জন ভোটার। আর সবচেয়ে কম ভোটার বেড়েছে সিলেট-৫ আসনে। এ আসনে ভোটার বেড়েছে মাত্র ৭ হাজার ৬৫৭ জন। এসব আসনে গত দেড় বছরে ভোটার বেড়েছে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৪৭০ জন। সিলেট জেলায় এবার ভোটার ২৮ লাখ ৭০ হাজার ৮০১ জন। পুরুষের ১৪ লাখ ৬২ হাজার ৪৭৭ ও নারী ১৩ লাখ ৮২ হাজার ৮৮৭। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার আছেন ১৫ জন।
নির্বাচন কমিশন সূত্র জানান, সিলেট-১ আসনে এবার নতুন ভোটার বেড়েছে ৪০ হাজার ১৫০ জন। আসনটিতে মোট ভোটার ৬ লাখ ৭৪ হাজার ১৭১ জন। সিলেট-২ আসনে ২০ হাজার ৭ জন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৬৪ হাজার ৭৯৯ জন। সিলেট-৩ আসনে ৪৩ হাজার ৩৬২ জন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৮৬ হাজার ৪১২ জন। সিলেট-৪ আসনে ভোটার ৫ লাখ ২ হাজার ৬৫২ জন। এর মধ্যে নতুন ভোটার ২৭ হাজার ৫৩১ জন। সিলেট-৫ আসনে এবার নতুন ৭ হাজার ৬৫৭ জন ভোটার বেড়েছে। সব মিলিয়ে ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৯ হাজার ৯৫৬-এ। সিলেট-৬ আসনে ৪ লাখ ৮৯ হাজার ৪৪৯ জন ভোটারের মধ্যে নতুন ১৬ হাজার ৭০০ জন। কয়েকজন নতুন ভোটারের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, গণ অভ্যুত্থান-পরবর্তী এ নির্বাচনে তারা দলীয় প্রতীকে গা ভাসিয়ে না দিয়ে অধিকতর যোগ্য প্রার্থীকে নির্বাচিত করতে আগ্রহী। ভোট দেওয়ার আগে তারা প্রার্থীদের যোগ্যতা, আচরণ, ইমেজ এবং প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সক্ষমতা পর্যবেক্ষণ করছেন।
সিলেট মহানগরের লামাবাজারের বাসিন্দা একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘আমি রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান। কিন্তু আমি পরিবারের রাজনৈতিক আদর্শে অন্ধ না হয়ে নিজের বিবেক খাটিয়ে প্রথম ভোট দিতে চাই। যিনি নির্বাচিত হলে তরুণদের কর্মসংস্থানে ভূমিকা রাখতে পারবেন তাকেই ভোট দেব।’ আরেক শিক্ষার্থী সাবাহ আল করিম বলেন, ‘তরুণদের জন্য প্রয়োজন মাদকমুক্ত সমাজ। যে প্রার্থী সিলেটকে মাদকমুক্ত করতে শক্ত ভূমিকা রাখতে পারবেন বলে মনে হবে, তাকেই ভোট দেব।’ উত্তর কাজিটুলার বাসিন্দা ফারিহা তাবাস্সুমের চাওয়া হচ্ছে নারীদের জন্য নিরাপদ নগর। দল বা প্রতীকের চেয়ে প্রার্থীর ক্লিন ইমেজ এবং নারীর প্রতি শ্রদ্ধাবোধ বিবেচনায় তিনি দিতে চান তার প্রথম ভোট।
Reporter Name 
























