বাংলাদেশ ১০:১৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মনিরামপুরে মাঠের গাছ থেকে কৃষকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৪:৫৬:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৮৭ Time View

মোঃ মুজিবুর রহমান মল্লিক (স্টাফ রিপোর্টার বিকাল বার্তা প্রতিদিন)

যশোরের মনিরামপুর উপজেলার চালুয়াহাটি ইউনিয়নে শুক্রবার সকালে মাঠের একটি গাছ থেকে শফিকুল ইসলাম (৫৭) নামের এক কৃষকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

 

নিহত শফিকুল ইসলাম উপজেলার ইছালী গ্রামের বাসিন্দা এবং কেতাব উদ্দিন মোড়লের ছেলে। শুক্রবার সকাল ফজরের নামাজ শেষে বোরো ধানে সার প্রয়োগের কথা বলে তিনি বাড়ি থেকে মাঠে যান। পরে সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে ডিপ টিউবওয়েলের পাশের বাগানে একটি কাঁঠাল গাছে তার ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পেয়ে এলাকাবাসী পুলিশে খবর দেয়।

 

খবর পেয়ে মনিরামপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

নিহতের পরিবার দাবি করেছে, এটি আত্মহত্যা নয় বরং পরিকল্পিত হত্যা। নিহতের স্ত্রী বকুল বেগম অভিযোগ করে বলেন, পূর্ব শত্রুতার জেরে তার স্বামীকে শ্বাসরোধে হত্যা করে পরে মরদেহ গাছে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।

 

এলাকাবাসী ও পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ অনুযায়ী, ইছালী গ্রামের মাঠে শফিকুল ইসলামের একটি বৈদ্যুতিক ডিপ টিউবওয়েল সেচযন্ত্র রয়েছে। এই সেচযন্ত্র নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অপর সেচযন্ত্র মালিক ওসমান গনির সঙ্গে তার বিরোধ চলে আসছিল। নিহতের ছেলে, সেনা সদস্য রিফাত ইফতেখার জানান, এর আগেও ওসমান গনি ও তার ছেলে সবুজ তার বাবা-মাকে মারধর করেছিলেন। উল্লেখ্য, সবুজ বর্তমানে একটি হত্যা মামলার আসামি হিসেবে জেল হাজতে রয়েছে।

 

পরিবারের দাবি, বুধবার সন্ধ্যায় বিরোধের জেরে ওসমান গনির সঙ্গে শফিকুল ইসলামের কথা কাটাকাটি হয়। এরপরই এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ওসমান গনি ও তার পরিবারের সদস্যরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছে বলেও জানান তারা।

 

এ বিষয়ে মনিরামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রজিউল্লাহ খান জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। এ ঘটনায় এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি বলে তিনি জানান।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

jogo hosterbd

Popular Post
error: Content is protected !!

মনিরামপুরে মাঠের গাছ থেকে কৃষকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

Update Time : ০৪:৫৬:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬

মোঃ মুজিবুর রহমান মল্লিক (স্টাফ রিপোর্টার বিকাল বার্তা প্রতিদিন)

যশোরের মনিরামপুর উপজেলার চালুয়াহাটি ইউনিয়নে শুক্রবার সকালে মাঠের একটি গাছ থেকে শফিকুল ইসলাম (৫৭) নামের এক কৃষকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

 

নিহত শফিকুল ইসলাম উপজেলার ইছালী গ্রামের বাসিন্দা এবং কেতাব উদ্দিন মোড়লের ছেলে। শুক্রবার সকাল ফজরের নামাজ শেষে বোরো ধানে সার প্রয়োগের কথা বলে তিনি বাড়ি থেকে মাঠে যান। পরে সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে ডিপ টিউবওয়েলের পাশের বাগানে একটি কাঁঠাল গাছে তার ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পেয়ে এলাকাবাসী পুলিশে খবর দেয়।

 

খবর পেয়ে মনিরামপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

নিহতের পরিবার দাবি করেছে, এটি আত্মহত্যা নয় বরং পরিকল্পিত হত্যা। নিহতের স্ত্রী বকুল বেগম অভিযোগ করে বলেন, পূর্ব শত্রুতার জেরে তার স্বামীকে শ্বাসরোধে হত্যা করে পরে মরদেহ গাছে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।

 

এলাকাবাসী ও পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ অনুযায়ী, ইছালী গ্রামের মাঠে শফিকুল ইসলামের একটি বৈদ্যুতিক ডিপ টিউবওয়েল সেচযন্ত্র রয়েছে। এই সেচযন্ত্র নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অপর সেচযন্ত্র মালিক ওসমান গনির সঙ্গে তার বিরোধ চলে আসছিল। নিহতের ছেলে, সেনা সদস্য রিফাত ইফতেখার জানান, এর আগেও ওসমান গনি ও তার ছেলে সবুজ তার বাবা-মাকে মারধর করেছিলেন। উল্লেখ্য, সবুজ বর্তমানে একটি হত্যা মামলার আসামি হিসেবে জেল হাজতে রয়েছে।

 

পরিবারের দাবি, বুধবার সন্ধ্যায় বিরোধের জেরে ওসমান গনির সঙ্গে শফিকুল ইসলামের কথা কাটাকাটি হয়। এরপরই এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ওসমান গনি ও তার পরিবারের সদস্যরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছে বলেও জানান তারা।

 

এ বিষয়ে মনিরামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রজিউল্লাহ খান জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। এ ঘটনায় এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি বলে তিনি জানান।