বাংলাদেশ ১১:২১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাইকগাছায় পরিবেশ ধ্বংসের নীলনকশা ভেঙে দিল প্রশাসন?

  • Reporter Name
  • Update Time : ১০:২৪:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৭৯ Time View

৫০টি অবৈধ কয়লার চুল্লি ও ৩টি লাইসেন্সবিহীন ইটভাটা গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো।

মোঃ মুজিবুর রহমান মল্লিক
স্টাফ রিপোর্টার
দৈনিক বিকাল বার্তা 
খুলনার পাইকগাছা উপজেলায় বছরের পর বছর ধরে রাষ্ট্রীয় আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যকে হত্যা করে আসা অবৈধ ইটভাটা ও কয়লার চুল্লির বিরুদ্ধে অবশেষে কঠোর আঘাত হেনেছে প্রশাসন। পাইকগাছা উপজেলার ৯ নম্বর চাঁদখালী ইউনিয়নে বুধবার (২১ জানুয়ারি ২০২৬) পরিচালিত যৌথ অভিযানে ৩টি লাইসেন্সবিহীন ইটভাটা এবং প্রায় ৪০ থেকে ৫০টি অবৈধ কয়লার চুল্লি সম্পূর্ণরূপে উচ্ছেদ করা হয়েছে।

এই অভিযান পরিচালিত হয় পরিবেশ অধিদপ্তর খুলনা জেলা কার্যালয়ের সরাসরি তত্ত্বাবধানে, পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে। অভিযানে সেনা ক্যাম্প, পুলিশ প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, আনসার বাহিনী এবং স্থানীয় প্রশাসনের একাধিক ইউনিট সক্রিয়ভাবে অংশ নেয়।

 

শিশুদের শ্বাসরোধ করে চলছিল অবৈধ ব্যবসা?

 

দীর্ঘদিন ধরে মেয়াদোত্তীর্ণ ও লাইসেন্সবিহীন এসব ইটভাটা ও কয়লার চুল্লিতে অবৈধ কাঠ জ্বালিয়ে উৎপাদন চলছিল। বিষাক্ত ধোঁয়ায় প্রতিনিয়ত শ্বাসরুদ্ধ হয়ে পড়ছিল আশপাশের জনপদ। বিশেষ করে শিশু, স্কুলছাত্র-ছাত্রী ও বৃদ্ধদের জন্য এটি এক নীরব মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছিল। একাধিক স্কুল ও মাদ্রাসার শিক্ষক অভিযোগ করেন, শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শ্বাস নেওয়াই হয়ে উঠেছিল বিপজ্জনক।

প্রভাবশালীদের মুখোশ খুলে দেওয়ার হুঁশিয়ারি?

অভিযান চলাকালে পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা কঠোর ভাষায় বলেন“কোনটা মানুষ আর কোনটা অমানুষ এই পার্থক্য করাই আজ সবচেয়ে কঠিন। যারা কালো টাকার পাহাড় গড়ে তুলে পরিবেশ ধ্বংস করে,

শিশুদের জীবন বিপন্ন করে, তারা যত বড় প্রভাবশালীই হোক না কেন তাদের মুখোশ খুলে দেওয়া হবে। আইন সবার জন্য সমান। ”তিনি আরও বলেন, অতীতের রাজনৈতিক পরিচয় বদলে, ক্ষমতার রং পাল্টে গিরগিটির মতো টিকে থাকা পরিবেশ দূষণকারীদের আর কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

অভিযান এখানেই শেষ নয়?

প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে জানানো হয়, পাইকগাছা ও আশপাশের এলাকায় যেসব অবৈধ ইটভাটা ও কয়লার চুল্লি এখনও সক্রিয় রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে পর্যায়ক্রমে কঠোরতম আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রয়োজনে জেল, জরিমানা ও স্থায়ীভাবে কার্যক্রম বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সচেতন মহল মনে করে, এটি শুধু একটি অভিযান নয়—বরং পরিবেশ ধ্বংসকারীদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের নীরবতার অবসান।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

jogo hosterbd

Popular Post
error: Content is protected !!

পাইকগাছায় পরিবেশ ধ্বংসের নীলনকশা ভেঙে দিল প্রশাসন?

Update Time : ১০:২৪:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬

৫০টি অবৈধ কয়লার চুল্লি ও ৩টি লাইসেন্সবিহীন ইটভাটা গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো।

মোঃ মুজিবুর রহমান মল্লিক
স্টাফ রিপোর্টার
দৈনিক বিকাল বার্তা 
খুলনার পাইকগাছা উপজেলায় বছরের পর বছর ধরে রাষ্ট্রীয় আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যকে হত্যা করে আসা অবৈধ ইটভাটা ও কয়লার চুল্লির বিরুদ্ধে অবশেষে কঠোর আঘাত হেনেছে প্রশাসন। পাইকগাছা উপজেলার ৯ নম্বর চাঁদখালী ইউনিয়নে বুধবার (২১ জানুয়ারি ২০২৬) পরিচালিত যৌথ অভিযানে ৩টি লাইসেন্সবিহীন ইটভাটা এবং প্রায় ৪০ থেকে ৫০টি অবৈধ কয়লার চুল্লি সম্পূর্ণরূপে উচ্ছেদ করা হয়েছে।

এই অভিযান পরিচালিত হয় পরিবেশ অধিদপ্তর খুলনা জেলা কার্যালয়ের সরাসরি তত্ত্বাবধানে, পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে। অভিযানে সেনা ক্যাম্প, পুলিশ প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, আনসার বাহিনী এবং স্থানীয় প্রশাসনের একাধিক ইউনিট সক্রিয়ভাবে অংশ নেয়।

 

শিশুদের শ্বাসরোধ করে চলছিল অবৈধ ব্যবসা?

 

দীর্ঘদিন ধরে মেয়াদোত্তীর্ণ ও লাইসেন্সবিহীন এসব ইটভাটা ও কয়লার চুল্লিতে অবৈধ কাঠ জ্বালিয়ে উৎপাদন চলছিল। বিষাক্ত ধোঁয়ায় প্রতিনিয়ত শ্বাসরুদ্ধ হয়ে পড়ছিল আশপাশের জনপদ। বিশেষ করে শিশু, স্কুলছাত্র-ছাত্রী ও বৃদ্ধদের জন্য এটি এক নীরব মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছিল। একাধিক স্কুল ও মাদ্রাসার শিক্ষক অভিযোগ করেন, শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শ্বাস নেওয়াই হয়ে উঠেছিল বিপজ্জনক।

প্রভাবশালীদের মুখোশ খুলে দেওয়ার হুঁশিয়ারি?

অভিযান চলাকালে পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা কঠোর ভাষায় বলেন“কোনটা মানুষ আর কোনটা অমানুষ এই পার্থক্য করাই আজ সবচেয়ে কঠিন। যারা কালো টাকার পাহাড় গড়ে তুলে পরিবেশ ধ্বংস করে,

শিশুদের জীবন বিপন্ন করে, তারা যত বড় প্রভাবশালীই হোক না কেন তাদের মুখোশ খুলে দেওয়া হবে। আইন সবার জন্য সমান। ”তিনি আরও বলেন, অতীতের রাজনৈতিক পরিচয় বদলে, ক্ষমতার রং পাল্টে গিরগিটির মতো টিকে থাকা পরিবেশ দূষণকারীদের আর কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

অভিযান এখানেই শেষ নয়?

প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে জানানো হয়, পাইকগাছা ও আশপাশের এলাকায় যেসব অবৈধ ইটভাটা ও কয়লার চুল্লি এখনও সক্রিয় রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে পর্যায়ক্রমে কঠোরতম আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রয়োজনে জেল, জরিমানা ও স্থায়ীভাবে কার্যক্রম বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সচেতন মহল মনে করে, এটি শুধু একটি অভিযান নয়—বরং পরিবেশ ধ্বংসকারীদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের নীরবতার অবসান।