
স্টাফ রিপোর্টার: শ্যামবাজার সিটি কর্পোরেশন দোকান মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি মরহুম আব্দুর রহমানকে প্রকাশ্য দিবালোকে গুলি করে নির্মমভাবে হত্যা করার ৪০ দিন পার হলেও এখনো কোনো বিচার নেই, নেই কার্যকর তদন্ত, নেই আসামি গ্রেপ্তারের দৃশ্যমান অগ্রগতি। বরং খুনিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে আর পুলিশ রহস্যজনক নীরবতায় দর্শকের ভূমিকায়।
এই বিচারহীনতার প্রতিবাদ ও শহীদ ব্যবসায়ী নেতা মরহুম আব্দুর রহমানের রুহের মাগফিরাত কামনায় শ্যামবাজার সিটি কর্পোরেশন দোকান মালিক সমিতির উদ্যোগে ৪০ দিনের দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে ৪৩ নং ওয়ার্ড বিএনপির নেতাকর্মীসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। মিলাদ মাহফিলটি কার্যত পরিণত হয় বিচারহীনতার বিরুদ্ধে গণবিস্ফোরণে।
দোয়া মাহফিলে বক্তারা বলেন?
“প্রকাশ্য দিবালোকে একজন ব্যবসায়ী নেতাকে গুলি করে হত্যা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় এটি রাষ্ট্রযন্ত্রের ব্যর্থতার নগ্ন দলিল।”
সন্ত্রাসী নয়ন গং দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রকাশ্যে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করলেও রহস্যজনক কারণে তারা আজও আইনের নাগালের বাইরে।
বক্তারা সরাসরি অভিযোগ করেন, এই হত্যাকাণ্ডের পর প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা প্রমাণ করে খুনিদের পেছনে শক্তিশালী ছত্রছায়া রয়েছে। যদি এই ছত্রছায়া না থাকত, তাহলে ৪০ দিনেও একজন প্রধান আসামি প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করার সাহস পেত না।
সূত্র জানায়, মামলার ৩ নম্বর আসামি রুবেল দিবালোকে এলাকায় অবাধে চলাফেরা করলেও সূত্রাপুর থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তারে সম্পূর্ণ ব্যর্থ।
বরং ওসি বাদীকে বলে দিয়েছেন “৩ নম্বর আসামির খোঁজখবর নিয়ে জানাবেন।”এতে ক্ষোভে ফেটে পড়ে এলাকাবাসী প্রশ্ন তুলেছেন “বাদী যদি আসামি ধরিয়ে দেয়, তাহলে পুলিশের কাজ কী?”আরও গুরুতর অভিযোগ ওঠে, ১ নম্বর আসামিকে রিমান্ডে এনে কঠোর জিজ্ঞাসাবাদের পরিবর্তে “জামাই আদর” ও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে সময় পার করা হয়েছে।
এখন পর্যন্ত মামলার অগ্রগতির বিষয়ে কোনো লিখিত বা বিশ্বাসযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি।
বক্তারা বলেন, মরহুম আব্দুর রহমান ছিলেন একজন নির্ভীক, জনপ্রিয় ও আপসহীন ব্যবসায়ী নেতা। চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়াই তার “অপরাধ” হয়ে দাঁড়ায়।
্
তারা স্পষ্ট ঘোষণা দেন:
এই হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত শ্যামবাজারে শান্তিপূর্ণ কিন্তু কঠোর আন্দোলন চলবে।
অনুষ্ঠান শেষে মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। তবে এলাকাবাসীর কণ্ঠে একটাই প্রশ্ন?
“আর কত লাশ পড়লে প্রশাসনের ঘুম ভাঙবে?”
Reporter Name 


















