
কেরানীগঞ্জে হযরতপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাসান মোল্লার গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুর ঘটনা আবারও প্রমাণ করল দেশে রাজনৈতিক সহিংসতা এখনো ভয়াবহ বাস্তবতা। প্রকাশ্য স্থানে, দলীয় কার্যালয়ের সামনে একজন রাজনৈতিক নেতাকে গুলি করে হত্যা করা শুধু একটি দলের নয়, পুরো সমাজব্যবস্থার জন্যই গভীর উদ্বেগের বিষয়।
প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, নিহতের সঙ্গে কারো ব্যক্তিগত বিরোধ ছিল না। নির্বাচনি কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে তাকে লক্ষ্য করে দুর্বৃত্তরা নির্বিঘ্নে গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায়। প্রশ্ন উঠছে এত সহজে সন্ত্রাসীরা অস্ত্র হাতে নিয়ে জনসম্মুখে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে কীভাবে পালিয়ে যায়? আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তাহলে কোথায় দাঁড়িয়ে?
এ ধরনের হত্যাকাণ্ড শুধু একটি পরিবারকে বিপর্যস্ত করে না, গণতান্ত্রিক রাজনীতিকেও ভয় ও আতঙ্কের মধ্যে ঠেলে দেয়। রাজনৈতিক মতপ্রকাশ, সংগঠন ও নির্বাচনি কর্মকাণ্ড যদি প্রাণনাশের ঝুঁকিতে পড়ে, তবে গণতন্ত্র কার্যত অর্থহীন হয়ে পড়ে।
দুঃখজনক হলেও সত্য, ঘটনার পর এখনো কোনো মামলা হয়নি যা প্রশ্ন তোলে তদন্তের গতি ও রাষ্ট্রীয় দায়বদ্ধতা নিয়ে। অতীত অভিজ্ঞতা বলে, দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত না হলে এসব হত্যাকাণ্ড ধামাচাপা পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থেকেই যায়।
রাষ্ট্রের দায়িত্ব শুধু শোক প্রকাশে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। অবিলম্বে সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করাই পারে রাজনৈতিক সহিংসতার এই ভয়াবহ ধারাকে থামাতে। অন্যথায়, আজ হাসান মোল্লা আগামীকাল নামের তালিকা আরও দীর্ঘ হবে, আর প্রশ্নবিদ্ধ হবে রাষ্ট্রের আইনের শাসন।
মোঃ সাইফুল ইসলাম
চেয়ারম্যান
জাতীয় সাংবাদিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন
Reporter Name 






















