
স্টাফ রিপোর্টার: নবীগঞ্জ প্রেসক্লাবের ভেতরে জমে থাকা দীর্ঘদিনের ক্ষোভ, অনিয়ম ও বাকস্বাধীনতা হরণের অভিযোগ এবার প্রকাশ্য সভায় বিস্ফোরণের রূপ নিয়েছে। হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসনের বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ডা. রেজা কিবরিয়া ও তাঁর সহধর্মিণী সিমি কিবরিয়ার সঙ্গে মতবিনিময় সভায় একের পর এক প্রশ্নে বিব্রত হয়ে পড়ে প্রেসক্লাব নেতৃত্ব।
সভায় উপজেলা ছাত্রদল সভাপতি প্রার্থী ও প্রেসক্লাব সদস্য সরাসরি প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন ৪৮ সদস্যের প্রেসক্লাবে ৪০ জন বিএনপি-পন্থী সাংবাদিক থাকা সত্ত্বেও কেন নির্যাতিত, অসচ্ছল ও বঞ্চিত সাংবাদিকদের পাশে দাঁড়ানো হচ্ছে না? নাকি প্রেসক্লাব এখন কয়েকজনের ব্যক্তিগত ক্লাব?
জবাবে সিমি কিবরিয়া স্পষ্ট ভাষায় বলেন,
“বাকস্বাধীনতা থাকলে এই প্রেসক্লাব থেকেই পরিবর্তন আসবে। আমি অন্যায় করলেও যদি তা প্রকাশ করতে পারেন—সেটাই প্রকৃত সাংবাদিকতা। ভয় পেলে আপনারা হারবেন, সাহস থাকলে কেউ আপনাদের দমাতে পারবে না।”
এ সময় প্রেসক্লাবের এক সিনিয়র সাংবাদিক ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন,
“ঘুরে ফিরে তারাই ক্ষমতায়। আওয়ামী লীগ সরকারের ১৭ বছরে যারা সুবিধা ভোগ করেছে, তারাই আজও প্রেসক্লাবের ঘাড়ে চেপে বসে আছে। যারা গঠনতন্ত্র ভাঙে, অন্যায়কে সমর্থন করে তারাই আবার নীতির কথা বলে!”
এক রাজনৈতিক নেতা আরও কঠোর ভাষায় বলেন,
“নবীগঞ্জ প্রেসক্লাব এখন সাংবাদিকদের ক্লাব নয় এটা হয়ে গেছে সরকারি চাকরিজীবী, শিক্ষক, ঠিকাদার, ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ ও প্রবাসীদের আড্ডাখানা। যারা প্রকৃত সাংবাদিক, তারাই এখানে অপাঙ্ক্তেয়। প্রতিবাদ করলেই সিন্ডিকেটের রোষানলে পড়ে সন্ত্রাসী হামলা বহিষ্কার।”
একজন সিনিয়র সাংবাদিক অভিযোগ করেন, ইউনিয়ন পর্যায়ের সাংবাদিকরা আজ কার্যত বন্দি জীবন যাপন করছেন। অতীতে বহু সাংবাদিক ন্যায়ের পক্ষে প্রতিবাদ করতে গিয়ে অপমানিত, লাঞ্ছিত ও অসম্মানিত হয়েছেন। মান-সম্মান হারানোর ভয়ে আজ কলম নীরব—বাকস্বাধীনতা কেবল পোস্টার আর স্লোগানে সীমাবদ্ধ।
আরও বিস্ফোরক অভিযোগ উঠে আসে—প্রেসক্লাব উন্নয়ন ও সাংবাদিক কল্যাণ তহবিলের নামে দেশ-বিদেশের সমাজসেবক বিত্তশালী সমাজপতি শিক্ষানুরাগীদের কাছ থেকে অনুদান আদায় হলেও সেই অর্থ কয়েকজনের পকেট ভারী করতেই শেষ হয়। ক্লাবের একাউন্ট শেষে থাকে ‘জিরো’, কিন্তু প্রশ্ন করলে জবাব মেলে না।
২৪ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে ক্লাবের সদস্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘জাতীয় পার্টির সভা প্রেসক্লাবে কেন?’ এই প্রশ্ন তোলার অপরাধে যারা ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন, সভায় তাদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।
“স্বৈরাচারী হাসিনার দোসরদের দলীয় কর্মসূচি প্রেসক্লাবের ভেতরে করতে দেওয়া হলো কার অনুমতিতে? প্রেসক্লাব কি রাজনৈতিক পুনর্বাসন কেন্দ্র?” পরবর্তীতে নিরব।
নবীগঞ্জ প্রেসক্লাবের প্রভাবশালী নেতা ১৯ ডিসেম্বর ২০২৪ সালে নতুন সদস্য নিয়োগ নিয়েও তীব্র অভিযোগ ওঠে। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ৮ ভোটে সদস্য হওয়ার নিয়ম থাকলেও ৭ ভোটে সদস্য করা হয়। পরে সিন্ডিকেট করে বিষয়টি ধামাচাপা দিয়ে অন্যায়কে বৈধতা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়।
সবচেয়ে গুরুতর প্রশ্ন ছুঁড়ে দেওয়া হয়।
২০২৪ ও ২০২৫ সালে আওয়ামী লীগপন্থী হিসেবে পরিচিত কীভাবে নবীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন? এই দায়িত্ব পালন কি সাংবাদিকদের স্বার্থে ছিল, নাকি ক্ষমতাসীনদের স্বার্থ রক্ষায়?
সাংবাদিক একক কণ্ঠে বলেন।
নবীগঞ্জ প্রেসক্লাবকে সিন্ডিকেটমুক্ত করতে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ ও পূর্ণাঙ্গ সংস্কার এখন সময়ের দাবি। না হলে এই প্রেসক্লাব সাংবাদিকদের নয়, ক্ষমতাবানদের হাতিয়ার হয়েই থেকে যাবে।
Reporter Name 
























