
ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
২৬ জানুয়ারি ২০২৬ জাতীয় দৈনিক বিকাল বার্তা পত্রিকার সাতক্ষীরা প্রতিনিধি এ. এস. এম. শাহনেওয়াজ মাহমুদ রনি রাজবাড়ী ফরিদপুর সড়কে প্রাণ হারিয়েছেন। রাষ্ট্র কি এটিকে কেবল আরেকটি “সড়ক দুর্ঘটনা” হিসেবে নথিভুক্ত করে দায় শেষ করবে? নাকি এবার প্রশ্নের মুখোমুখি হবে?
আমরা সরাসরি জানতে চাই?
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, মাঠপর্যায়ের সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আপনি কী করেছেন?
সড়ক ও জনপথ বিভাগ, এই মৃত্যুর দায় কি আপনার অব্যবস্থাপনার নয়?
একজন সংবাদকর্মী নিয়মিত ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেন তাকে সুরক্ষার কোনো ব্যবস্থা কি ছিল?
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়?
সাংবাদিক সুরক্ষা নীতিমালা কোথায়? নাকি তা শুধু কাগজেই সীমাবদ্ধ?
শিশু সাংবাদিকতা থেকে উঠে আসা রনি ছিলেন মাঠের মানুষ। গ্রামবাংলার খবর, অপরাধ, অনিয়ম সবকিছুর মুখোমুখি হতে হয়েছে তাকে। অথচ রাষ্ট্র আজও মাঠপর্যায়ের সাংবাদিকদের ‘ঝুঁকিপূর্ণ পেশাজীবী’ হিসেবে স্বীকৃতি দিতে দ্বিধা করে। ফলাফল প্রতিটি মৃত্যুতে একটি পরিবার ধ্বংস হয়, সাংবাদিক সমাজ শোক প্রকাশ করে, আর রাষ্ট্র নীরব থাকে।
আমরা প্রশ্ন রাখি?
সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে একজন সাংবাদিক প্রাণ দিলে তার দায় কে নেবে?
সাংবাদিকদের জন্য বাধ্যতামূলক বীমা, নিরাপত্তা ও ক্ষতিপূরণ আইন কবে হবে?
আর কতজন রনি মারা গেলে প্রশাসনের ঘুম ভাঙবে?
রনির মৃত্যু প্রমাণ করে এ দেশে সাংবাদিকতা করতে গিয়ে বাঁচার নিশ্চয়তা নেই। আমরা সম্পাদক, প্রকাশক হতে পারি; কিন্তু মাঠপর্যায়ের সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারলে আমাদের বিবেকও প্রশ্নের মুখে পড়ে।
এ. এস. এম. শাহনেওয়াজ মাহমুদ রনি আর নেই। কিন্তু তার রক্তের দায় রাষ্ট্র এড়াতে পারে না। এই মৃত্যু যদি তদন্ত, দায় নির্ধারণ ও নীতিগত পরিবর্তনের দিকে না যায় তবে সেটি হবে রাষ্ট্রের ব্যর্থতার আরেকটি দলিল।
মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা তিনি যেন এই সাহসী সাংবাদিককে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারকে শক্তি দেন, আমিন।
লেখক: মোঃ সাইফুল ইসলাম
সম্পাদক
জাতীয় দৈনিক বিকাল বার্তা
চেয়ারম্যান
জাতীয় সাংবাদিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন
Reporter Name 






















