
দেশের ভূমি ব্যবস্থাপনার সবচেয়ে দুর্নামধন্য জায়গা যদি কোনো দপ্তর হয়, তা নিঃসন্দেহে উপজেলা ভূমি অফিস। নতুন ভূমি আইন যতই কঠোর হোক, এই অফিসে ঢুকলেই আইন নরম হয়ে যায় আর শক্ত হয় দালালের হাত।
নামজারি, খাজনা, রেকর্ড সংশোধন সবকিছুর লিখিত নিয়ম আছে। কিন্তু বাস্তবে ফাইল নড়ে দালালের সুপারিশে। খাজনা তিন বছর না দিলে জমি খাস হওয়ার বিধান থাকলেও প্রশ্ন হলো ভূমি অফিসের তালিকায় সেই জমিগুলো কোথায়? কারা সেগুলো চিহ্নিত করেছে?
ভূমি অফিসের কর্মচারীরা কি জানে না কোন জমি বছরের পর বছর খাজনা দেয়নি? জানে কিন্তু নীরব থাকে। কারণ নীরবতাই এখানে লাভজনক। নতুন আইন এই অফিসকে বদলাতে না পারলে, পুরো সংস্কার হবে লোক দেখানো।
ডিসি অফিস: রাষ্ট্রের অভিভাবক, নাকি দখলদারের আশ্রয়?
জেলা প্রশাসক (ডিসি) অফিসের দায়িত্ব শুধু ফাইল সই করা নয় জেলার ভূমি ব্যবস্থার সর্বোচ্চ তদারকি। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, অধিকাংশ ডিসি অফিস ভূমি জালিয়াতি ও দখলের অভিযোগে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে।
একটি জেলায় কত খাস জমি উদ্ধার হলো? কতজন ভূমি কর্মকর্তা শাস্তি পেল? এই তথ্য কি কোনো ডিসি অফিস স্বপ্রণোদিত হয়ে প্রকাশ করেছে? উত্তর জানা না।
ডিসি অফিস যদি সত্যিই দায়িত্বশীল হতো, তাহলে ভূমি অফিসে দালাল ঢুকতে পারত না। কিন্তু দালাল ঢোকে, বসে, দর কষাকষি করে আর রাষ্ট্রের প্রতিনিধি নীরব থাকে। প্রশ্ন উঠছে এই নীরবতা কি ব্যর্থতা, নাকি অংশীদারিত্ব? নতুন ভূমি আইন ডিসি অফিসকে সবচেয়ে বড় পরীক্ষায় ফেলেছে। এখানেই বোঝা যাবে ডিসি রাষ্ট্রের পক্ষে, না দখলদারের ছায়া।
এসি ল্যান্ড: আইনের রক্ষক, না ফাইল-নির্ভর শাসক?
সহকারী কমিশনার (ভূমি) সংক্ষেপে এসি ল্যান্ড এই পদটাই মূলত মাঠপর্যায়ের আইন। উচ্ছেদ অভিযান, খাস জমি উদ্ধার, নামজারি তদারকি সব ক্ষমতাই তাঁর হাতে।
কিন্তু বাস্তবে কী দেখা যায়?
উচ্ছেদ হয় দুর্বলদের ঘরে, প্রভাবশালীর জমিতে নয়।
খাস জমি উদ্ধার হয় কাগজে, মাঠে নয়।
নতুন আইনে বলা হচ্ছে খাজনা না দিলে জমি যাবে খাসে। কিন্তু কয়জন এসি ল্যান্ড নিজ উদ্যোগে এই আইন প্রয়োগ করেছেন? নাকি সবসময়ই ‘উপরের নির্দেশ’ অপেক্ষা?
আইন প্রয়োগে যদি এসি ল্যান্ড সাহস না দেখান, তাহলে নতুন ভূমি আইন শুধু সরকারি গেজেটেই থাকবে মাঠে নয়।
শেষ কথা: আইন নয়, দপ্তরই এখন রাষ্ট্রের মুখ
নতুন ভূমি আইন রাষ্ট্রের সদিচ্ছা দেখায়। কিন্তু রাষ্ট্রের মুখ?
এখন তিনটি দপ্তর ভূমি অফিস, ডিসি অফিস ও এসি ল্যান্ড। এই তিন জায়গায় যদি পুরোনো সংস্কৃতি থাকে—
দালাল, তদবির, নীরবতা?
তাহলে নতুন আইনও পুরোনো ব্যর্থতার শিকার হবে।
প্রশ্ন তাই আইনকে নয়, দপ্তরকে?
আপনারা কি বদলাবেন, নাকি আইনকেই ব্যর্থ করবেন?
রাষ্ট্রের বিশ্বাস এখন আপনাদের হাতেই।
লেখক: মোঃ সাইফুল ইসলাম
চেয়ারম্যান
জাতীয় সাংবাদিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন
Reporter Name 






















