বাংলাদেশ ০৮:১৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভাঙ্গায় সিজারের পর প্রসূতির মৃত্যু, রেখে গেলেন তিন সন্তান

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:৪৬:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৮৩ Time View

ভাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি: ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার আজিমনগর ইউনিয়নের আজিমনগর গ্রামে সিজারিয়ান অপারেশনের পর শারমিন আক্তার (২৭) নামে এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। তিনি মৃত্যুকালে তিন সন্তান রেখে গেছেন।

নিহতের স্বামী ভ্যানচালক আরিফ শেখ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) প্রসবজনিত জটিলতা নিয়ে শারমিন আক্তারকে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। ওইদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তার সিজারিয়ান অপারেশন করা হয়। অপারেশনের সময় তার পেটের নাড়ি কেটে ফেলা হয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়।

অপারেশনের পর শারমিন আক্তারের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক ৪টার দিকে তিনি মারা যান।

নিহত শারমিন আক্তার দুই মেয়ে ও এক নবজাতক ছেলে সন্তান রেখে গেছেন। তার বড় মেয়ে আরিফার বয়স ৫ বছর, ছোট মেয়ে ফাতেমার বয়স ৩ বছর এবং নবজাতক ছেলেটির বয়স মাত্র দুই দিন।

এ ঘটনায় পরিবার ও স্বজনদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তারা সিজারিয়ান অপারেশনে চিকিৎসকদের অবহেলার অভিযোগ তুলে সঠিক তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তানসিভ জুবায়ের বলেন,

“ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গত এক বছর ধরে নরমাল ডেলিভারি কার্যক্রম চালু রয়েছে। এ সময়ে ৬৯৯টি নরমাল ডেলিভারি ও ৫৬টি সিজারিয়ান ডেলিভারি সম্পন্ন হয়েছে। শারমিন আক্তার রক্তশূন্যতায় ভুগছিলেন। আত্মীয়-স্বজনদের লিখিত সম্মতির পর সিজারিয়ান অপারেশন করা হয় এবং সুস্থ নবজাতকের জন্ম হয়। পরবর্তীতে রোগীর অবস্থা অবনতি হলে তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়, যেখানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।”

ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. গোপাল দেব বলেন,

“রোগীটি আগে থেকেই মারাত্মক রক্তশূন্যতায় ভুগছিলেন। অপারেশনের আগে রোগীর স্বজনদের বিষয়টি জানানো হয়। তারা রক্ত প্রয়োজন না হলেও অপারেশন করাতে সম্মতি দেন। অপারেশনের পর রোগীর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হয়। কিন্তু সময়মতো রক্তের ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি। ফলে রোগীর প্রেসার কমে গেলে তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হলেও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে রোগীর মৃত্যু হয়।”

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

jogo hosterbd

Popular Post
error: Content is protected !!

ভাঙ্গায় সিজারের পর প্রসূতির মৃত্যু, রেখে গেলেন তিন সন্তান

Update Time : ০২:৪৬:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬

ভাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি: ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার আজিমনগর ইউনিয়নের আজিমনগর গ্রামে সিজারিয়ান অপারেশনের পর শারমিন আক্তার (২৭) নামে এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। তিনি মৃত্যুকালে তিন সন্তান রেখে গেছেন।

নিহতের স্বামী ভ্যানচালক আরিফ শেখ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) প্রসবজনিত জটিলতা নিয়ে শারমিন আক্তারকে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। ওইদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তার সিজারিয়ান অপারেশন করা হয়। অপারেশনের সময় তার পেটের নাড়ি কেটে ফেলা হয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়।

অপারেশনের পর শারমিন আক্তারের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক ৪টার দিকে তিনি মারা যান।

নিহত শারমিন আক্তার দুই মেয়ে ও এক নবজাতক ছেলে সন্তান রেখে গেছেন। তার বড় মেয়ে আরিফার বয়স ৫ বছর, ছোট মেয়ে ফাতেমার বয়স ৩ বছর এবং নবজাতক ছেলেটির বয়স মাত্র দুই দিন।

এ ঘটনায় পরিবার ও স্বজনদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তারা সিজারিয়ান অপারেশনে চিকিৎসকদের অবহেলার অভিযোগ তুলে সঠিক তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তানসিভ জুবায়ের বলেন,

“ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গত এক বছর ধরে নরমাল ডেলিভারি কার্যক্রম চালু রয়েছে। এ সময়ে ৬৯৯টি নরমাল ডেলিভারি ও ৫৬টি সিজারিয়ান ডেলিভারি সম্পন্ন হয়েছে। শারমিন আক্তার রক্তশূন্যতায় ভুগছিলেন। আত্মীয়-স্বজনদের লিখিত সম্মতির পর সিজারিয়ান অপারেশন করা হয় এবং সুস্থ নবজাতকের জন্ম হয়। পরবর্তীতে রোগীর অবস্থা অবনতি হলে তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়, যেখানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।”

ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. গোপাল দেব বলেন,

“রোগীটি আগে থেকেই মারাত্মক রক্তশূন্যতায় ভুগছিলেন। অপারেশনের আগে রোগীর স্বজনদের বিষয়টি জানানো হয়। তারা রক্ত প্রয়োজন না হলেও অপারেশন করাতে সম্মতি দেন। অপারেশনের পর রোগীর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হয়। কিন্তু সময়মতো রক্তের ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি। ফলে রোগীর প্রেসার কমে গেলে তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হলেও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে রোগীর মৃত্যু হয়।”