বাংলাদেশ ০৯:১৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মহাস্থানে কিশোর গ্যাংদের দৌরাত্ম্য বৃদ্ধিঃ দর্শনার্থীকে ধা*রা*লো অ*স্ত্রের মুখে জি*ম্মি মোবাইল ও টাকা ছিনতাই- আটক- ১

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:২৬:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২৮ Time View

মোঃ শহিদুল ইসলাম বগুড়াঃ  বগুড়ার মহাস্থানে বেড়েই চলেছে কিশোর গ্যাংদের দৌরাত্ম্য। যাদের হামলায় প্রতিনিয়তই মহাস্থানে দর্শনার্থীরা ছাড়াও সাধারণ মানুষ সবকিছু খুইয়ে শূণ্য হাতে ফিরতে হচ্ছে নিজ গন্তব্যে। কিন্তু এবার আর নিস্তার পেল না ছিনতাইকারী চক্র। জানা যায়, শুক্রবার ছুটির দিনে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে দর্শানার্থীরা ঘুরতে আসেন বগুড়ার ঐতিহাসিক মহাস্থানগড় হযরত শাহ সুলতান (রহঃ) মাজার ও পাশে জাদুঘর ঘর এলাকা। আর মহাস্থান (মানকালী), জিয়ৎ কুন্ড ও এর আশেপাশে ওঁৎ পেতে থাকে এলাকার কিছু গ্যাং। শুক্রবার বিকালে মহাস্থান মাজার থেকে জিয়ৎ কুন্ড এলাকায় ঘুরতে জান জিহাদ (২০) নামের এক যুবক। এসময় ধা*রা*লো অ*স্ত্রের মুখে তাঁর গতিরোধ করে নির্জন জায়গায় নিয়ে যায় একটি ছিনতাইকারী দল। পরে তার কাছে থাকা একটি (Realme) অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগে রাখা নগদ ৯হাজার টাকা মারপিট ও অস্ত্রের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে হাতিয়ে নেয় ওই ছিনতাইরী দল। এঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলে তৎপর হয়ে ওঠে শিবগঞ্জ থানা পুলিশ। পরে ভুক্তভোগী জিহাদের অভিযোগের ভিত্তিতে শিবগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ছাইদুল রহমান এর নেতৃত্ব একটি ফোর্স স্থানীদের সহযোগীতায় ছিনতাইকারীদের আটক করতে বিভিন্নস্থানে অভিযান চালায়। একপর্যায়ে তারা এ চক্রের প্রধান ইমন নামের এক ছিনতাইকারীকে আটক করেন। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ইমন ছিনতাইয়ের বিষয়টি শিকার করেন। গ্রেপ্তারকৃত ছিনতাইকারী ইমন সে শিবগঞ্জ উপজেলার রায়নগর ইউনিয়নের অনন্তবালা গ্রামের স্বাধীন এর পুত্র বলে জানা গেছে। পরে তার তথ্যমতে মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করে পুলিশ।

এঘটনায় জড়িত মহাস্থান মোন্নাপাড়া গ্রামের মৃত লুৎফর রহমানের পুত্র শাকিল (২৩) ও তাদের আরেক সহযোগী শরীফ পলাতক রয়েছে।

স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, গত ২০ জানুয়ারি মহাস্থানের এসব কিশোর গ্যাং উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নের গাংনগর গ্রামের বাহাদুর নামের এক যুবক মহাস্থানগড়ে ঘুরতে এলে ওই একই স্থানে একই কায়দায় ১টি (vivo) মোবাইল ফোন ও ১৯০০ টাকা অস্ত্রের মুখে মারপিট করে হাতিয়ে নেয়। পরে ওই যুবক মহাস্থানের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজ সেবক হাফিজুর রহমান হিরুর শরণাপন্ন হন। একপর্যায়ে ছিনতাইকারীদের নিকট থেকে মোবাইল ফোনটি উদ্ধার হলেও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। এ বিষয়ে সমাজ সেবক হাফিজুর রহমান হিরু ভিকটিমকে থানা পুলিশের দারস্থ হওয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু মোবাইল ফোনটি ফিরে পেলেও ছিনতাইকারীদের ভয়ে থানা পুলিশ কে জানায়নি। এছাড়াও এসব কিশোর গ্যাং মহাস্থান ভ্রমণকারী ছেলে- মেয়েদের সুযোগ পেলেই আটক করে তাদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করেন। এরপর তাদের অনুকূলে থাকা মহাস্থানগড় শালবাগন এলাকায় বেশকিছু বাড়ীতে তাদের নিয়ে আটকে রাখেন। সেখানে তাদের মারপিট করে আপত্তির ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার কথা বলে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেয়। অথবা তাদের অপহরণ করে তাদের আত্মীয় স্বজনের মাধ্যমে বিকাশে টাকা নিয়ে ছেড়ে দেন। স্থানীয় এলাকাবাসী বলেন, যারা এসব করছে তাদের সবার বয়স ১৬ থেকে ২২ বছর হবে। এসব কিশোর গ্যাংদের এখনি রুখে না দিলে ঐতিহাসিক মহাস্থানগড় ও হযরত শাহ সুলতান (রহঃ) মাজারে ভয়ে কেউ আর আসতে চাইবে না। ফলে দিন দিন মহাস্থানগড়ের সুনাম ক্ষুন্ন হবে এবং এলাকা পর্যটক শূণ্য হবে।

এ বিষয়ে শিবগঞ্জ থানার এসআই উৎপল বলেন, মহাস্থানগড়ের রায়নগর ইউনিয়ন বিট পুলিশের দায়িত্বে রয়েছি। এলাকার সার্বিক বিষয়ে এলাকার সচেতন এলাকাবাসী আমাদের যদি জানান, তাহলে শিবগঞ্জ থানা পুলিশ আমরা সর্বদাই প্রস্তুত সন্ত্রাসী ও ছিনতাইকারী চিরনির্মূল করা। তিনি বলেন, দ্রুত মহাস্থান কিশোর গ্যাং দমন করতে আমাদের এসপি স্যার ও (ওসি) স্যারের নির্দেশনায় মহাস্থান কিশোর গ্যাংদের গ্রেপ্তার করতে অভিযান চালানো হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

jogo hosterbd

Popular Post
error: Content is protected !!

মহাস্থানে কিশোর গ্যাংদের দৌরাত্ম্য বৃদ্ধিঃ দর্শনার্থীকে ধা*রা*লো অ*স্ত্রের মুখে জি*ম্মি মোবাইল ও টাকা ছিনতাই- আটক- ১

Update Time : ০২:২৬:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মোঃ শহিদুল ইসলাম বগুড়াঃ  বগুড়ার মহাস্থানে বেড়েই চলেছে কিশোর গ্যাংদের দৌরাত্ম্য। যাদের হামলায় প্রতিনিয়তই মহাস্থানে দর্শনার্থীরা ছাড়াও সাধারণ মানুষ সবকিছু খুইয়ে শূণ্য হাতে ফিরতে হচ্ছে নিজ গন্তব্যে। কিন্তু এবার আর নিস্তার পেল না ছিনতাইকারী চক্র। জানা যায়, শুক্রবার ছুটির দিনে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে দর্শানার্থীরা ঘুরতে আসেন বগুড়ার ঐতিহাসিক মহাস্থানগড় হযরত শাহ সুলতান (রহঃ) মাজার ও পাশে জাদুঘর ঘর এলাকা। আর মহাস্থান (মানকালী), জিয়ৎ কুন্ড ও এর আশেপাশে ওঁৎ পেতে থাকে এলাকার কিছু গ্যাং। শুক্রবার বিকালে মহাস্থান মাজার থেকে জিয়ৎ কুন্ড এলাকায় ঘুরতে জান জিহাদ (২০) নামের এক যুবক। এসময় ধা*রা*লো অ*স্ত্রের মুখে তাঁর গতিরোধ করে নির্জন জায়গায় নিয়ে যায় একটি ছিনতাইকারী দল। পরে তার কাছে থাকা একটি (Realme) অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগে রাখা নগদ ৯হাজার টাকা মারপিট ও অস্ত্রের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে হাতিয়ে নেয় ওই ছিনতাইরী দল। এঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলে তৎপর হয়ে ওঠে শিবগঞ্জ থানা পুলিশ। পরে ভুক্তভোগী জিহাদের অভিযোগের ভিত্তিতে শিবগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ছাইদুল রহমান এর নেতৃত্ব একটি ফোর্স স্থানীদের সহযোগীতায় ছিনতাইকারীদের আটক করতে বিভিন্নস্থানে অভিযান চালায়। একপর্যায়ে তারা এ চক্রের প্রধান ইমন নামের এক ছিনতাইকারীকে আটক করেন। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ইমন ছিনতাইয়ের বিষয়টি শিকার করেন। গ্রেপ্তারকৃত ছিনতাইকারী ইমন সে শিবগঞ্জ উপজেলার রায়নগর ইউনিয়নের অনন্তবালা গ্রামের স্বাধীন এর পুত্র বলে জানা গেছে। পরে তার তথ্যমতে মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করে পুলিশ।

এঘটনায় জড়িত মহাস্থান মোন্নাপাড়া গ্রামের মৃত লুৎফর রহমানের পুত্র শাকিল (২৩) ও তাদের আরেক সহযোগী শরীফ পলাতক রয়েছে।

স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, গত ২০ জানুয়ারি মহাস্থানের এসব কিশোর গ্যাং উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নের গাংনগর গ্রামের বাহাদুর নামের এক যুবক মহাস্থানগড়ে ঘুরতে এলে ওই একই স্থানে একই কায়দায় ১টি (vivo) মোবাইল ফোন ও ১৯০০ টাকা অস্ত্রের মুখে মারপিট করে হাতিয়ে নেয়। পরে ওই যুবক মহাস্থানের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজ সেবক হাফিজুর রহমান হিরুর শরণাপন্ন হন। একপর্যায়ে ছিনতাইকারীদের নিকট থেকে মোবাইল ফোনটি উদ্ধার হলেও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। এ বিষয়ে সমাজ সেবক হাফিজুর রহমান হিরু ভিকটিমকে থানা পুলিশের দারস্থ হওয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু মোবাইল ফোনটি ফিরে পেলেও ছিনতাইকারীদের ভয়ে থানা পুলিশ কে জানায়নি। এছাড়াও এসব কিশোর গ্যাং মহাস্থান ভ্রমণকারী ছেলে- মেয়েদের সুযোগ পেলেই আটক করে তাদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করেন। এরপর তাদের অনুকূলে থাকা মহাস্থানগড় শালবাগন এলাকায় বেশকিছু বাড়ীতে তাদের নিয়ে আটকে রাখেন। সেখানে তাদের মারপিট করে আপত্তির ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার কথা বলে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেয়। অথবা তাদের অপহরণ করে তাদের আত্মীয় স্বজনের মাধ্যমে বিকাশে টাকা নিয়ে ছেড়ে দেন। স্থানীয় এলাকাবাসী বলেন, যারা এসব করছে তাদের সবার বয়স ১৬ থেকে ২২ বছর হবে। এসব কিশোর গ্যাংদের এখনি রুখে না দিলে ঐতিহাসিক মহাস্থানগড় ও হযরত শাহ সুলতান (রহঃ) মাজারে ভয়ে কেউ আর আসতে চাইবে না। ফলে দিন দিন মহাস্থানগড়ের সুনাম ক্ষুন্ন হবে এবং এলাকা পর্যটক শূণ্য হবে।

এ বিষয়ে শিবগঞ্জ থানার এসআই উৎপল বলেন, মহাস্থানগড়ের রায়নগর ইউনিয়ন বিট পুলিশের দায়িত্বে রয়েছি। এলাকার সার্বিক বিষয়ে এলাকার সচেতন এলাকাবাসী আমাদের যদি জানান, তাহলে শিবগঞ্জ থানা পুলিশ আমরা সর্বদাই প্রস্তুত সন্ত্রাসী ও ছিনতাইকারী চিরনির্মূল করা। তিনি বলেন, দ্রুত মহাস্থান কিশোর গ্যাং দমন করতে আমাদের এসপি স্যার ও (ওসি) স্যারের নির্দেশনায় মহাস্থান কিশোর গ্যাংদের গ্রেপ্তার করতে অভিযান চালানো হবে।