
স্টাফ রিপোর্টার: চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে নিজের অবস্থান ‘চিরকাল আপসহীন’ বলে ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৮ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী মির্জা আব্বাস। তার বিরুদ্ধে চলমান অপপ্রচারকে ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যাচার’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, এসব কুৎসা দেশের মানুষ প্রত্যাখ্যান করবে।
মঙ্গলবার রাজধানীর গুলিস্তানের হল মার্কেটে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মির্জা আব্বাস বলেন, “চুলার মুখ দিয়ে কখনো স্বর্ণ বের হয় না—ছাই বের হয়। আর স্বর্ণের খনি থেকে কখনো ছাই বের হয় না। জনগণ সব বোঝে।” তার বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে কটূক্তি ও কুৎসা ছড়ানো হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যারা এসব বলছেন, তারা সবাই পরিণত বয়সের মানুষ। আজকের এই বক্তব্যগুলো রেকর্ড হয়ে থাকবে এবং ভবিষ্যতে সেই রেকর্ডই তাদের মুখোশ খুলে দেবে।
তিনি অভিযোগ করেন, একটি রাজনৈতিক দলের জুনিয়র গ্রুপ প্রতিনিয়ত বিএনপির বিরুদ্ধে অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দিয়ে রাজনৈতিক পরিবেশ বিষাক্ত করছে। শুধু তাই নয়, ওই দলের শীর্ষ নেতারাও চাকরিজীবী নারীদের নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করে সীমালঙ্ঘন করছেন, যা জাতির জন্য লজ্জাজনক।
ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মির্জা আব্বাস বলেন, “দায়িত্বশীল রাজনীতি শিখুন। একজন মানুষের বিরুদ্ধে কুৎসা রটাবেন না। বরং আপনারা কী করেছেন, কী করতে চান—তা জনগণের সামনে পরিষ্কার করে বলুন।”
নিজের সততা ও সংগ্রামী জীবনের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, তিনি কখনো অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ করেননি। সমালোচকদের উদ্দেশে কঠোর ভাষায় তিনি বলেন, “যদি বুকের পাটা থাকে, তাহলে বায়তুল মোকাররমের সামনে আমার নামে সালিশ বসান। আমি চুরি-চামারি করে বড় হইনি। গায়ে খেটে, নিজ হাতে কাজ করে বড় হয়েছি।”
নির্বাচন নিয়ে গভীর শঙ্কা প্রকাশ করে মির্জা আব্বাস বলেন, ভোটের দিন ভোটকেন্দ্র পাহারা দিতে হবে। পোলিং এজেন্ট ও প্রিজাইডিং অফিসারের স্বাক্ষরিত ফলাফল শিট ছাড়া কোনোভাবেই কেন্দ্র ত্যাগ করা যাবে না। গণনার নামে ফলাফল অফিসে নেওয়ার কোনো প্রস্তাব মানা হবে না বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
তিনি বলেন, “ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। কিছু নতুন প্রার্থীর কথাবার্তায় সেটার ইঙ্গিত স্পষ্ট। তাই সবাইকে সতর্ক, ঐক্যবদ্ধ ও প্রস্তুত থাকতে হবে।”
মতবিনিময় সভা শেষে মির্জা আব্বাস গুলিস্তানের পাতাল মার্কেট ও স্টেডিয়াম মার্কেটে ব্যাপক নির্বাচনী প্রচারণা চালান। পরে বায়তুল মোকাররমে জোহরের নামাজ আদায় শেষে সেখানে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পৃথক মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।
Reporter Name 
























