বাংলাদেশ ০৮:২৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হবিগঞ্জ-১ আসনে রেজা-সুজাতের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, সরগরম নির্বাচনী মাঠ

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৬:৪৮:১২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১০০ Time View

আশাহীদ আলী আশা।। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হবিগঞ্জ জেলার সবচেয়ে আলোচিত আসন হিসেবে উঠে এসেছে হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল)। এ আসনে বিএনপির সদ্য যোগ দেওয়া প্রার্থী ড. রেজা কিবরিয়া ও দলীয় বিদ্রোহী সাবেক সংসদ সদস্য শেখ সুজাত মিয়ার মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস মিলছে।

দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় শেখ সুজাত মিয়াকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হলেও মাঠে তার অবস্থান বেশ শক্ত। অপরদিকে, সদ্য বিএনপিতে যোগ দিয়েই দলীয় মনোনয়ন পাওয়ায় শুরু থেকেই আলোচনায় রয়েছেন ড. রেজা কিবরিয়া। প্রবাসী অধ্যুষিত এই আসনে মোট পাঁচজন প্রার্থী নির্বাচনী মাঠে লড়ছেন। বিএনপির প্রার্থী ড. রেজা কিবরিয়া ও স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ সুজাত মিয়া ছাড়াও আলোচনায় রয়েছেন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী খেলাফত মজলিসের মাওলানা সিরাজুল ইসলাম, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের প্রার্থী মোহাম্মদ বদরুর রেজা এবং জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) এর প্রার্থী কাজী তোফায়েল আহমেদ।

তবে ভোটের মাঠে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে উঠেছে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ড. রেজা কিবরিয়া ও বিদ্রোহী প্রার্থী শেখ সুজাত মিয়ার মধ্যে। ফলে জেলার চারটি আসনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে হবিগঞ্জ-১ আসনকে ঘিরেই।নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই সরগরম হয়ে উঠছে নির্বাচনী মাঠ। প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত সভা-সমাবেশ, গণসংযোগ ও নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন প্রার্থীরা। তবে বিএনপির দলীয় ও বিদ্রোহী দুই প্রার্থীর কারণে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে বিভক্তি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।পদ হারানোর আশঙ্কায় অনেক নেতা প্রকাশ্যে ড. রেজার পক্ষে মাঠে থাকলেও তৃণমূল পর্যায়ে অনেক কর্মীকে দেখা যাচ্ছে শেখ সুজাতের সঙ্গে কাজ করতে। এতে করে ভোটের মাঠে অনিশ্চয়তা ও উত্তেজনা আরও বেড়েছে।স্থানীয় ভোটারদের মতে, ধানের শীষের প্রার্থীর বিপরীতে অন্য কোনো বড় দলের শক্তিশালী প্রার্থী না থাকলেও নিজ দলের বিদ্রোহী শেখ সুজাতই এখন ড. রেজার জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।নির্বাচনের শুরুতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে শেখ সুজাত মিয়া নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াবেন—এমন গুঞ্জন থাকলেও শেষ পর্যন্ত তিনি প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি। বরং জামায়াতের প্রার্থী শাহজাহান আলী শেষ মুহূর্তে নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ায় জামায়াতপন্থী কিছু ভোট শেখ সুজাতের দিকে যেতে পারে বলে ধারণা করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

রাজনৈতিক জীবনে শেখ সুজাত মিয়া ১৯৯৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর ২০১১ সালে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য দেওয়ান ফরিদ গাজীর মৃত্যুর পর উপ-নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে পুনরায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এবার তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী লড়াইয়ে নেমেছেন।

অন্যদিকে, ড. রেজা কিবরিয়া ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের (গণফোরাম) প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীকে অংশ নিয়েছিলেন। তিনি সাবেক অর্থমন্ত্রী শহীদ শাহ এএমএস কিবরিয়ার পুত্র হওয়ায় এলাকায় পারিবারিকভাবেও রয়েছে শক্ত রাজনৈতিক ভিত্তি।

জানা গেছে, হবিগঞ্জ-১ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৬৬ হাজার ৯২১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৩৬ হাজার ৫৭৬ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৩০ হাজার ৩৪০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৫ জন।

সব মিলিয়ে প্রভাবশালী দুই নেতার মুখোমুখি অবস্থানে হবিগঞ্জ-১ আসনের নির্বাচনী লড়াই জেলার মধ্যে সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ ও অনিশ্চিত রূপ নিয়েছে বলে মনে করছেন।

 

 

 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

jogo hosterbd

Popular Post
error: Content is protected !!

হবিগঞ্জ-১ আসনে রেজা-সুজাতের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, সরগরম নির্বাচনী মাঠ

Update Time : ০৬:৪৮:১২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আশাহীদ আলী আশা।। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হবিগঞ্জ জেলার সবচেয়ে আলোচিত আসন হিসেবে উঠে এসেছে হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল)। এ আসনে বিএনপির সদ্য যোগ দেওয়া প্রার্থী ড. রেজা কিবরিয়া ও দলীয় বিদ্রোহী সাবেক সংসদ সদস্য শেখ সুজাত মিয়ার মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস মিলছে।

দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় শেখ সুজাত মিয়াকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হলেও মাঠে তার অবস্থান বেশ শক্ত। অপরদিকে, সদ্য বিএনপিতে যোগ দিয়েই দলীয় মনোনয়ন পাওয়ায় শুরু থেকেই আলোচনায় রয়েছেন ড. রেজা কিবরিয়া। প্রবাসী অধ্যুষিত এই আসনে মোট পাঁচজন প্রার্থী নির্বাচনী মাঠে লড়ছেন। বিএনপির প্রার্থী ড. রেজা কিবরিয়া ও স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ সুজাত মিয়া ছাড়াও আলোচনায় রয়েছেন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী খেলাফত মজলিসের মাওলানা সিরাজুল ইসলাম, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের প্রার্থী মোহাম্মদ বদরুর রেজা এবং জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) এর প্রার্থী কাজী তোফায়েল আহমেদ।

তবে ভোটের মাঠে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে উঠেছে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ড. রেজা কিবরিয়া ও বিদ্রোহী প্রার্থী শেখ সুজাত মিয়ার মধ্যে। ফলে জেলার চারটি আসনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে হবিগঞ্জ-১ আসনকে ঘিরেই।নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই সরগরম হয়ে উঠছে নির্বাচনী মাঠ। প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত সভা-সমাবেশ, গণসংযোগ ও নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন প্রার্থীরা। তবে বিএনপির দলীয় ও বিদ্রোহী দুই প্রার্থীর কারণে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে বিভক্তি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।পদ হারানোর আশঙ্কায় অনেক নেতা প্রকাশ্যে ড. রেজার পক্ষে মাঠে থাকলেও তৃণমূল পর্যায়ে অনেক কর্মীকে দেখা যাচ্ছে শেখ সুজাতের সঙ্গে কাজ করতে। এতে করে ভোটের মাঠে অনিশ্চয়তা ও উত্তেজনা আরও বেড়েছে।স্থানীয় ভোটারদের মতে, ধানের শীষের প্রার্থীর বিপরীতে অন্য কোনো বড় দলের শক্তিশালী প্রার্থী না থাকলেও নিজ দলের বিদ্রোহী শেখ সুজাতই এখন ড. রেজার জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।নির্বাচনের শুরুতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে শেখ সুজাত মিয়া নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াবেন—এমন গুঞ্জন থাকলেও শেষ পর্যন্ত তিনি প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি। বরং জামায়াতের প্রার্থী শাহজাহান আলী শেষ মুহূর্তে নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ায় জামায়াতপন্থী কিছু ভোট শেখ সুজাতের দিকে যেতে পারে বলে ধারণা করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

রাজনৈতিক জীবনে শেখ সুজাত মিয়া ১৯৯৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর ২০১১ সালে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য দেওয়ান ফরিদ গাজীর মৃত্যুর পর উপ-নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে পুনরায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এবার তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী লড়াইয়ে নেমেছেন।

অন্যদিকে, ড. রেজা কিবরিয়া ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের (গণফোরাম) প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীকে অংশ নিয়েছিলেন। তিনি সাবেক অর্থমন্ত্রী শহীদ শাহ এএমএস কিবরিয়ার পুত্র হওয়ায় এলাকায় পারিবারিকভাবেও রয়েছে শক্ত রাজনৈতিক ভিত্তি।

জানা গেছে, হবিগঞ্জ-১ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৬৬ হাজার ৯২১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৩৬ হাজার ৫৭৬ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৩০ হাজার ৩৪০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৫ জন।

সব মিলিয়ে প্রভাবশালী দুই নেতার মুখোমুখি অবস্থানে হবিগঞ্জ-১ আসনের নির্বাচনী লড়াই জেলার মধ্যে সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ ও অনিশ্চিত রূপ নিয়েছে বলে মনে করছেন।