
স্টাফ রিপোর্টার মোঃ তারেক ইসলাম: রাজধানীর কারওয়ান বাজার ও পুরান ঢাকায় পৃথক দুটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও এবার সামনে এসেছে ফায়ার সার্ভিসের অবহেলার অভিযোগ। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা দাবি করেছেন, সময়মতো পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না নেওয়ায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং ক্ষয়ক্ষতি বাড়ে।
ঘটনাস্থলে দেরিতে কার্যক্রমের অভিযোগ
সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে কারওয়ান বাজারের কাঠপট্টিতে আগুন লাগে। স্থানীয়দের অভিযোগ, খবর দেওয়ার পর ফায়ার সার্ভিস পৌঁছাতে বিলম্ব হয়। প্রথমদিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে পর্যাপ্ত পানির চাপ না থাকায় শিখা দ্রুত উপরের তলাগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে।
যদিও ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, রাত ১০টা ২৮ মিনিটে খবর পেয়ে দ্রুত ৫টি ইউনিট পাঠানো হয় এবং পরে আরও ৫টি ইউনিট যোগ দেয়। রাত ১২টা ৩৮ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
তবে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দাবি, সরু রাস্তা ও অব্যবস্থাপনার অজুহাতে সময় নষ্ট হয়েছে। আগুন লাগা ভবনে বিপুল পরিমাণ দাহ্য পণ্য ও কাঠের গুদাম থাকলেও আগাম সতর্কতা বা অগ্নি-নিরাপত্তা তদারকি ছিল না।
পুরান ঢাকায় একই চিত্র
একই সময়ে পুরান ঢাকার আগামাসি লেনের একটি জুতার কারখানায় আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিস তিনটি ইউনিট পাঠিয়ে রাত ১১টা ৩৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে বলে জানায়।
কিন্তু স্থানীয়দের অভিযোগ, ভবনটিতে পর্যাপ্ত অগ্নি-নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না এবং নিয়মিত পরিদর্শনের ঘাটতি রয়েছে। আগুনের সূত্রপাত চতুর্থ তলায় হলেও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। শ্রমিকদের অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে সিঁড়ি দিয়ে নেমে আসেন।
তদন্তের দাবি
দুটি অগ্নিকাণ্ডেই হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ক্ষতির সঠিক পরিমাণ এখনও নির্ধারণ করা হয়নি।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সচেতন মহল ফায়ার সার্ভিসের তদারকি কার্যক্রম, অগ্নি-নিরাপত্তা পরিদর্শন এবং জরুরি সাড়াদানের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
এদিকে ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।
ঘটনার পর এলাকাবাসীর দাবি—শুধু আগুন নিয়ন্ত্রণ নয়, অগ্নি-নিরাপত্তা ব্যবস্থার বাস্তব তদারকি ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে হবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে।
Reporter Name 


















