বাংলাদেশ ০৮:২৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২১ উপদেষ্টার কার কত সম্পদ? জনগণের জানার অধিকার? 

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৬:২০:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১৫১ Time View

স্বচ্ছতার পরীক্ষায় প্রধান উপদেষ্টা ও উপদেষ্টারা অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস-সহ ২১ উপদেষ্টার সম্পদের হিসাব নিয়ে যে আলোচনা সমালোচনার ঝড় উঠেছে, তা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং এটি রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির প্রশ্নকে নতুন করে সামনে এনেছে। জনগণের প্রত্যাশা একটাই ক্ষমতায় যারা থাকবেন, তাদের আর্থিক অবস্থান হবে পরিষ্কার, নির্ভেজাল এবং আইনের আওতায় পরীক্ষিত।

 

রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ব্যক্তিগত সম্পদের বিবরণী প্রকাশ করা এখন বিশ্ব রাজনীতিতে একটি প্রতিষ্ঠিত রীতি। কারণ ক্ষমতা ও সম্পদের সম্পর্ক নিয়ে জনমনে সবসময়ই প্রশ্ন থাকে। সেই প্রশ্নকে সন্দেহে রূপ নেওয়ার আগেই স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা নেতৃত্বের নৈতিক দায়িত্ব।

 

বর্তমান পরিস্থিতিতে উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশ কেবল একটি প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি জনআস্থার ভিত্তি নির্মাণের প্রথম ধাপ। ঘোষণাপত্রে কী আছে তা যতটা গুরুত্বপূর্ণ, তার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো সেই তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা। প্রয়োজন হলে স্বাধীন নিরীক্ষা বা যাচাই প্রক্রিয়া যুক্ত করা যেতে পারে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো বিতর্কের অবকাশ না থাকে।

 

তবে আরেকটি বিষয়ও মনে রাখা জরুরি অভিযোগ মানেই দোষ প্রমাণ নয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের গুজব বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা দিয়ে কারও সুনাম ক্ষুণ্ন করা যেমন অনুচিত, তেমনি স্বচ্ছতার প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়া আরও বেশি ক্ষতিকর। সঠিক পথ হলো তথ্যভিত্তিক, প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনসম্মত প্রক্রিয়া।

 

জনগণের করের টাকায় পরিচালিত রাষ্ট্রযন্ত্রে জবাবদিহি নিশ্চিত করা গণতন্ত্রের মৌলিক শর্ত। অতএব, প্রধান উপদেষ্টা থেকে শুরু করে প্রতিটি উপদেষ্টার সম্পদের পূর্ণাঙ্গ ও নির্ভুল হিসাব দ্রুত প্রকাশ এবং তার কার্যকর যাচাইই হতে পারে চলমান বিতর্কের উত্তম সমাধান।

 

সাংবাদিক সম্মেলন কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়,এটি জবাবদিহির মঞ্চ। সেখানে যদি নির্ভুল তথ্য, প্রমাণ এবং প্রাসঙ্গিক নথি উপস্থাপন করা হয়, তবে জনমনে যে সংশয় তৈরি হয়েছে তা অনেকটাই দূর হবে। একইসঙ্গে ভবিষ্যতের জন্য একটি দৃষ্টান্ত স্থাপিত হবে ক্ষমতায় আসা মানেই প্রশ্নের ঊর্ধ্বে নয়।

জনগণের করের টাকায় পরিচালিত রাষ্ট্রে স্বচ্ছতা কোনো দয়া নয়, এটি অধিকার। তাই বিলম্ব না করে পূর্ণাঙ্গ তথ্যসহ একটি উন্মুক্ত সাংবাদিক সম্মেলনের

 

স্বচ্ছতা দুর্বলতার লক্ষণ নয়; বরং তা শক্ত নেতৃত্বের পরিচায়ক। এখন সময় সেই শক্তির প্রমাণ দেওয়ার।

 

মোঃ সাইফুল ইসলাম

চেয়ারম্যান

জার্নালিস্ট নিউজ সোসাইটি

 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

jogo hosterbd

Popular Post
error: Content is protected !!

২১ উপদেষ্টার কার কত সম্পদ? জনগণের জানার অধিকার? 

Update Time : ০৬:২০:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

স্বচ্ছতার পরীক্ষায় প্রধান উপদেষ্টা ও উপদেষ্টারা অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস-সহ ২১ উপদেষ্টার সম্পদের হিসাব নিয়ে যে আলোচনা সমালোচনার ঝড় উঠেছে, তা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং এটি রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির প্রশ্নকে নতুন করে সামনে এনেছে। জনগণের প্রত্যাশা একটাই ক্ষমতায় যারা থাকবেন, তাদের আর্থিক অবস্থান হবে পরিষ্কার, নির্ভেজাল এবং আইনের আওতায় পরীক্ষিত।

 

রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ব্যক্তিগত সম্পদের বিবরণী প্রকাশ করা এখন বিশ্ব রাজনীতিতে একটি প্রতিষ্ঠিত রীতি। কারণ ক্ষমতা ও সম্পদের সম্পর্ক নিয়ে জনমনে সবসময়ই প্রশ্ন থাকে। সেই প্রশ্নকে সন্দেহে রূপ নেওয়ার আগেই স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা নেতৃত্বের নৈতিক দায়িত্ব।

 

বর্তমান পরিস্থিতিতে উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশ কেবল একটি প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি জনআস্থার ভিত্তি নির্মাণের প্রথম ধাপ। ঘোষণাপত্রে কী আছে তা যতটা গুরুত্বপূর্ণ, তার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো সেই তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা। প্রয়োজন হলে স্বাধীন নিরীক্ষা বা যাচাই প্রক্রিয়া যুক্ত করা যেতে পারে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো বিতর্কের অবকাশ না থাকে।

 

তবে আরেকটি বিষয়ও মনে রাখা জরুরি অভিযোগ মানেই দোষ প্রমাণ নয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের গুজব বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা দিয়ে কারও সুনাম ক্ষুণ্ন করা যেমন অনুচিত, তেমনি স্বচ্ছতার প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়া আরও বেশি ক্ষতিকর। সঠিক পথ হলো তথ্যভিত্তিক, প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনসম্মত প্রক্রিয়া।

 

জনগণের করের টাকায় পরিচালিত রাষ্ট্রযন্ত্রে জবাবদিহি নিশ্চিত করা গণতন্ত্রের মৌলিক শর্ত। অতএব, প্রধান উপদেষ্টা থেকে শুরু করে প্রতিটি উপদেষ্টার সম্পদের পূর্ণাঙ্গ ও নির্ভুল হিসাব দ্রুত প্রকাশ এবং তার কার্যকর যাচাইই হতে পারে চলমান বিতর্কের উত্তম সমাধান।

 

সাংবাদিক সম্মেলন কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়,এটি জবাবদিহির মঞ্চ। সেখানে যদি নির্ভুল তথ্য, প্রমাণ এবং প্রাসঙ্গিক নথি উপস্থাপন করা হয়, তবে জনমনে যে সংশয় তৈরি হয়েছে তা অনেকটাই দূর হবে। একইসঙ্গে ভবিষ্যতের জন্য একটি দৃষ্টান্ত স্থাপিত হবে ক্ষমতায় আসা মানেই প্রশ্নের ঊর্ধ্বে নয়।

জনগণের করের টাকায় পরিচালিত রাষ্ট্রে স্বচ্ছতা কোনো দয়া নয়, এটি অধিকার। তাই বিলম্ব না করে পূর্ণাঙ্গ তথ্যসহ একটি উন্মুক্ত সাংবাদিক সম্মেলনের

 

স্বচ্ছতা দুর্বলতার লক্ষণ নয়; বরং তা শক্ত নেতৃত্বের পরিচায়ক। এখন সময় সেই শক্তির প্রমাণ দেওয়ার।

 

মোঃ সাইফুল ইসলাম

চেয়ারম্যান

জার্নালিস্ট নিউজ সোসাইটি