বাংলাদেশ ০৯:২৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজশাহীতে শুল্ক গোয়েন্দার (এআরও) শহিদুল ইসলামের সম্পদ নিয়ে প্রশ্ন

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:৩৯:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৯৬ Time View

বিশেষ প্রতিবেদক: দুর্নীতিবাজ ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। এরই মধ্যে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর-এর রাজশাহী কার্যালয়ে কর্মরত সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা (এআরও) শহিদুল ইসলাম কাঁকনের বিপুল সম্পদ অর্জন নিয়ে উঠেছে গুরুতর অভিযোগ। সচেতন মহল বিষয়টি নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

 

এক যুগে অর্ধশত কোটি টাকার সম্পদের অভিযোগ

অভিযোগ রয়েছে, প্রায় এক যুগের চাকরি জীবনে শহিদুল ইসলাম কাঁকন নিজ ও পরিবারের সদস্যদের নামে প্রায় অর্ধশত কোটি টাকার সম্পদ গড়ে তুলেছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তার গ্রামের বাড়ি নাটোর জেলার লালপুর উপজেলার শ্রীরামগাতি গ্রামে। বাবা মহির উদ্দিন ছিলেন মসলা ব্যবসায়ী হাট-বাজার ও ফেরি করে ধনিয়া, জিরা, আদা, হলুদ, মরিচ, পেঁয়াজ-রসুনসহ মসলা বিক্রি করেই সংসার চালাতেন।

পরবর্তীতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এ চাকরি পাওয়ার পর থেকেই শহিদুল ইসলামের আর্থিক অবস্থার দ্রুত পরিবর্তন ঘটে বলে দাবি স্থানীয়দের।

 

সম্পদের বিবরণ যা প্রশ্ন তুলছে?

*অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্যে দাবি করা হয়েছে

*নিজ ও স্বজনদের নামে প্রায় শত বিঘা জমি ক্রয়

*গ্রামে বিলাসবহুল বাড়ি নির্মাণ

*প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ টাকায় জমিসহ মেহগনি বাগান ক্রয়

*বড় আকারের ডেইরি ফার্ম নির্মাণাধীন

*ঢাকায় একটি ফ্ল্যাট ও ব্যক্তিগত গাড়ি ক্রয়

 

অভিযোগকারীদের দাবি, এসব সম্পদ তার ঘোষিত বা জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

চোরাচালান সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ?

একাধিক সূত্রের দাবি, বিভিন্ন বন্দরে দায়িত্ব পালনের সময় কিছু চোরাকারবারীর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। মোটা অংকের কমিশনের বিনিময়ে পাচারকৃত পণ্য পারাপারে সহযোগিতার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি ১০ কেজি স্বর্ণ চোরাচালান সংক্রান্ত একটি ঘটনার কথাও স্থানীয়ভাবে আলোচিত হচ্ছে, যদিও এ বিষয়ে কোনো সরকারি নথি এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।

বক্তব্য পাওয়া যায়নি?

অভিযোগের বিষয়ে শহিদুল ইসলাম কাঁকনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার টেলিফোনে সংযোগ পাওয়া যায়নি।

 

নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি?

দুর্নীতির অভিযোগ সত্য হলে তা রাষ্ট্রীয় রাজস্ব ও আইনশৃঙ্খলার জন্য বড় হুমকি বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা। তারা বলছেন, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।

অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি আইনের চোখে নির্দোষ তবে জনস্বার্থে অভিযোগগুলোর স্বচ্ছ তদন্ত এখন সময়ের।

পর্ব ১

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

jogo hosterbd

Popular Post
error: Content is protected !!

রাজশাহীতে শুল্ক গোয়েন্দার (এআরও) শহিদুল ইসলামের সম্পদ নিয়ে প্রশ্ন

Update Time : ০১:৩৯:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বিশেষ প্রতিবেদক: দুর্নীতিবাজ ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। এরই মধ্যে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর-এর রাজশাহী কার্যালয়ে কর্মরত সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা (এআরও) শহিদুল ইসলাম কাঁকনের বিপুল সম্পদ অর্জন নিয়ে উঠেছে গুরুতর অভিযোগ। সচেতন মহল বিষয়টি নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

 

এক যুগে অর্ধশত কোটি টাকার সম্পদের অভিযোগ

অভিযোগ রয়েছে, প্রায় এক যুগের চাকরি জীবনে শহিদুল ইসলাম কাঁকন নিজ ও পরিবারের সদস্যদের নামে প্রায় অর্ধশত কোটি টাকার সম্পদ গড়ে তুলেছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তার গ্রামের বাড়ি নাটোর জেলার লালপুর উপজেলার শ্রীরামগাতি গ্রামে। বাবা মহির উদ্দিন ছিলেন মসলা ব্যবসায়ী হাট-বাজার ও ফেরি করে ধনিয়া, জিরা, আদা, হলুদ, মরিচ, পেঁয়াজ-রসুনসহ মসলা বিক্রি করেই সংসার চালাতেন।

পরবর্তীতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এ চাকরি পাওয়ার পর থেকেই শহিদুল ইসলামের আর্থিক অবস্থার দ্রুত পরিবর্তন ঘটে বলে দাবি স্থানীয়দের।

 

সম্পদের বিবরণ যা প্রশ্ন তুলছে?

*অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্যে দাবি করা হয়েছে

*নিজ ও স্বজনদের নামে প্রায় শত বিঘা জমি ক্রয়

*গ্রামে বিলাসবহুল বাড়ি নির্মাণ

*প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ টাকায় জমিসহ মেহগনি বাগান ক্রয়

*বড় আকারের ডেইরি ফার্ম নির্মাণাধীন

*ঢাকায় একটি ফ্ল্যাট ও ব্যক্তিগত গাড়ি ক্রয়

 

অভিযোগকারীদের দাবি, এসব সম্পদ তার ঘোষিত বা জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

চোরাচালান সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ?

একাধিক সূত্রের দাবি, বিভিন্ন বন্দরে দায়িত্ব পালনের সময় কিছু চোরাকারবারীর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। মোটা অংকের কমিশনের বিনিময়ে পাচারকৃত পণ্য পারাপারে সহযোগিতার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি ১০ কেজি স্বর্ণ চোরাচালান সংক্রান্ত একটি ঘটনার কথাও স্থানীয়ভাবে আলোচিত হচ্ছে, যদিও এ বিষয়ে কোনো সরকারি নথি এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।

বক্তব্য পাওয়া যায়নি?

অভিযোগের বিষয়ে শহিদুল ইসলাম কাঁকনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার টেলিফোনে সংযোগ পাওয়া যায়নি।

 

নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি?

দুর্নীতির অভিযোগ সত্য হলে তা রাষ্ট্রীয় রাজস্ব ও আইনশৃঙ্খলার জন্য বড় হুমকি বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা। তারা বলছেন, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।

অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি আইনের চোখে নির্দোষ তবে জনস্বার্থে অভিযোগগুলোর স্বচ্ছ তদন্ত এখন সময়ের।

পর্ব ১