বাংলাদেশ ১০:৫৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নবীগঞ্জে শাকিলের কুটির জোর কোথায়?

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৮:০৫:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১৩৭ Time View

বিশেষ প্রতিবেদক: নবীগঞ্জ আজ প্রশ্নে বিদ্ধ। নবীগঞ্জ প্রেসক্লাব এর অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে দুই প্রাণ ঝরে যাওয়ার পরও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তৈরি হয়েছে গভীর সন্দেহ ও ক্ষোভ। হত্যার অভিযোগ, প্রকাশ্য হামলা, পক্ষপাতের অভিযোগ সব মিলিয়ে জনমনে একটাই প্রশ্ন: অপরাধীরা কি ক্ষমতার ছায়াতেই নিরাপদ?

 

*দুই প্রাণহানি, তবু বিচারহীনতার অভিযোগ?

প্রেসক্লাব কোন্দলে দুইজনের প্রাণহানির পরও দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই এমন অভিযোগ তুলছেন স্থানীয় সাংবাদিকরা। তদন্তের গতি শ্লথ কেন? প্রকৃত দায়ীদের গ্রেপ্তার ও আইনের আওতায় আনতে বিলম্বের কারণ কী? এসব প্রশ্নের জবাব মিলছে না বলেই ক্ষোভ বাড়ছে।

শহরের প্রাণকেন্দ্রে এক সাংবাদিকের ওপর প্রকাশ্যে হামলার ঘটনাও ন্যায়বিচারের মুখ দেখেনি বলে অভিযোগ। প্রশাসনের হস্তক্ষেপের আশ্বাস মিললেও বাস্তবে দৃশ্যমান পদক্ষেপ না থাকায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন পেশাজীবীরা।

 

*প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুললেন সাংবাদিকরা?

সাংবাদিক আশাহিদ আলী আশা প্রশ্ন তুলেছেন, “আইন যদি ক্ষমতাবানদের জন্য আলাদা হয়, তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে?” তার নেতৃত্বে একাংশের সাংবাদিকরা প্রশাসনের জবাবদিহি দাবি করেছেন।

তাদের অভিযোগ, উপজেলা প্রশাসন ক্লাবের অভ্যন্তরীণ সংকট নিরসনে কার্যকর ভূমিকা না নিয়ে বরং সংশ্লিষ্ট বিতর্কিত পক্ষকে বিভিন্ন সভা-মিটিংয়ে আমন্ত্রণ জানাচ্ছে।

 

*নির্বাচন কার্ড কেলেঙ্কারি?

জাতীয় নির্বাচনে প্রেসক্লাবের ব্যানারে কিছু রাজনৈতিক নেতার পর্যবেক্ষক কার্ড পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে, অথচ অনেক মূলধারার সাংবাদিক নাকি বঞ্চিত হয়েছেন। প্রশ্ন উঠেছে কারা এই সুবিধা পেলেন, আর কারা বঞ্চিত হলেন? প্রশাসনের কোনো প্রভাবশালী চক্র কি এখানে ভূমিকা রেখেছে?

 

*বিতর্কের কেন্দ্রে কর্মকর্তা শাকিল আহমেদ?

উপজেলার পল্লী জীবিকায়ন প্রকল্পের কর্মকর্তা শাকিল আহমেদের বিরুদ্ধে স্থানীয়ভাবে পক্ষপাতের অভিযোগ উঠেছে। সমালোচকদের দাবি, তিনি প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে প্রেসক্লাবের একটি পক্ষকে সহায়তা করছেন।

 

নতুন ইউএনও যোগদানের পর বিভিন্ন সভা ও মতবিনিময়ে তার উপস্থিতি লক্ষ করা গেলেও, বহু সাংবাদিক নাকি আমন্ত্রণ পাননি। আইনশৃঙ্খলা বৈঠকেও একই চিত্র দেখা গেছে বলে অভিযোগ। প্রশ্ন উঠছে একজন প্রকল্প কর্মকর্তা কীভাবে এত প্রভাব বিস্তার করেন?

তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য জানা যায়নি। তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে কি না—এ প্রশ্নও এখন গুরুত্বপূর্ণ।

 

*প্রশাসন নীরব কেন?

দুই প্রাণহানির মতো গুরুতর ঘটনার পরও যদি দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্ত না হয়, তাহলে আইনশৃঙ্খলার বার্তা কী দাঁড়ায়? উপজেলা প্রশাসন নিরপেক্ষ কিনা—সচেতন মহলে সেই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে উঠছে।

 

*নবীগঞ্জবাসীর দাবি?

*দুই প্রাণহানির ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত?

*অভিযুক্তদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা?

*প্রশাসনিক পক্ষপাতের অভিযোগ খতিয়ে দেখা?

*সাংবাদিকদের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ বন্ধ?

 

আইন সবার জন্য সমান এ নীতি বাস্তবে প্রতিষ্ঠিত না হলে বিচারহীনতার সংস্কৃতি আরও গভীর হবে। ক্ষত শুধু দুই পরিবারের নয়, আঘাত পুরো সমাজের ওপরই পড়বে।

এখন সময় স্বচ্ছ তদন্ত, জবাবদিহি এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার। প্রশ্ন রয়ে গেছে নবীগঞ্জে ন্যায়বিচার কি সত্যিই নিশ্চিত হবে, নাকি ক্ষমতার ছায়ায় সত্য চাপা পড়েই থাকবে?

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

jogo hosterbd

Popular Post
error: Content is protected !!

নবীগঞ্জে শাকিলের কুটির জোর কোথায়?

Update Time : ০৮:০৫:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বিশেষ প্রতিবেদক: নবীগঞ্জ আজ প্রশ্নে বিদ্ধ। নবীগঞ্জ প্রেসক্লাব এর অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে দুই প্রাণ ঝরে যাওয়ার পরও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তৈরি হয়েছে গভীর সন্দেহ ও ক্ষোভ। হত্যার অভিযোগ, প্রকাশ্য হামলা, পক্ষপাতের অভিযোগ সব মিলিয়ে জনমনে একটাই প্রশ্ন: অপরাধীরা কি ক্ষমতার ছায়াতেই নিরাপদ?

 

*দুই প্রাণহানি, তবু বিচারহীনতার অভিযোগ?

প্রেসক্লাব কোন্দলে দুইজনের প্রাণহানির পরও দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই এমন অভিযোগ তুলছেন স্থানীয় সাংবাদিকরা। তদন্তের গতি শ্লথ কেন? প্রকৃত দায়ীদের গ্রেপ্তার ও আইনের আওতায় আনতে বিলম্বের কারণ কী? এসব প্রশ্নের জবাব মিলছে না বলেই ক্ষোভ বাড়ছে।

শহরের প্রাণকেন্দ্রে এক সাংবাদিকের ওপর প্রকাশ্যে হামলার ঘটনাও ন্যায়বিচারের মুখ দেখেনি বলে অভিযোগ। প্রশাসনের হস্তক্ষেপের আশ্বাস মিললেও বাস্তবে দৃশ্যমান পদক্ষেপ না থাকায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন পেশাজীবীরা।

 

*প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুললেন সাংবাদিকরা?

সাংবাদিক আশাহিদ আলী আশা প্রশ্ন তুলেছেন, “আইন যদি ক্ষমতাবানদের জন্য আলাদা হয়, তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে?” তার নেতৃত্বে একাংশের সাংবাদিকরা প্রশাসনের জবাবদিহি দাবি করেছেন।

তাদের অভিযোগ, উপজেলা প্রশাসন ক্লাবের অভ্যন্তরীণ সংকট নিরসনে কার্যকর ভূমিকা না নিয়ে বরং সংশ্লিষ্ট বিতর্কিত পক্ষকে বিভিন্ন সভা-মিটিংয়ে আমন্ত্রণ জানাচ্ছে।

 

*নির্বাচন কার্ড কেলেঙ্কারি?

জাতীয় নির্বাচনে প্রেসক্লাবের ব্যানারে কিছু রাজনৈতিক নেতার পর্যবেক্ষক কার্ড পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে, অথচ অনেক মূলধারার সাংবাদিক নাকি বঞ্চিত হয়েছেন। প্রশ্ন উঠেছে কারা এই সুবিধা পেলেন, আর কারা বঞ্চিত হলেন? প্রশাসনের কোনো প্রভাবশালী চক্র কি এখানে ভূমিকা রেখেছে?

 

*বিতর্কের কেন্দ্রে কর্মকর্তা শাকিল আহমেদ?

উপজেলার পল্লী জীবিকায়ন প্রকল্পের কর্মকর্তা শাকিল আহমেদের বিরুদ্ধে স্থানীয়ভাবে পক্ষপাতের অভিযোগ উঠেছে। সমালোচকদের দাবি, তিনি প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে প্রেসক্লাবের একটি পক্ষকে সহায়তা করছেন।

 

নতুন ইউএনও যোগদানের পর বিভিন্ন সভা ও মতবিনিময়ে তার উপস্থিতি লক্ষ করা গেলেও, বহু সাংবাদিক নাকি আমন্ত্রণ পাননি। আইনশৃঙ্খলা বৈঠকেও একই চিত্র দেখা গেছে বলে অভিযোগ। প্রশ্ন উঠছে একজন প্রকল্প কর্মকর্তা কীভাবে এত প্রভাব বিস্তার করেন?

তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য জানা যায়নি। তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে কি না—এ প্রশ্নও এখন গুরুত্বপূর্ণ।

 

*প্রশাসন নীরব কেন?

দুই প্রাণহানির মতো গুরুতর ঘটনার পরও যদি দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্ত না হয়, তাহলে আইনশৃঙ্খলার বার্তা কী দাঁড়ায়? উপজেলা প্রশাসন নিরপেক্ষ কিনা—সচেতন মহলে সেই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে উঠছে।

 

*নবীগঞ্জবাসীর দাবি?

*দুই প্রাণহানির ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত?

*অভিযুক্তদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা?

*প্রশাসনিক পক্ষপাতের অভিযোগ খতিয়ে দেখা?

*সাংবাদিকদের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ বন্ধ?

 

আইন সবার জন্য সমান এ নীতি বাস্তবে প্রতিষ্ঠিত না হলে বিচারহীনতার সংস্কৃতি আরও গভীর হবে। ক্ষত শুধু দুই পরিবারের নয়, আঘাত পুরো সমাজের ওপরই পড়বে।

এখন সময় স্বচ্ছ তদন্ত, জবাবদিহি এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার। প্রশ্ন রয়ে গেছে নবীগঞ্জে ন্যায়বিচার কি সত্যিই নিশ্চিত হবে, নাকি ক্ষমতার ছায়ায় সত্য চাপা পড়েই থাকবে?