বাংলাদেশ ০৯:২৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দুবাগী ছাহেব বাড়িতে পবিত্র মাহে রামাদ্বানের খাদ্য সামগ্রী বিতরণ

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:০৩:০৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬
  • ৩৮ Time View

সিলেটের বিয়ানীবাজারে হযরত আল্লামা মুফতি মুজাহিদ উদ্দিন চৌধুরী দুবাগী ছাহেব রাহমাতুল্লাহ আলাইহি ট্রাষ্টের উদ্যোগে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও পবিত্র রামাদ্বান মাস উপলক্ষে তাঁর নিজ বাড়ীতে এলাকার শতাধিক গরীব ও অসহায় পরিবারের মধ্যে নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

 

২৬ ফেব্রুয়ারী বাদ জোহর, দুবাগ গ্রামের বিশিষ্ট মুরব্বি জনাব আব্দুল জলিল চৌধুরীর সভাপত্বিতে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ আনুষ্ঠানিক ভাবে অনুষ্ঠিত হয়। বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন জকিগঞ্জ গাজীর মোকাম মাদ্রাসার সিনিয়র শিক্ষক মাওলানা আব্দুল মালিক, বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন দুবাগ বাজার দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা আব্দুল কাদির, আরো বক্তব্য রাখেন দক্ষিণ দুবাগ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা কাজী আব্দুল কাদির, দুবাগ মক্তব মসজিদের ইমাম মাওলানা মাইনুল ইসলাম, দক্ষিণ দুবাগ বায়তুল আমান জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা নাজমুল ইসলাম সহ এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

 

খাদ্য সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, দুবাগ গ্রামের গৌরব আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ইসলামী চিন্তাবিদ, পীরে কামিল, হযরত আল্লামা মুফতি মুজাহিদ উদ্দিন চৌধুরী দুবাগী ছাহেব কিবলাহ রাহমাতুল্লাহ আলাইহি এর উছিলায় বিশ্বের আনাচে কানাচে দুবাগ গ্রামের পরিচিতি ও সুনাম অর্জন হয়েছে। দুবাগী ছাহেব শুধু মাত্র একজন বিশ্ব বিখ্যাত মুফতি, মুহাদ্দিস বা নন্দিত লেখক ছিলেন না। খেদমতে খলক বা আর্ত মানবতার সেবায় তাঁর বিশাল খেদমত ছিল।

 

তিনি নিজ এলাকা সহ বৃহত্তর সিলেটের বিভিন্ন স্থানে নিরবে নিভৃতে গরীব এতিম, বিধবা, প্রতিবন্ধী অসহায়দের সার্বিক সাহায্য-সহযোগিতা ও সেবামূলক কাজে প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি মাসজিদ-মাদ্রাসা ইত্যাদি নির্মাণে সাহায্যের হাত প্রসারিত করতেন। এতিম-অনাথদের শিক্ষার ব্যবস্থা করতেন। অস্বচ্ছল শিক্ষার্থীদের সহায়তা, অসহায় মানুষকে ঘর তৈরী ও মেরামত, ঢেউটিন বিতরণ, নিরাপদ পানি পানের জন্য টিউবওয়েল স্থাপন, চিকিৎসা বঞ্চিত ব্যক্তিদেরকে সাহায্য, আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল পরিবারের মেয়েদের বিয়েতে আর্থিক সহায়তাসহ বিভিন্ন দুর্যোগ ও আপদকালীন সময়ে অসহায় অস্বচ্ছল লোকজনকে সার্বিকভাবে সহায়তা ও সহযোগিতা সহ সামাজিক সকল কর্মকান্ডে তিনি অনন্য ভূমিকা রেখেছেন।

 

এছাড়া আল্লামা দুবাগী ছাহেব রাহমাতুল্লাহ আলাইহির তিনজন সুযোগ্য ছাহেবজাদা বিদেশের মাটিতে থাকা সত্ত্বেও দেশের মানুষের কথা ভুলে যাননি। মাতৃভূমির অসহায় ও দুঃস্থ মানুষের কথা বিবেচনা করে সব সময় সাহায্য সহযোগিতা করেতেছেন।

 

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন- ‘যখন মানুষ মারা যায়, তিনটি কাজ ছাড়া মানুষের আমলের দরজা বন্ধ হয়ে যায়। প্রথমটি হলো অর্জিত ধন-সম্পদ থেকে সাদকা করা, যে দানের সাওয়াব অবিরাম দানকারী মৃতবক্তির আমল নামায় পৌঁছবে। দ্বিতীয়টি হলো এমন জ্ঞান অর্জন করা; যার দ্বারা মানুষ উপকৃত হবে। আর তৃতীয়টি হলো এমন নেক সন্তান রেখে যাওয়া; যে সন্তান মৃত্যুর পর মৃতব্যক্তির জন্য আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করবে। এ হাদীসটি সর্বদিক দিয়ে আল্লামা দুবাগী সাহেব রাহিমাহুল্লাহর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

 

পরিশেষে উপস্থিত সবাই আল্লাহর দরবারে করজোড়ে দোয়া করেন তিনি যেন ইসলামের নিবেদিত প্রাণ মনীষী হযরত আল্লামা মুফতি মুজাহিদ উদ্দীন চৌধুরী দুবাগী ছাহেব ক্বিবলাহ রাহমাতুল্লাহ আলাইহির কবরকে জান্নাতের বাগান বানিয়ে দিন এবং তাঁর দরজা বুলুন্দি করেন। এছাড়া হযরতের রেখে যাওয়া সকল খেদমত, ঐতিহ্য ও স্মৃতিকে আজীবন হেফাজত রাখেন। দোয়া পরিচালনা করেন মাওলানা আব্দুল মালিক।

 

পরে চাল, ডাল, আলু, ভোজ্য তেল, ছোলা সহ বিভিন্ন পন্যের খাদ্য ও ইফতার সামগ্রীর বিতরণ করা হয়। এসব খাদ্য সামগ্রী পেয়ে গরীব অসহায় দরিদ্র পরিবারগুলো খুবই আনন্দিত হয়েছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

jogo hosterbd

Popular Post
error: Content is protected !!

দুবাগী ছাহেব বাড়িতে পবিত্র মাহে রামাদ্বানের খাদ্য সামগ্রী বিতরণ

Update Time : ১১:০৩:০৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬

সিলেটের বিয়ানীবাজারে হযরত আল্লামা মুফতি মুজাহিদ উদ্দিন চৌধুরী দুবাগী ছাহেব রাহমাতুল্লাহ আলাইহি ট্রাষ্টের উদ্যোগে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও পবিত্র রামাদ্বান মাস উপলক্ষে তাঁর নিজ বাড়ীতে এলাকার শতাধিক গরীব ও অসহায় পরিবারের মধ্যে নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

 

২৬ ফেব্রুয়ারী বাদ জোহর, দুবাগ গ্রামের বিশিষ্ট মুরব্বি জনাব আব্দুল জলিল চৌধুরীর সভাপত্বিতে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ আনুষ্ঠানিক ভাবে অনুষ্ঠিত হয়। বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন জকিগঞ্জ গাজীর মোকাম মাদ্রাসার সিনিয়র শিক্ষক মাওলানা আব্দুল মালিক, বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন দুবাগ বাজার দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা আব্দুল কাদির, আরো বক্তব্য রাখেন দক্ষিণ দুবাগ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা কাজী আব্দুল কাদির, দুবাগ মক্তব মসজিদের ইমাম মাওলানা মাইনুল ইসলাম, দক্ষিণ দুবাগ বায়তুল আমান জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা নাজমুল ইসলাম সহ এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

 

খাদ্য সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, দুবাগ গ্রামের গৌরব আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ইসলামী চিন্তাবিদ, পীরে কামিল, হযরত আল্লামা মুফতি মুজাহিদ উদ্দিন চৌধুরী দুবাগী ছাহেব কিবলাহ রাহমাতুল্লাহ আলাইহি এর উছিলায় বিশ্বের আনাচে কানাচে দুবাগ গ্রামের পরিচিতি ও সুনাম অর্জন হয়েছে। দুবাগী ছাহেব শুধু মাত্র একজন বিশ্ব বিখ্যাত মুফতি, মুহাদ্দিস বা নন্দিত লেখক ছিলেন না। খেদমতে খলক বা আর্ত মানবতার সেবায় তাঁর বিশাল খেদমত ছিল।

 

তিনি নিজ এলাকা সহ বৃহত্তর সিলেটের বিভিন্ন স্থানে নিরবে নিভৃতে গরীব এতিম, বিধবা, প্রতিবন্ধী অসহায়দের সার্বিক সাহায্য-সহযোগিতা ও সেবামূলক কাজে প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি মাসজিদ-মাদ্রাসা ইত্যাদি নির্মাণে সাহায্যের হাত প্রসারিত করতেন। এতিম-অনাথদের শিক্ষার ব্যবস্থা করতেন। অস্বচ্ছল শিক্ষার্থীদের সহায়তা, অসহায় মানুষকে ঘর তৈরী ও মেরামত, ঢেউটিন বিতরণ, নিরাপদ পানি পানের জন্য টিউবওয়েল স্থাপন, চিকিৎসা বঞ্চিত ব্যক্তিদেরকে সাহায্য, আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল পরিবারের মেয়েদের বিয়েতে আর্থিক সহায়তাসহ বিভিন্ন দুর্যোগ ও আপদকালীন সময়ে অসহায় অস্বচ্ছল লোকজনকে সার্বিকভাবে সহায়তা ও সহযোগিতা সহ সামাজিক সকল কর্মকান্ডে তিনি অনন্য ভূমিকা রেখেছেন।

 

এছাড়া আল্লামা দুবাগী ছাহেব রাহমাতুল্লাহ আলাইহির তিনজন সুযোগ্য ছাহেবজাদা বিদেশের মাটিতে থাকা সত্ত্বেও দেশের মানুষের কথা ভুলে যাননি। মাতৃভূমির অসহায় ও দুঃস্থ মানুষের কথা বিবেচনা করে সব সময় সাহায্য সহযোগিতা করেতেছেন।

 

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন- ‘যখন মানুষ মারা যায়, তিনটি কাজ ছাড়া মানুষের আমলের দরজা বন্ধ হয়ে যায়। প্রথমটি হলো অর্জিত ধন-সম্পদ থেকে সাদকা করা, যে দানের সাওয়াব অবিরাম দানকারী মৃতবক্তির আমল নামায় পৌঁছবে। দ্বিতীয়টি হলো এমন জ্ঞান অর্জন করা; যার দ্বারা মানুষ উপকৃত হবে। আর তৃতীয়টি হলো এমন নেক সন্তান রেখে যাওয়া; যে সন্তান মৃত্যুর পর মৃতব্যক্তির জন্য আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করবে। এ হাদীসটি সর্বদিক দিয়ে আল্লামা দুবাগী সাহেব রাহিমাহুল্লাহর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

 

পরিশেষে উপস্থিত সবাই আল্লাহর দরবারে করজোড়ে দোয়া করেন তিনি যেন ইসলামের নিবেদিত প্রাণ মনীষী হযরত আল্লামা মুফতি মুজাহিদ উদ্দীন চৌধুরী দুবাগী ছাহেব ক্বিবলাহ রাহমাতুল্লাহ আলাইহির কবরকে জান্নাতের বাগান বানিয়ে দিন এবং তাঁর দরজা বুলুন্দি করেন। এছাড়া হযরতের রেখে যাওয়া সকল খেদমত, ঐতিহ্য ও স্মৃতিকে আজীবন হেফাজত রাখেন। দোয়া পরিচালনা করেন মাওলানা আব্দুল মালিক।

 

পরে চাল, ডাল, আলু, ভোজ্য তেল, ছোলা সহ বিভিন্ন পন্যের খাদ্য ও ইফতার সামগ্রীর বিতরণ করা হয়। এসব খাদ্য সামগ্রী পেয়ে গরীব অসহায় দরিদ্র পরিবারগুলো খুবই আনন্দিত হয়েছেন।