বাংলাদেশ ১০:০৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিলেটের ওসমানীতে ‘ডিসকাউন্ট’ বাণিজ্যের সিন্ডিকেট! ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডে রোগী জিম্মির অভিযোগ

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৮:০৩:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬
  • ১২১ Time View

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সিলেট বিভাগের সর্ববৃহৎ সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্র। নিম্নআয়ের মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল হিসেবে পরিচিত এই হাসপাতালে প্রতিদিন ৩–৪ হাজার রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। কিন্তু সেবার বদলে ভোগান্তি, হয়রানি আর টাকার খেলার অভিযোগ দিন দিন বাড়ছে।

 

১৯৬২ সালে ৩০০ শয্যা নিয়ে যাত্রা শুরু করা হাসপাতালটি ১৯৭৮ সালে ৫০০ এবং ১৯৯৮ সালে ৯০০ শয্যায় উন্নীত হয়। অবকাঠামো বেড়েছে, কিন্তু রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ মানবিক সেবা বাড়েনি; বরং একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য বেড়েছে।

 

অভিযোগ রয়েছে, ৫ম তলার ৩৩ নম্বর মেডিসিন ওয়ার্ডে দায়িত্বপ্রাপ্ত সিনিয়র নার্স সাকিরা ও ফখরুল ডাক্তারদের দেওয়া সরকারি টেস্ট স্লিপ কৌশলে রোগীর স্বজনদের কাছ থেকে নিয়ে বাইরে নির্দিষ্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পাঠান।

স্বজনদের বোঝানো হয় সরকারি ল্যাবের রিপোর্ট নির্ভুল নয়, লাইনে দাঁড়ালে দেরি হবে,বাইরে করালে “ডিসকাউন্ট” পাওয়া যাবে, এই প্রক্রিয়ায় রোগীদের পাঠানো হয় বিশেষ করে কুইন্স হাসপাতাল ডায়াগনস্টিক সেন্টার–এ। অভিযোগ, প্রতি পরীক্ষায় ৪০% পর্যন্ত কমিশন নির্ধারিত রয়েছে সংশ্লিষ্টদের নামে।

প্রতিদিন ডিউটি শেষে নির্দিষ্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কালেকশন ম্যান হাসপাতালের ভেতরেই খামে করে কমিশনের টাকা পৌঁছে দেন এমন তথ্যও উঠে এসেছে অনুসন্ধানে।

 

“ডিসকাউন্ট” নামে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ?

▪️ সুনামগঞ্জের এক রোগীর স্বজন?

দুই দিন ফ্লোরে শুয়ে থাকার পর নার্স নিজেই এসে টেস্ট সম্পর্কে জানতে চান। পরে বাইরে করানোর পরামর্শ দেন।

▪️ ওসমানীনগরের খাদিজা বেগম

তার ছেলের পরীক্ষার জন্য ২২০০ টাকা নেওয়া হয়। পরে মেডিনোভা ডায়াগনস্টিক–এ খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন একই পরীক্ষার খরচ ১৬৭০ টাকা। অভিযোগ জানালে বলা হয়“মেডিনোভা ভুল হিসাব দিয়েছে।”

▪️ খদিমনগরের সফিক মিয়া

১৮০০ টাকায় পরীক্ষা করানো হয়। পরে পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার–এ গিয়ে জানতে পারেন একই পরীক্ষার মূল্য ১৩৬০ টাকা। প্রতিবাদ করলে আনসার ও পুলিশের ভয় দেখানোর অভিযোগ করেন তিনি।

 

রিলিজ পেতেও ‘খুশি’ করতে হয়?

ভুক্তভোগীদের দাবি, রোগী সুস্থ হওয়ার পর ছাড়পত্র পেতেও সংশ্লিষ্ট নার্সদের “খুশি” করতে হয়। অন্যথায় নানা অজুহাতে বিলম্ব ও হয়রানির শিকার হতে হয়।

 

ভেতরের কণ্ঠও আতঙ্কে?

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন নার্স বলেন, এ বিষয়ে একাধিকবার আপত্তি জানালেও উল্টো ভয়ভীতি দেখানো হয়। তাদের ভাষ্য“সংবাদ প্রকাশ করেও লাভ নেই, অদৃশ্য শক্তির কারণে ব্যবস্থা নেওয়া হয় না।”

 

কর্তৃপক্ষের নীরবতা?

প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় একাধিকবার অভিযোগ প্রকাশের পরও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ দৃশ্যমান নয়। এতে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—সরকারি হাসপাতালের ভেতরে যদি এভাবে কমিশন সিন্ডিকেট সক্রিয় থাকে, তাহলে নিম্নআয়ের মানুষ যাবে কোথায়?

 

ভুক্তভোগীদের দাবি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত?

কমিশন করে সিন্ডিকেটের সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা। সরকারি ল্যাব ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিশ্চিত, রোগী হয়রানি বন্ধে মনিটরিং টিম গঠন।

সিলেটবাসীর প্রত্যাশা মানবিক সেবার জন্য প্রতিষ্ঠিত এই হাসপাতাল যেন আবারও আস্থার জায়গা হয়ে ওঠে, আতঙ্কের নয়।

 

এবিষয়ে জানতে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডাক্তার সৌমিত্র চক্রবর্তীর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করে সিনিয়র নার্স সাকিরা ও ফখরুল এর অপকর্ম সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমি এখন দায়িত্বে নেই, তাই তাদের সাথে যোগাযোগও করা যাবেনা তবে আপনি ড. মাহবুবুল আলম এর সাথে যোগাযোগ করতে পরামর্শ দেন।

 

এবিষয়ে জানতে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক এর অফিসিয়াল ল্যান্ড ফোনে যোগাযোগ করলে ফোন রিসিভ না হওয়ায় তাহার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

jogo hosterbd

Popular Post
error: Content is protected !!

সিলেটের ওসমানীতে ‘ডিসকাউন্ট’ বাণিজ্যের সিন্ডিকেট! ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডে রোগী জিম্মির অভিযোগ

Update Time : ০৮:০৩:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সিলেট বিভাগের সর্ববৃহৎ সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্র। নিম্নআয়ের মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল হিসেবে পরিচিত এই হাসপাতালে প্রতিদিন ৩–৪ হাজার রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। কিন্তু সেবার বদলে ভোগান্তি, হয়রানি আর টাকার খেলার অভিযোগ দিন দিন বাড়ছে।

 

১৯৬২ সালে ৩০০ শয্যা নিয়ে যাত্রা শুরু করা হাসপাতালটি ১৯৭৮ সালে ৫০০ এবং ১৯৯৮ সালে ৯০০ শয্যায় উন্নীত হয়। অবকাঠামো বেড়েছে, কিন্তু রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ মানবিক সেবা বাড়েনি; বরং একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য বেড়েছে।

 

অভিযোগ রয়েছে, ৫ম তলার ৩৩ নম্বর মেডিসিন ওয়ার্ডে দায়িত্বপ্রাপ্ত সিনিয়র নার্স সাকিরা ও ফখরুল ডাক্তারদের দেওয়া সরকারি টেস্ট স্লিপ কৌশলে রোগীর স্বজনদের কাছ থেকে নিয়ে বাইরে নির্দিষ্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পাঠান।

স্বজনদের বোঝানো হয় সরকারি ল্যাবের রিপোর্ট নির্ভুল নয়, লাইনে দাঁড়ালে দেরি হবে,বাইরে করালে “ডিসকাউন্ট” পাওয়া যাবে, এই প্রক্রিয়ায় রোগীদের পাঠানো হয় বিশেষ করে কুইন্স হাসপাতাল ডায়াগনস্টিক সেন্টার–এ। অভিযোগ, প্রতি পরীক্ষায় ৪০% পর্যন্ত কমিশন নির্ধারিত রয়েছে সংশ্লিষ্টদের নামে।

প্রতিদিন ডিউটি শেষে নির্দিষ্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কালেকশন ম্যান হাসপাতালের ভেতরেই খামে করে কমিশনের টাকা পৌঁছে দেন এমন তথ্যও উঠে এসেছে অনুসন্ধানে।

 

“ডিসকাউন্ট” নামে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ?

▪️ সুনামগঞ্জের এক রোগীর স্বজন?

দুই দিন ফ্লোরে শুয়ে থাকার পর নার্স নিজেই এসে টেস্ট সম্পর্কে জানতে চান। পরে বাইরে করানোর পরামর্শ দেন।

▪️ ওসমানীনগরের খাদিজা বেগম

তার ছেলের পরীক্ষার জন্য ২২০০ টাকা নেওয়া হয়। পরে মেডিনোভা ডায়াগনস্টিক–এ খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন একই পরীক্ষার খরচ ১৬৭০ টাকা। অভিযোগ জানালে বলা হয়“মেডিনোভা ভুল হিসাব দিয়েছে।”

▪️ খদিমনগরের সফিক মিয়া

১৮০০ টাকায় পরীক্ষা করানো হয়। পরে পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার–এ গিয়ে জানতে পারেন একই পরীক্ষার মূল্য ১৩৬০ টাকা। প্রতিবাদ করলে আনসার ও পুলিশের ভয় দেখানোর অভিযোগ করেন তিনি।

 

রিলিজ পেতেও ‘খুশি’ করতে হয়?

ভুক্তভোগীদের দাবি, রোগী সুস্থ হওয়ার পর ছাড়পত্র পেতেও সংশ্লিষ্ট নার্সদের “খুশি” করতে হয়। অন্যথায় নানা অজুহাতে বিলম্ব ও হয়রানির শিকার হতে হয়।

 

ভেতরের কণ্ঠও আতঙ্কে?

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন নার্স বলেন, এ বিষয়ে একাধিকবার আপত্তি জানালেও উল্টো ভয়ভীতি দেখানো হয়। তাদের ভাষ্য“সংবাদ প্রকাশ করেও লাভ নেই, অদৃশ্য শক্তির কারণে ব্যবস্থা নেওয়া হয় না।”

 

কর্তৃপক্ষের নীরবতা?

প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় একাধিকবার অভিযোগ প্রকাশের পরও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ দৃশ্যমান নয়। এতে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—সরকারি হাসপাতালের ভেতরে যদি এভাবে কমিশন সিন্ডিকেট সক্রিয় থাকে, তাহলে নিম্নআয়ের মানুষ যাবে কোথায়?

 

ভুক্তভোগীদের দাবি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত?

কমিশন করে সিন্ডিকেটের সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা। সরকারি ল্যাব ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিশ্চিত, রোগী হয়রানি বন্ধে মনিটরিং টিম গঠন।

সিলেটবাসীর প্রত্যাশা মানবিক সেবার জন্য প্রতিষ্ঠিত এই হাসপাতাল যেন আবারও আস্থার জায়গা হয়ে ওঠে, আতঙ্কের নয়।

 

এবিষয়ে জানতে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডাক্তার সৌমিত্র চক্রবর্তীর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করে সিনিয়র নার্স সাকিরা ও ফখরুল এর অপকর্ম সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমি এখন দায়িত্বে নেই, তাই তাদের সাথে যোগাযোগও করা যাবেনা তবে আপনি ড. মাহবুবুল আলম এর সাথে যোগাযোগ করতে পরামর্শ দেন।

 

এবিষয়ে জানতে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক এর অফিসিয়াল ল্যান্ড ফোনে যোগাযোগ করলে ফোন রিসিভ না হওয়ায় তাহার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।