বাংলাদেশ ০৮:২৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঈদের আগেই সর্বস্ব লুট: বগুড়ায় ‘মাংস সমিতি’র নামে ৭৭ লাখ টাকা আত্মসাৎ, উধাও জামায়াত নেতা

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৪:৩৩:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬
  • ৪১ Time View

১২শ’ পরিবার পথে বসে কান্নায় ভেঙে পড়েছে

বিকাল বার্তা ডেস্ক: পবিত্র ঈদুল ফিতরের ঠিক আগ মুহূর্তে বগুড়ায় সংঘটিত হয়েছে এক নির্মম প্রতারণা। ‘মাংস সমিতি’র নামে ফাঁদ পেতে ১২শ’ দরিদ্র পরিবারের রক্ত-ঘাম ঝরানো সঞ্চয়ের প্রায় ৭৭ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে গা ঢাকা দিয়েছেন এক জামায়াত নেতা ও তার সহযোগীরা। এই ঘটনায় এলাকায় চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

অভিযোগ রয়েছে, জামায়াতের শ্রমিক সংগঠন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের আঞ্চলিক সেক্রেটারি আব্দুল হাকিম পরিকল্পিতভাবে ‘ফোর স্টার সঞ্চয় সমিতি’ গড়ে তুলে দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষকে প্রতারণার জালে আটকে রাখেন। তার সহযোগী আকরাম ও শাহীন এই চক্রের সক্রিয় সদস্য হিসেবে কাজ করেছেন।

প্রতারণার কৌশল ছিল অত্যন্ত চতুর ছরজুড়ে মাত্র পাঁচ হাজার টাকা জমা দিলেই ঈদের আগে দেওয়া হবে ৮ কেজি গরুর মাংস। এই লোভনীয় প্রলোভনে পড়ে এলাকার নিম্নআয়ের মানুষ, বিশেষ করে অসহায় নারীরা, নিজেদের প্রয়োজন বঞ্চিত করে কষ্টার্জিত টাকা জমা দিতে থাকেন। রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে বিশ্বাস অর্জন করে এই চক্রটি নির্বিঘ্নে কোটি টাকার কাছাকাছি অর্থ হাতিয়ে নেয়।

নির্ধারিত সময় ১৬ মার্চ মাংস দেওয়ার কথা থাকলেও ভুক্তভোগীদের ১৭ মার্চ আসতে বলা হয় যা ছিল সময়ক্ষেপণের একটি কৌশল। এরপর ১৭ ও ১৮ মার্চ সমিতির কার্যালয় তালাবদ্ধ পাওয়া যায়। অভিযুক্তদের মোবাইল ফোন বন্ধ সব মিলিয়ে স্পষ্ট হয়ে ওঠে একটি সুপরিকল্পিত প্রতারণার চিত্র।

অভিযোগ উঠেছে, দীর্ঘদিন ধরেই এই কার্যক্রম চললেও স্থানীয়ভাবে কেউ কার্যকর নজরদারি করেনি। ফলে সহজ-সরল মানুষদের নিঃস্ব করে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছে প্রতারক চক্রটি।

বর্তমানে অভিযুক্ত আব্দুল হাকিম ও তার সহযোগীরা আত্মগোপনে রয়েছে। তাদের গ্রেপ্তার বা অর্থ উদ্ধারে এখনো দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই যা ভুক্তভোগীদের হতাশা আরও বাড়িয়ে তুলছে।

ঈদের আনন্দের বদলে এখন কান্না আর আহাজারিতে ভরে উঠেছে শত শত পরিবার। অনেকেই তাদের শেষ সম্বল হারিয়ে চরম মানবিক সংকটে পড়েছেন।

ভুক্তভোগীরা দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও তাদের অর্থ ফেরতের দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তারা।

এই ঘটনা শুধু একটি প্রতারণা নয় এটি দরিদ্র মানুষের বিশ্বাস, আশা ও ঈদের স্বপ্ন নির্মমভাবে ভেঙে দেওয়ার এক জঘন্য উদাহরণ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

jogo hosterbd

Popular Post
error: Content is protected !!

ঈদের আগেই সর্বস্ব লুট: বগুড়ায় ‘মাংস সমিতি’র নামে ৭৭ লাখ টাকা আত্মসাৎ, উধাও জামায়াত নেতা

Update Time : ০৪:৩৩:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬

১২শ’ পরিবার পথে বসে কান্নায় ভেঙে পড়েছে

বিকাল বার্তা ডেস্ক: পবিত্র ঈদুল ফিতরের ঠিক আগ মুহূর্তে বগুড়ায় সংঘটিত হয়েছে এক নির্মম প্রতারণা। ‘মাংস সমিতি’র নামে ফাঁদ পেতে ১২শ’ দরিদ্র পরিবারের রক্ত-ঘাম ঝরানো সঞ্চয়ের প্রায় ৭৭ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে গা ঢাকা দিয়েছেন এক জামায়াত নেতা ও তার সহযোগীরা। এই ঘটনায় এলাকায় চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

অভিযোগ রয়েছে, জামায়াতের শ্রমিক সংগঠন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের আঞ্চলিক সেক্রেটারি আব্দুল হাকিম পরিকল্পিতভাবে ‘ফোর স্টার সঞ্চয় সমিতি’ গড়ে তুলে দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষকে প্রতারণার জালে আটকে রাখেন। তার সহযোগী আকরাম ও শাহীন এই চক্রের সক্রিয় সদস্য হিসেবে কাজ করেছেন।

প্রতারণার কৌশল ছিল অত্যন্ত চতুর ছরজুড়ে মাত্র পাঁচ হাজার টাকা জমা দিলেই ঈদের আগে দেওয়া হবে ৮ কেজি গরুর মাংস। এই লোভনীয় প্রলোভনে পড়ে এলাকার নিম্নআয়ের মানুষ, বিশেষ করে অসহায় নারীরা, নিজেদের প্রয়োজন বঞ্চিত করে কষ্টার্জিত টাকা জমা দিতে থাকেন। রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে বিশ্বাস অর্জন করে এই চক্রটি নির্বিঘ্নে কোটি টাকার কাছাকাছি অর্থ হাতিয়ে নেয়।

নির্ধারিত সময় ১৬ মার্চ মাংস দেওয়ার কথা থাকলেও ভুক্তভোগীদের ১৭ মার্চ আসতে বলা হয় যা ছিল সময়ক্ষেপণের একটি কৌশল। এরপর ১৭ ও ১৮ মার্চ সমিতির কার্যালয় তালাবদ্ধ পাওয়া যায়। অভিযুক্তদের মোবাইল ফোন বন্ধ সব মিলিয়ে স্পষ্ট হয়ে ওঠে একটি সুপরিকল্পিত প্রতারণার চিত্র।

অভিযোগ উঠেছে, দীর্ঘদিন ধরেই এই কার্যক্রম চললেও স্থানীয়ভাবে কেউ কার্যকর নজরদারি করেনি। ফলে সহজ-সরল মানুষদের নিঃস্ব করে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছে প্রতারক চক্রটি।

বর্তমানে অভিযুক্ত আব্দুল হাকিম ও তার সহযোগীরা আত্মগোপনে রয়েছে। তাদের গ্রেপ্তার বা অর্থ উদ্ধারে এখনো দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই যা ভুক্তভোগীদের হতাশা আরও বাড়িয়ে তুলছে।

ঈদের আনন্দের বদলে এখন কান্না আর আহাজারিতে ভরে উঠেছে শত শত পরিবার। অনেকেই তাদের শেষ সম্বল হারিয়ে চরম মানবিক সংকটে পড়েছেন।

ভুক্তভোগীরা দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও তাদের অর্থ ফেরতের দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তারা।

এই ঘটনা শুধু একটি প্রতারণা নয় এটি দরিদ্র মানুষের বিশ্বাস, আশা ও ঈদের স্বপ্ন নির্মমভাবে ভেঙে দেওয়ার এক জঘন্য উদাহরণ।