
,,, স্টাফ রিপোর্টার,,, পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলায় স্বামীর হাতে দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক গৃহবধূর। ভুক্তভোগী মানিয়া খাতুন (২৭) অভিযোগ করে জানিয়েছেন, বিয়ের পর থেকেই গত ৩ বছর ধরে তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে আসছেন তার স্বামী লালন হোসেন।
লিখিত এজাহার সূত্রে জানা যায়, কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর উপজেলার শিমুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা মানিয়া খাতুন বর্তমানে ঈশ্বরদী ইপিজেড মোড় এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করেন। প্রায় ৩ বছর আগে ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী লালন হোসেনের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তবে বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই স্বামী লালন ও তার সহযোগী হিসেবে অভিযুক্ত রত্না খাতুন যৌতুকের দাবিতে তাকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করতে থাকেন।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, লালন হোসেন পেশায় অটোভ্যান চালক এবং তিনি বিভিন্ন সময় কৌশলে মানিয়া খাতুনের উপার্জিত প্রায় পাঁচ লাখ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার আত্মসাৎ করেন। এছাড়া তার নিজ নামে থাকা জমি বিক্রি করে আরও টাকা এনে দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন। এতে রাজি না হওয়ায় তাকে সিগারেটের আগুন ও গরম লোহার রড দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে দগ্ধ করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
সর্বশেষ গত ২৩ মার্চ সকালে ঈশ্বরদীর পাকশী ইউনিয়নের ইপিজেড মোড় এলাকায় ভাড়া বাসায় আবারও নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। এ সময় স্বামী লালন হোসেন সাত লাখ টাকা যৌতুক দাবি করলে মানিয়া তা দিতে অস্বীকৃতি জানান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে মারধর করা হয় এবং বাঁশের লাঠি দিয়ে আঘাত করে গুরুতর আহত করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে স্থানীয়দের সহায়তায় মানিয়া খাতুনকে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা শেষে কিছুটা সুস্থ হয়ে আত্মীয়-স্বজনের পরামর্শে তিনি ঈশ্বরদী থানায় স্বামী লালন হোসেন ও রত্না খাতুনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
এ ঘটনায় সাক্ষী হিসেবে স্থানীয় কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
Reporter Name 


















