বাংলাদেশ ০৮:১৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বাধীনতা দিবসের ক্রোড়পত্র বিতরণ : কিভাবে, কারা পেলো? 

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৯:০২:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬
  • ৫২ Time View

ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি :- মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জাতীয় পর্যায়ের ঢাকা থেকে প্রকাশিত ৪০টি এবং ঢাকার বাইরের জেলা ও বিভাগ পর্যায় থেকে ৭০টি দৈনিক সংবাদপত্রে বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিটি পত্রিকায় ক্রোড়পত্র প্রকাশে সরকারের ব্যয় সোয়া চার লাখ থেকে বিভিন্ন অংকে। এ ক্রোড়পত্র বন্টনে মহা কেলেঙ্কারির অভিযোগ উঠেছে। অনেকে ভার্চুয়াল প্লাটফর্মে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন। ঢাকা থেকে প্রকাশিত জাতীয় পর্যায়ের প্রতিষ্ঠিত ও প্রথম সারির অনেক দৈনিক পত্রিকা ক্রোড়পত্র পায়নি। বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনে ১৫ বছর যারা ঘুপচি বিজ্ঞাপন পত্রিকা প্রকাশ করে ক্রোড়পত্রের নামে রাষ্ট্রের শত শত কোটি টাকা লোপাট করেছে বরাদ্দপ্রাপ্তদের তালিকায় তাদের প্রাধান্য দেখে অনেকে বিস্মিত হয়েছেন। ক্ষুব্ধ হয়েছেন। রোষানলে পড়ার ভয়ে বঞ্চিতদের অনেকে সরাসরি ক্ষোভ প্রকাশ করতেও দ্বিধা করছেন। ডিএফপির নামে ক্রোড়পত্র প্রকাশ হলেও বস্তু প্রকাশের আগের রাতে রাত ১০টার পরে নাজিল হওয়া তালিকা ধরে ডিজাইন মেইল করা ছাড়া ডিএফপির কোন সম্পর্ক নেই। বিগত সময়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ে গঠিত একটি কমিটির মাধ্যমে খসড়া তালিকা করা হতো। এবার সে ধরনের কোন কমিটিতেও আলোচিত হয়নি।

ঢাকা থেকে প্রকাশিত জাতীয় পর্যায়ের ৪০টি পত্রিকার তালিকায় ১০-১২ টি পত্রিকা ছাড়া যেসব সংবাদপত্রের নাম স্থান পেয়েছে তা কিসের ভিত্তিতে, কোন কেরামতিতে, সে প্রশ্ন সামনে এসেছে জোরালোভাবে। ফ্যাসিস্ট শাসনের আমলে রোষানলে পড়া প্রথম ও দ্বিতীয় সারির অনেক সংবাদপত্র এখনও বঞ্চনার শিকার।

ঢাকার বাইরে ক্রোড়পত্রপ্রাপ্ত ৭০টির মধ্যে প্রায় ৬০টি সংবাদপত্রই আওয়ামী লীগ, যুবলীগ নেতাদের মালিকানাধীন। ঢাকার বাইরের ৬৩ জেলায় সুষম বন্টনের পরিবর্তে ক্রোড়পত্র পেয়েছেন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বিশেষ যোগাযোগ ও বোঝাপড়ার মাধ্যমে। ৭০টির মধ্যে বরিশাল বিভাগের ৪ জেলায় ১৫টি সংবাদপত্র ক্রোড়পত্র পাওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করেছে তারমধ্যে অনেকগুলো পত্রিকা সংশ্লিষ্টদের সাথে লেনদেন এর করে পেয়েছে । বহু জেলায় একটি সংবাদপত্রও ক্রোড়পত্র পায়নি যারা পেয়েছে তারা বিগত আমলে ফ্যাসিবাদীর দোষর ছিলো। মন্ত্রী- এমপিদের তদবিরের কয়েকটি ছাড়া অন্য যারা পেয়েছেন তাদের ভাষ্য, প্রক্রিয়ায় জড়িতদের তুষ্ট করেই পেতে হয়েছে।

ঢাকা থেকে প্রকাশিত জাতীয় পর্যায়ে ক্রোড়পত্র পাওয়া কয়েকটি সংবাদপত্রের নাম এখানে উল্লেখ করছি। খোলাবাজার, আজকের আওয়াজ, প্রভাতী খবর, বর্তমান, বাংলার নবকন্ঠ, অনুপমা, ঢাকা ডায়ালগ, স্বাধীন সংবাদ, লাখো কন্ঠ, বাংলার জাগরণ, সমাবেশ, দেশবার্তা, দেশ বর্তমান প্রভৃতি। আর ঢাকা ও ঢাকার বাহীরের প্রতিষ্ঠিত পাঠক প্রিয় কোন কোন পত্রিকা পায়নি তা আগ্রহ থাকলে নিজ দায়িত্বে খোঁজ নিতে পারেন। ভার্চুয়াল প্রতিক্রিয়া দেখেও অনেকে জানতে পেরেছেন হয়তো।

আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের মালিকানাধীন যেসব পত্রিকা ৫ আগস্টের পর এক দুটি পদে জাতীয়তাবাদী বা ইসলামিস্ট পাহারাদার বসিয়ে ক্রোড়পত্র বাগিয়েছেন তাদের নাম না-ইবা উল্লেখ করলাম।

সবচেয়ে বিস্ময়কর দিক হলো ইংরেজি পত্রিকার ক্ষেত্রে তথ্য মন্ত্রণালয়ের পছন্দ। তিনটি ইংরেজি পত্রিকার স্বাধীনতা দিবসের ক্রোড়পত্র পাওয়ার রাজভাগ্য হয়েছে। এ তিনটি হলো- দ্য পিপল, দ্য নিউনেশন, ডেইলি পোস্ট। কোন কোন ইংরেজি কাগজ স্বাধীনতা দিবসের ক্রোড়পত্র পাওয়ার যোগ্য হয়নি তা নিজেরা মিলিয়ে নিন। যারা পেয়েছে, কিভাবে পেয়েছে, তাও খোঁজ নিতে পারেন।

ঢাকার বাইরের তালিকায় থাকা পত্রিকাগুলোর মালিকদের মধ্যে কারা আওয়ামী লীগের কোন পদে আছে, কিসের জোরে পেয়েছে তা সরজমিন তদন্ত করলে সঠিক তথ্য বেড়িয়ে আসবে আশা রাখি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

jogo hosterbd

Popular Post
error: Content is protected !!

স্বাধীনতা দিবসের ক্রোড়পত্র বিতরণ : কিভাবে, কারা পেলো? 

Update Time : ০৯:০২:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬

ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি :- মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জাতীয় পর্যায়ের ঢাকা থেকে প্রকাশিত ৪০টি এবং ঢাকার বাইরের জেলা ও বিভাগ পর্যায় থেকে ৭০টি দৈনিক সংবাদপত্রে বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিটি পত্রিকায় ক্রোড়পত্র প্রকাশে সরকারের ব্যয় সোয়া চার লাখ থেকে বিভিন্ন অংকে। এ ক্রোড়পত্র বন্টনে মহা কেলেঙ্কারির অভিযোগ উঠেছে। অনেকে ভার্চুয়াল প্লাটফর্মে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন। ঢাকা থেকে প্রকাশিত জাতীয় পর্যায়ের প্রতিষ্ঠিত ও প্রথম সারির অনেক দৈনিক পত্রিকা ক্রোড়পত্র পায়নি। বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনে ১৫ বছর যারা ঘুপচি বিজ্ঞাপন পত্রিকা প্রকাশ করে ক্রোড়পত্রের নামে রাষ্ট্রের শত শত কোটি টাকা লোপাট করেছে বরাদ্দপ্রাপ্তদের তালিকায় তাদের প্রাধান্য দেখে অনেকে বিস্মিত হয়েছেন। ক্ষুব্ধ হয়েছেন। রোষানলে পড়ার ভয়ে বঞ্চিতদের অনেকে সরাসরি ক্ষোভ প্রকাশ করতেও দ্বিধা করছেন। ডিএফপির নামে ক্রোড়পত্র প্রকাশ হলেও বস্তু প্রকাশের আগের রাতে রাত ১০টার পরে নাজিল হওয়া তালিকা ধরে ডিজাইন মেইল করা ছাড়া ডিএফপির কোন সম্পর্ক নেই। বিগত সময়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ে গঠিত একটি কমিটির মাধ্যমে খসড়া তালিকা করা হতো। এবার সে ধরনের কোন কমিটিতেও আলোচিত হয়নি।

ঢাকা থেকে প্রকাশিত জাতীয় পর্যায়ের ৪০টি পত্রিকার তালিকায় ১০-১২ টি পত্রিকা ছাড়া যেসব সংবাদপত্রের নাম স্থান পেয়েছে তা কিসের ভিত্তিতে, কোন কেরামতিতে, সে প্রশ্ন সামনে এসেছে জোরালোভাবে। ফ্যাসিস্ট শাসনের আমলে রোষানলে পড়া প্রথম ও দ্বিতীয় সারির অনেক সংবাদপত্র এখনও বঞ্চনার শিকার।

ঢাকার বাইরে ক্রোড়পত্রপ্রাপ্ত ৭০টির মধ্যে প্রায় ৬০টি সংবাদপত্রই আওয়ামী লীগ, যুবলীগ নেতাদের মালিকানাধীন। ঢাকার বাইরের ৬৩ জেলায় সুষম বন্টনের পরিবর্তে ক্রোড়পত্র পেয়েছেন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বিশেষ যোগাযোগ ও বোঝাপড়ার মাধ্যমে। ৭০টির মধ্যে বরিশাল বিভাগের ৪ জেলায় ১৫টি সংবাদপত্র ক্রোড়পত্র পাওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করেছে তারমধ্যে অনেকগুলো পত্রিকা সংশ্লিষ্টদের সাথে লেনদেন এর করে পেয়েছে । বহু জেলায় একটি সংবাদপত্রও ক্রোড়পত্র পায়নি যারা পেয়েছে তারা বিগত আমলে ফ্যাসিবাদীর দোষর ছিলো। মন্ত্রী- এমপিদের তদবিরের কয়েকটি ছাড়া অন্য যারা পেয়েছেন তাদের ভাষ্য, প্রক্রিয়ায় জড়িতদের তুষ্ট করেই পেতে হয়েছে।

ঢাকা থেকে প্রকাশিত জাতীয় পর্যায়ে ক্রোড়পত্র পাওয়া কয়েকটি সংবাদপত্রের নাম এখানে উল্লেখ করছি। খোলাবাজার, আজকের আওয়াজ, প্রভাতী খবর, বর্তমান, বাংলার নবকন্ঠ, অনুপমা, ঢাকা ডায়ালগ, স্বাধীন সংবাদ, লাখো কন্ঠ, বাংলার জাগরণ, সমাবেশ, দেশবার্তা, দেশ বর্তমান প্রভৃতি। আর ঢাকা ও ঢাকার বাহীরের প্রতিষ্ঠিত পাঠক প্রিয় কোন কোন পত্রিকা পায়নি তা আগ্রহ থাকলে নিজ দায়িত্বে খোঁজ নিতে পারেন। ভার্চুয়াল প্রতিক্রিয়া দেখেও অনেকে জানতে পেরেছেন হয়তো।

আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের মালিকানাধীন যেসব পত্রিকা ৫ আগস্টের পর এক দুটি পদে জাতীয়তাবাদী বা ইসলামিস্ট পাহারাদার বসিয়ে ক্রোড়পত্র বাগিয়েছেন তাদের নাম না-ইবা উল্লেখ করলাম।

সবচেয়ে বিস্ময়কর দিক হলো ইংরেজি পত্রিকার ক্ষেত্রে তথ্য মন্ত্রণালয়ের পছন্দ। তিনটি ইংরেজি পত্রিকার স্বাধীনতা দিবসের ক্রোড়পত্র পাওয়ার রাজভাগ্য হয়েছে। এ তিনটি হলো- দ্য পিপল, দ্য নিউনেশন, ডেইলি পোস্ট। কোন কোন ইংরেজি কাগজ স্বাধীনতা দিবসের ক্রোড়পত্র পাওয়ার যোগ্য হয়নি তা নিজেরা মিলিয়ে নিন। যারা পেয়েছে, কিভাবে পেয়েছে, তাও খোঁজ নিতে পারেন।

ঢাকার বাইরের তালিকায় থাকা পত্রিকাগুলোর মালিকদের মধ্যে কারা আওয়ামী লীগের কোন পদে আছে, কিসের জোরে পেয়েছে তা সরজমিন তদন্ত করলে সঠিক তথ্য বেড়িয়ে আসবে আশা রাখি।