
মন্জুরুল আহসান শামীম স্টাফ রিপোর্টারঃ রংপুরের কাউনিয়া উপজেলায় জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। উপজেলার প্রধান দুটি ফিলিং স্টেশনে গত চার দিন ধরে পেট্রোল ও অকটেন সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যানবাহনের চালক ও সাধারণ মানুষ। ডিজেলে সামান্য সরবরাহ থাকলেও তা চাহিদার তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য হওয়ায় কৃষিকাজ ও পণ্য পরিবহনও ব্যাহত হচ্ছে।
সরেজমিনে মা সুফিয়া ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, টানা পাঁচ দিন ধরে পেট্রোল ও অকটেনের সংকটে বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছে। স্টেশনের সামনে ঝুলছে ‘তেল নেই’ সাইনবোর্ড। একই চিত্র দেখা গেছে বালাপাড়া ইউনিয়নের তকিপল বাজার সংলগ্ন শাহ আলম ফিলিং স্টেশনেও। উপজেলা ও পৌরসভা এলাকার এই দুটি মাত্র পাম্পে তেল না থাকায় বিপাকে পড়েছেন হাজারো মোটরসাইকেল চালক ও যাত্রী।
ঈদুল ফিতরের ছুটিতে পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরতে বের হওয়া মানুষ ও দূর-দূরান্ত থেকে আসা পর্যটকরা পড়েছেন চরম বিড়ম্বনায়। ঢাকা থেকে বাড়িতে আসা সিরাজুল ইসলাম বলেন, “পরিবার নিয়ে ঘোরার পরিকল্পনা ছিল, কিন্তু কোথাও পেট্রোল পাচ্ছি না। এমন সংকটে ঈদের আনন্দই মাটি হয়ে গেছে।” মোটরসাইকেল আরোহী মামুন হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ঈদের সময় এমন তেলের অভাব মেনে নেওয়া যায় না। বাধ্য হয়ে বেশি ভাড়ায় অন্য যানে চলাচল করতে হচ্ছে।”
ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক দিনের মধ্যে ডিপো থেকে শুধু ডিজেল সরবরাহ করা হলেও তা চাহিদার তুলনায় নগণ্য। পাম্পে যে পরিমাণ ডিজেল আসছে, তা মাত্র দুই থেকে তিন ঘণ্টার মধ্যেই শেষ হয়ে যাচ্ছে। পরিবহন চালক রাজিব জানান, দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেক সময় তেল মিলছে না। কোথাও কোথাও আবার নির্দিষ্ট পরিমাণের বেশি তেল বিক্রি করা হচ্ছে না।
মা সুফিয়া ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ জানায়, ডিপো থেকে চাহিদা অনুযায়ী বরাদ্দ না পাওয়ায় তারা নিরুপায়। বরাদ্দ না বাড়লে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব নয় বলে তারা জানান।
এ বিষয়ে কাউনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পাপিয়া সুলতানা বলেন, “জ্বালানি সংকটের বিষয়টি আমরা অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখছি। সংশ্লিষ্ট সরবরাহকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ চলছে। দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
স্থানীয় বাসিন্দা ও কৃষকরা অনতিবিলম্বে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় সেচ কাজ ও যাতায়াত ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
Reporter Name 


















