
নবীগঞ্জ প্রতিনিধি: সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া-কে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কটূক্তির অভিযোগে অভিযুক্ত উপজেলা পজীপ কর্মকর্তা শাকিল আহমেদকে ঘিরে নবীগঞ্জে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠলেও এখনো পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা না নেওয়ায় জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি খালেদা জিয়া-র রাজনৈতিক অবস্থান ও ব্যক্তিত্ব নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন। বিষয়টি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
এদিকে, অভিযোগ ওঠার পরও অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে অপসারণ বা শাস্তির বদলে তাকে নবীগঞ্জের একটি ফিলিং স্টেশনে ট্যাগ অফিসার হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্তে বিতর্ক আরও ঘনীভূত হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এটি প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুহুল আমিন-এর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পরও তিনি অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বহাল রেখেছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা জানান, “সাধারণ কর্মীরা এমন মন্তব্য করলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কিন্তু একজন সরকারি কর্মকর্তা প্রকাশ্যে কটূক্তি করেও বহাল থাকছেন এটি অত্যন্ত রহস্যজনক।”
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে প্রশাসনের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, বিষয়টি ‘উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের’ কাছে পাঠানো হয়েছে।
সচেতন মহলের মতে, সরকারি চাকরিতে থেকে রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল মন্তব্য করা আচরণবিধির পরিপন্থী। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি জরুরি, অন্যথায় প্রশাসনের নিরপেক্ষতা ও শৃঙ্খলা নিয়ে জনমনে সন্দেহ থেকেই যাবে।
বর্তমানে জনমনে একটাই প্রশ্ন অভিযুক্ত কর্মকর্তা কি কোনো অদৃশ্য প্রভাবের কারণে বহাল আছেন, নাকি প্রশাসন শিগগিরই তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টি স্পষ্ট করবে।
Reporter Name 


















