বাংলাদেশ ০৮:১৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সোনালী ব্যাংক স্টাফ কোয়ার্টারে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ: এমডি’র ড্রাইভার সুমনকে ঘিরে চাঞ্চল্য।

  • Reporter Name
  • Update Time : ১০:২৮:১৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬
  • ৬৫ Time View

স্টাফ রিপোর্টার: রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান সোনালী ব্যাংক-এর কর্মচারী নিবাসে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) গাড়িচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী সুমনের বিরুদ্ধে গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।

 

সূত্রে জানা যায়, গত ২২ মার্চ ২০২৬, রাত আনুমানিক ৯টা ৩০ মিনিটে, সুমন মোটরসাইকেলে এক নারীকে সঙ্গে নিয়ে স্টাফ কোয়ার্টারে প্রবেশ করেন। দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যদের চোখ ফাঁকি দিয়ে তিনি তাকে নিজের বাসায় নিয়ে যান। গেটে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সুমন ওই নারীকে “মেহমান” হিসেবে পরিচয় দেন।

পরবর্তীতে সন্দেহ থাকা সত্ত্বেও তাকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, বাসায় প্রবেশের পর দরজা বন্ধ করে তিনি ওই নারীর সঙ্গে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হন। রাত আনুমানিক ১১টা ৩০ মিনিটে ওই নারীকে কোয়ার্টার থেকে বের করে দেওয়া হয়।

 

এ ঘটনায় আরও জানা যায়, ঘটনার সময় সুমনের স্ত্রী ও সন্তানরা ঈদের ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। বিষয়টি গোপন রাখতে তিনি স্ত্রীকে ভিন্ন তথ্য দেন। কিন্তু পরে সন্দেহের সৃষ্টি হলে পারিবারিকভাবে বিষয়টি জানাজানি হয়।

পরবর্তীতে উভয় পক্ষের অভিভাবক ঢাকায় এসে বিষয়টি নিয়ে বৈঠক করেন। পারিবারিকভাবে সমাধানের চেষ্টা হলেও ঘটনাটি কর্মচারীদের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

পুনরাবৃত্তির অভিযোগ, বাড়ছে উদ্বেগ।

একাধিক সূত্র দাবি করেছে, এটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। অভিযোগ রয়েছে, সুমন প্রায়ই তার পরিবারকে গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়ে একই ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকেন। এমনকি মোটরসাইকেলে নারী এনে সোনালী ব্যাংক স্টাফ কোয়ার্টারে প্রবেশ করানো এবং পরে তাদের বের করে দেওয়ার ঘটনাও নাকি নিয়মিত ঘটছে।

কর্মচারীদের অভিযোগ, শুধু সুমনই নয় সোনালী ব্যাংক স্টাফ কোয়ার্টারের কিছু বাসা ভাড়া দিয়ে সেখানে দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক কার্যকলাপ চালানো হচ্ছে। এতে কর্মচারীদের পরিবারসহ বসবাসরত অন্যান্য বাসিন্দারা চরম বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ছেন।

 

ব্যাংক কর্তৃপক্ষের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন।

এ ধরনের অভিযোগ একাধিকবার উঠলেও সোনালী ব্যাংক কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনো দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে প্রতিষ্ঠানটির ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অভিযোগ আছে, নিজের প্রভাব খাটিয়ে সুমন বিভিন্ন সময় বলেন। “আমি এমডি স্যারের গাড়ি চালাই, আমার ক্ষমতা আলাদা”।

যা তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর তদন্তে প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকে।

এমডি ড্রাইভার সুমন নারী ইলিশ মাছ চারপাশে উল্টিয়ে ভাজি খাইতে ভালোবাসেন তাই সুমন মোটরসাইকেলে করে নারী ইলিশ মাছ নিয়ে বাসায় নিয়ে চার পাশে উল্টিয়ে পাল্টিয়ে খান এতে অনেক আনন্দ পান বলে জানান গেছে।

সুমন সোনালী ব্যাংকের দৈনিক মজুরি ভিত্তিক চাকরি করলেও তার রুচি অনেক ভালো বলে তার সঙ্গের সাথী জানান।

 

সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দৈনিক মজুরি ভিত্তিক ড্রাইভার হিসেবে সুমন কর্মরত থাকায় তার বাসা তিনি রুমের পেয়েছেন এটা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে অনেকেঐ মাঝে। কোন আইনের আছে দৈনিক মজুরী ভিত্তিক ড্রাইভার তিন রুমের ফ্ল্যাট বাসা পাবে?

ব্যাংকের আইনে আছে কোন দৈনিক মজুরী ভিত্তিক কর্মচারী কোন প্লাট পায় না । তাহলে কোন ক্ষমতার বলে তিন রুমের ফ্ল্যাট বাসা ব্যবহার করেন দৈনিক মজুরি ভিত্তিক সুমন এটা এখন জানার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সিইও আইনের ঊর্ধ্বে নয় এই তিন রুমের বাসা দেওয়ার পিছনে কে জড়িত এমডি, নাকি নিজ ক্ষমতায়

,নাকি অন্য কোন ক্ষমতার বলে, কে দুর্নীতিবাজ তাদেরকে চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া জরুরী বলে মনে করেন।

 

বাসিন্দাদের নিরাপত্তা ও পরিবেশ নিয়ে শঙ্কা।

সোনালী ব্যাংক স্টাফ কোয়ার্টারে বসবাসরত পরিবারগুলো বলছে, এই পরিস্থিতিতে তাদের স্বাভাবিক জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়েছে। শিশু ও নারীদের নিরাপত্তা, সামাজিক পরিবেশ সবকিছুই এখন হুমকির মুখে।

তদন্তের দাবি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের অনিয়ম ও কেলেঙ্কারি সামনে আসতে পারে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

jogo hosterbd

Popular Post
error: Content is protected !!

সোনালী ব্যাংক স্টাফ কোয়ার্টারে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ: এমডি’র ড্রাইভার সুমনকে ঘিরে চাঞ্চল্য।

Update Time : ১০:২৮:১৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার: রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান সোনালী ব্যাংক-এর কর্মচারী নিবাসে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) গাড়িচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী সুমনের বিরুদ্ধে গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।

 

সূত্রে জানা যায়, গত ২২ মার্চ ২০২৬, রাত আনুমানিক ৯টা ৩০ মিনিটে, সুমন মোটরসাইকেলে এক নারীকে সঙ্গে নিয়ে স্টাফ কোয়ার্টারে প্রবেশ করেন। দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যদের চোখ ফাঁকি দিয়ে তিনি তাকে নিজের বাসায় নিয়ে যান। গেটে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সুমন ওই নারীকে “মেহমান” হিসেবে পরিচয় দেন।

পরবর্তীতে সন্দেহ থাকা সত্ত্বেও তাকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, বাসায় প্রবেশের পর দরজা বন্ধ করে তিনি ওই নারীর সঙ্গে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হন। রাত আনুমানিক ১১টা ৩০ মিনিটে ওই নারীকে কোয়ার্টার থেকে বের করে দেওয়া হয়।

 

এ ঘটনায় আরও জানা যায়, ঘটনার সময় সুমনের স্ত্রী ও সন্তানরা ঈদের ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। বিষয়টি গোপন রাখতে তিনি স্ত্রীকে ভিন্ন তথ্য দেন। কিন্তু পরে সন্দেহের সৃষ্টি হলে পারিবারিকভাবে বিষয়টি জানাজানি হয়।

পরবর্তীতে উভয় পক্ষের অভিভাবক ঢাকায় এসে বিষয়টি নিয়ে বৈঠক করেন। পারিবারিকভাবে সমাধানের চেষ্টা হলেও ঘটনাটি কর্মচারীদের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

পুনরাবৃত্তির অভিযোগ, বাড়ছে উদ্বেগ।

একাধিক সূত্র দাবি করেছে, এটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। অভিযোগ রয়েছে, সুমন প্রায়ই তার পরিবারকে গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়ে একই ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকেন। এমনকি মোটরসাইকেলে নারী এনে সোনালী ব্যাংক স্টাফ কোয়ার্টারে প্রবেশ করানো এবং পরে তাদের বের করে দেওয়ার ঘটনাও নাকি নিয়মিত ঘটছে।

কর্মচারীদের অভিযোগ, শুধু সুমনই নয় সোনালী ব্যাংক স্টাফ কোয়ার্টারের কিছু বাসা ভাড়া দিয়ে সেখানে দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক কার্যকলাপ চালানো হচ্ছে। এতে কর্মচারীদের পরিবারসহ বসবাসরত অন্যান্য বাসিন্দারা চরম বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ছেন।

 

ব্যাংক কর্তৃপক্ষের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন।

এ ধরনের অভিযোগ একাধিকবার উঠলেও সোনালী ব্যাংক কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনো দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে প্রতিষ্ঠানটির ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অভিযোগ আছে, নিজের প্রভাব খাটিয়ে সুমন বিভিন্ন সময় বলেন। “আমি এমডি স্যারের গাড়ি চালাই, আমার ক্ষমতা আলাদা”।

যা তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর তদন্তে প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকে।

এমডি ড্রাইভার সুমন নারী ইলিশ মাছ চারপাশে উল্টিয়ে ভাজি খাইতে ভালোবাসেন তাই সুমন মোটরসাইকেলে করে নারী ইলিশ মাছ নিয়ে বাসায় নিয়ে চার পাশে উল্টিয়ে পাল্টিয়ে খান এতে অনেক আনন্দ পান বলে জানান গেছে।

সুমন সোনালী ব্যাংকের দৈনিক মজুরি ভিত্তিক চাকরি করলেও তার রুচি অনেক ভালো বলে তার সঙ্গের সাথী জানান।

 

সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দৈনিক মজুরি ভিত্তিক ড্রাইভার হিসেবে সুমন কর্মরত থাকায় তার বাসা তিনি রুমের পেয়েছেন এটা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে অনেকেঐ মাঝে। কোন আইনের আছে দৈনিক মজুরী ভিত্তিক ড্রাইভার তিন রুমের ফ্ল্যাট বাসা পাবে?

ব্যাংকের আইনে আছে কোন দৈনিক মজুরী ভিত্তিক কর্মচারী কোন প্লাট পায় না । তাহলে কোন ক্ষমতার বলে তিন রুমের ফ্ল্যাট বাসা ব্যবহার করেন দৈনিক মজুরি ভিত্তিক সুমন এটা এখন জানার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সিইও আইনের ঊর্ধ্বে নয় এই তিন রুমের বাসা দেওয়ার পিছনে কে জড়িত এমডি, নাকি নিজ ক্ষমতায়

,নাকি অন্য কোন ক্ষমতার বলে, কে দুর্নীতিবাজ তাদেরকে চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া জরুরী বলে মনে করেন।

 

বাসিন্দাদের নিরাপত্তা ও পরিবেশ নিয়ে শঙ্কা।

সোনালী ব্যাংক স্টাফ কোয়ার্টারে বসবাসরত পরিবারগুলো বলছে, এই পরিস্থিতিতে তাদের স্বাভাবিক জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়েছে। শিশু ও নারীদের নিরাপত্তা, সামাজিক পরিবেশ সবকিছুই এখন হুমকির মুখে।

তদন্তের দাবি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের অনিয়ম ও কেলেঙ্কারি সামনে আসতে পারে।