বাংলাদেশ ১০:০৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শেরপুরে জমি দখলের চেষ্টা, প্রাণনাশের হুমকি ও নিরাপত্তাহীনতার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:২৮:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬
  • ২৪ Time View

মোঃআনোয়ার হোসেন শেরপুর জেলা প্রতিনিধি: শেরপুর সদর উপজেলার বাজিতখিলা ইউনিয়নের মির্জাপুর গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধকে কেন্দ্র করে ভাইহীন ছয় বোনের একটি পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নিজেদের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী মরিয়ম আক্তার মৌসুমি ও তার পরিবার।

 

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) বিকেল ৪টায় আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মরিয়ম আক্তার মৌসুমি। বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, প্রতিবেশী আবু, সোহাগ ও রনি দীর্ঘদিন ধরে তাদের মালিকানাধীন জমি জোরপূর্বক দখলের অপচেষ্টা চালিয়ে আসছে। এ ছাড়া নিয়মিত হুমকি-ধমকি, অশালীন আচরণ, গালিগালাজ এবং চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন।

 

লিখিত বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, ২১৭ (আরওআর) ও ৭৪৪ (বিআরএস) নং দাগে ২ শতাংশ জমি থাকা সত্ত্বেও আবু গং তাদের বাবার চলাচলের পথে বাধা দিত। পরবর্তীতে তাদের বাবা একই দাগে আরও ৬ শতাংশ জমি ক্রয় করে দখল বুঝে নেন। ওই ক্রয়কৃত ৬ শতাংশ জমি নিয়ে আদালতে মামলা হলে ২০১০ সালে আদালত তাদের পক্ষে রায় দেন। পরবর্তীতে আবু গং উচ্চ আদালতে আপিল করলে ২০১৬ সালেও উচ্চ আদালতে সেই রায়ই বহাল থাকে।

 

কিন্তু আদালতের সুস্পষ্ট রায় থাকা সত্ত্বেও বিবাদীপক্ষ তা অগ্রাহ্য করে বারবার জমি দখলের অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

মরিয়ম আক্তার মৌসুমি আরও জানান, তাদের ব্যক্তিগত রাস্তা ব্যবহার করে প্রতিনিয়ত ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে। পরিবারের সদস্যরা বাড়ি থেকে বের হতে গেলে বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল করে সহায়তা নিতে হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

 

তিনি অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের ১৪ অক্টোবর তাদের গুদামঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে, যা তাদের জন্য আরও আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া বিবাদীপক্ষের লোকজন গুম ও হত্যার হুমকি দিচ্ছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়।

 

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশি বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হলেও কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি আরও জটিল ও উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে।

 

এমন পরিস্থিতিতে ভুক্তভোগী পরিবার নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, জমির শান্তিপূর্ণ কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

jogo hosterbd

Popular Post
error: Content is protected !!

শেরপুরে জমি দখলের চেষ্টা, প্রাণনাশের হুমকি ও নিরাপত্তাহীনতার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

Update Time : ০২:২৮:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬

মোঃআনোয়ার হোসেন শেরপুর জেলা প্রতিনিধি: শেরপুর সদর উপজেলার বাজিতখিলা ইউনিয়নের মির্জাপুর গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধকে কেন্দ্র করে ভাইহীন ছয় বোনের একটি পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নিজেদের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী মরিয়ম আক্তার মৌসুমি ও তার পরিবার।

 

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) বিকেল ৪টায় আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মরিয়ম আক্তার মৌসুমি। বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, প্রতিবেশী আবু, সোহাগ ও রনি দীর্ঘদিন ধরে তাদের মালিকানাধীন জমি জোরপূর্বক দখলের অপচেষ্টা চালিয়ে আসছে। এ ছাড়া নিয়মিত হুমকি-ধমকি, অশালীন আচরণ, গালিগালাজ এবং চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন।

 

লিখিত বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, ২১৭ (আরওআর) ও ৭৪৪ (বিআরএস) নং দাগে ২ শতাংশ জমি থাকা সত্ত্বেও আবু গং তাদের বাবার চলাচলের পথে বাধা দিত। পরবর্তীতে তাদের বাবা একই দাগে আরও ৬ শতাংশ জমি ক্রয় করে দখল বুঝে নেন। ওই ক্রয়কৃত ৬ শতাংশ জমি নিয়ে আদালতে মামলা হলে ২০১০ সালে আদালত তাদের পক্ষে রায় দেন। পরবর্তীতে আবু গং উচ্চ আদালতে আপিল করলে ২০১৬ সালেও উচ্চ আদালতে সেই রায়ই বহাল থাকে।

 

কিন্তু আদালতের সুস্পষ্ট রায় থাকা সত্ত্বেও বিবাদীপক্ষ তা অগ্রাহ্য করে বারবার জমি দখলের অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

মরিয়ম আক্তার মৌসুমি আরও জানান, তাদের ব্যক্তিগত রাস্তা ব্যবহার করে প্রতিনিয়ত ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে। পরিবারের সদস্যরা বাড়ি থেকে বের হতে গেলে বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল করে সহায়তা নিতে হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

 

তিনি অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের ১৪ অক্টোবর তাদের গুদামঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে, যা তাদের জন্য আরও আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া বিবাদীপক্ষের লোকজন গুম ও হত্যার হুমকি দিচ্ছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়।

 

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশি বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হলেও কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি আরও জটিল ও উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে।

 

এমন পরিস্থিতিতে ভুক্তভোগী পরিবার নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, জমির শান্তিপূর্ণ কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।