বাংলাদেশ ০৮:১১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভাঙ্গায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ফের সংঘর্ষ: নারী ও পুলিশসহ আহত কমপক্ষে ৫০, দোকানপাট ভাঙচুর

  • Reporter Name
  • Update Time : ১০:১৮:২৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬
  • ৪০ Time View

ভাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি: ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে চার গ্রামের দুই পক্ষের মধ্যে ফের ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (৪ এপ্রিল) সকাল থেকে শুরু হয়ে দুপুর ১২টা পর্যন্ত চলা এ সংঘর্ষে পুলিশ সদস্য ও নারীসহ অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সংঘর্ষে দুই পক্ষ দেশীয় অস্ত্র, ইটপাটকেল নিয়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় জড়িয়ে পড়ে। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং বেশ কয়েকটি দোকানপাট ভাঙচুর করা হয়।
সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী, ফরিদপুর ডিবি পুলিশ ও ভাঙ্গা থানা পুলিশ যৌথভাবে কাজ করে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও এলাকায় অতিরিক্ত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন রয়েছে।
সংঘর্ষে ভাঙ্গা থানার পুলিশ সদস্য মশিউর রহমান আহত হয়েছেন। তাকে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তানসিভ জুবায়ের জানান, এ পর্যন্ত ২৮ জন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে গুরুতর তিনজনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং সাতজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এখনও আহতরা হাসপাতালে আসছেন।
ঘটনার সূত্রপাত সম্পর্কে জানা যায়, দুই দিন আগে মনসুরাবাদ গ্রামের রাহাত নামে এক কিশোর ফুটবল খেলার জন্য মাইকিং করলে খাপুরা, সিংগারডাক ও মাঝিকান্দা গ্রামের কয়েকজন তাকে লাঞ্ছিত করে। এর জেরে শুক্রবার সন্ধ্যায় মনসুরাবাদ বাজার বণিক সমিতির সভাপতি জিন্নাত মিয়াকে মারধর করা হয়।
এরপর ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়লে মনসুরাবাদ গ্রামের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের মনসুরাবাদ বাসস্ট্যান্ডে অবস্থান নেয়। অন্যদিকে খাপুরা, সিংগারডাক ও মাঝিকান্দা গ্রামের লোকজন হামিরদী ইউনিয়ন পরিষদের সামনে জড়ো হয়। পরে উভয় পক্ষের মধ্যে প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষ চলে।
হামিরদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খোকন মিয়া বলেন, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষ হয়েছে। দুই পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, সংঘর্ষে পুলিশসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

jogo hosterbd

Popular Post
error: Content is protected !!

ভাঙ্গায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ফের সংঘর্ষ: নারী ও পুলিশসহ আহত কমপক্ষে ৫০, দোকানপাট ভাঙচুর

Update Time : ১০:১৮:২৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬

ভাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি: ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে চার গ্রামের দুই পক্ষের মধ্যে ফের ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (৪ এপ্রিল) সকাল থেকে শুরু হয়ে দুপুর ১২টা পর্যন্ত চলা এ সংঘর্ষে পুলিশ সদস্য ও নারীসহ অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সংঘর্ষে দুই পক্ষ দেশীয় অস্ত্র, ইটপাটকেল নিয়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় জড়িয়ে পড়ে। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং বেশ কয়েকটি দোকানপাট ভাঙচুর করা হয়।
সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী, ফরিদপুর ডিবি পুলিশ ও ভাঙ্গা থানা পুলিশ যৌথভাবে কাজ করে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও এলাকায় অতিরিক্ত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন রয়েছে।
সংঘর্ষে ভাঙ্গা থানার পুলিশ সদস্য মশিউর রহমান আহত হয়েছেন। তাকে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তানসিভ জুবায়ের জানান, এ পর্যন্ত ২৮ জন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে গুরুতর তিনজনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং সাতজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এখনও আহতরা হাসপাতালে আসছেন।
ঘটনার সূত্রপাত সম্পর্কে জানা যায়, দুই দিন আগে মনসুরাবাদ গ্রামের রাহাত নামে এক কিশোর ফুটবল খেলার জন্য মাইকিং করলে খাপুরা, সিংগারডাক ও মাঝিকান্দা গ্রামের কয়েকজন তাকে লাঞ্ছিত করে। এর জেরে শুক্রবার সন্ধ্যায় মনসুরাবাদ বাজার বণিক সমিতির সভাপতি জিন্নাত মিয়াকে মারধর করা হয়।
এরপর ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়লে মনসুরাবাদ গ্রামের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের মনসুরাবাদ বাসস্ট্যান্ডে অবস্থান নেয়। অন্যদিকে খাপুরা, সিংগারডাক ও মাঝিকান্দা গ্রামের লোকজন হামিরদী ইউনিয়ন পরিষদের সামনে জড়ো হয়। পরে উভয় পক্ষের মধ্যে প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষ চলে।
হামিরদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খোকন মিয়া বলেন, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষ হয়েছে। দুই পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, সংঘর্ষে পুলিশসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।