
স্টাফ রিপোর্টার: রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানাধীন ধলপুর এলাকায় সরকারি ওএমএস (OMS) কর্মসূচির আটা প্রকাশ্যেই কালোবাজারে পাচারের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে হাতেনাতে ধরা পড়েছেন সংশ্লিষ্ট ডিলার ও তার সহযোগীরা, যা জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
বৃহস্পতিবার (০৯ এপ্রিল) বিকেলে ধলপুর কমিউনিটি সেন্টারের সামনে ঢাকা রেশনিং ওএমএস-এর খাদ্য বিতরণ ট্রাক থেকে ৪ বস্তা আটা সরিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে ডি-১ সার্কেলের ডিলার আসিফ হাওলাদারের কর্মচারীরা সরকারি ট্রাক থেকে আটা সাধারণ ভোক্তাদের মাঝে বিতরণ না করে একটি রিকশায় তুলে দেয়। অভিযোগ রয়েছে, এসব আটা খোলা বাজারে অধিক দামে বিক্রির উদ্দেশ্যেই সরিয়ে নেওয়া হচ্ছিল।
ঘটনার ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ডিলারের কর্মচারীরা সরাসরি বস্তা হস্তান্তর করছে। এই দৃশ্য স্থানীয়দের সন্দেহকে আরও জোরালো করেছে এবং পুরো বিষয়টি সুপরিকল্পিত কালোবাজারি সিন্ডিকেটের অংশ বলে মনে করছেন তারা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট উপ-খাদ্য পরিদর্শক মো. একলাছ মিয়া দায় এড়িয়ে যান। তিনি দাবি করেন, ঘটনার সময় তিনি জুরাইন অফিসে অবস্থান করছিলেন এবং কিছুই জানেন না। তবে ভিডিও প্রমাণের কথা উল্লেখ করলে তিনি সাংবাদিকদের উল্টো প্রশ্নবাণে জর্জরিত করেন এবং রহস্যজনকভাবে ডিলারের সঙ্গে ‘যোগাযোগ’ বা ‘আপোষ’ করার পরামর্শ দেন। দায়িত্বশীল পদে থেকেও তার এমন বক্তব্য জনমনে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
পরবর্তীতে ডিলার আসিফ হাওলাদার ঘটনাস্থলে এসে সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হন এবং পেশাগত কাজে বাধা সৃষ্টি করেন। এ সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং উপস্থিত জনতা ও ডিলারের লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে, যখন নিম্ন আয়ের মানুষ দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ন্যায্যমূল্যের খাদ্যসামগ্রী সংগ্রহে হিমশিম খাচ্ছে, তখন সরকারি এই আটা কালোবাজারে পাচারের অভিযোগ সাধারণ মানুষের সঙ্গে নির্মম প্রতারণার শামিল বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
এ ঘটনায় জড়িত ডিলার আসিফ হাওলাদার এবং দায়িত্বে অবহেলাকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন এলাকাবাসী। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ডিলারশিপ বাতিল এবং পুরো বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
যদিও ঢাকা রেশনিংয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়রা সংগৃহীত ভিডিও প্রমাণ দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এ জমা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা
Reporter Name 


















