
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ সিলেটের দক্ষিণ সুরমা এলাকায় আব্দুল করিম নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে মামলা বাণিজ্য, চাঁদাবাজি ও প্রতারণার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, নিজেকে কখনো ফটো সাংবাদিক, কখনো পুলিশের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায় করাই তার প্রধান পেশায় পরিণত হয়েছে।
সম্প্রতি কামালবাজার এলাকায় মাটি কাটার নামে চাঁদাবাজির অভিযোগে করিম ডিবি পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তবে স্থানীয় জনতা তাকে আটক করলে ডিবি পুলিশ ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে করিম নিজেকে প্রয়াত সালিশ ব্যক্তিত্ব চৈল মিয়ার ঘনিষ্ঠ পরিচিত বলে দাবি করে সেখান থেকে ছাড়া পান।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, করিম গভীর রাত পর্যন্ত বিভিন্ন অপরাধ সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিচরণ করেন। বিশেষ করে জুয়া, মাদক ও অসামাজিক কার্যকলাপের আস্তানায় তার নিয়মিত যাতায়াত রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এমনকি দক্ষিণ সুরমার বিভিন্ন অপরাধচক্র থেকে তিনি নিয়মিত সাপ্তাহিক বখরা পান বলেও দাবি করেছেন একাধিক স্থানীয় ব্যক্তি।
এছাড়া পুরনো মামলাকে পুঁজি করে নতুন করে অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ২০২১ সালের একটি কাউন্টার মামলা (নং: জি আর ৫৭/২১) আপোষের কথা বলে করিম ৭০ হাজার টাকা নেন। কিন্তু পরে মামলা নিষ্পত্তি না করেই টাকা আত্মসাৎ করেন। দীর্ঘ পাঁচ বছর পর, ২০২৬ সালে একই মামলার আপোষের প্রলোভন দেখিয়ে আবারও এক ভুক্তভোগীর কাছ থেকে ৯০ হাজার টাকা আদায় করা হয়, কিন্তু এবারও প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা হয়নি।
ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, তারা সহজ-সরল হওয়ায় করিম চক্র বারবার তাদের টার্গেট করছে। সম্প্রতি জমি বিক্রির খবর পেয়ে আবারও অর্থ আদায়ের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। মামলার ভয় দেখিয়ে পুলিশি হয়রানিও বাড়ানো হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের।
সর্বশেষ গত ১১ এপ্রিল ৯৯৯ নম্বরে কল করে পুলিশ ডেকে এনে রাস্তায় থাকা এক বিবাদীর মোটরসাইকেল ও মোবাইল ফোন জোরপূর্বক নিয়ে পুলিশের কাছে জমা দেন করিম—এমন অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার তিন দিন পর মোবাইল ফোন ফেরত দেওয়া হলেও মোটরসাইকেলটি এখনো থানায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এছাড়াও পূর্বে ওয়ারেন্টের ভয় দেখিয়ে পুলিশ দিয়ে ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, ওয়ারেন্ট দেখানোর কথা বললেও তা দেখানো হয়নি; বরং থানায় নিয়ে ৫৪ ধারায় চালান দেওয়া হয়। এভাবে একাধিকবার ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায়ের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এছাড়াও দক্ষিণ সুরমা থানায় পুলিশ ও দালালচক্রের কথিত ‘মামলা বাণিজ্য’-এর চাঞ্চল্যকর অভিযোগ পাওয়া গেছে। ৯৫/২৫ মামলাকে কেন্দ্র করে অভিযুক্ত এসআই রাজীব ও তার ঘনিষ্ঠ দালাল করিমের বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়ম ও অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিবাদী আব্দুল আলিমের নাবালক ছেলে রিজাদকে মামলার চার্জশীট থেকে বাদ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে করিমের দালালির মাধ্যমে এসআই রাজীব ৭০ হাজার টাকা গ্রহণ করেন। কিন্তু টাকা নেওয়ার পরও প্রতিশ্রুতি রক্ষা তো দূরের কথা, উল্টো ওই নাবালক কিশোরকে চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়।
বিষয়টি জানতে পেরে ক্ষুব্ধ আব্দুল আলিম পরিবারের সদস্যরা এসআই রাজীবের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি তাদের ‘নারাজি’ দেওয়ার পরামর্শ দেন। অভিযোগ উঠেছে, এই পরামর্শের মাধ্যমে আবারও অর্থ আদায়ের নতুন ফাঁদ তৈরি করা হয়েছে। সচেতন মহলের প্রশ্ন—আসামিপক্ষের নারাজি কিভাবে চার্জশিট পরিবর্তনে কাজে আসবে? এটি কি নতুন করে টাকা আদায়ের কৌশল?
এব্যাপারে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এস আই রাজীবের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন রিজাদের মামলার নথিভূক্ত আসামী তাই তাকে চার্জশীটে অন্তর্ভূক্ত করেছি। বিবাদীদের সাথে আমার দেখা হয়নি। টাকা নেওয়ার বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন টাকা নিয়েছি কি প্রমান আছে। করিম যদি আমার কথা বলে টাকা নেয় তাহলে তাকে জিজ্ঞেস করেন। সেওতো সাংবাদিক।
স্থানীয়দের প্রশ্ন করিম কোন পত্রিকার ফটো সাংবাদিক।
এ ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহল গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকলে সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচারের প্রতি আস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
এলাকাবাসীর দাবি, অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। করিম চক্র কিভাবে নিরীহ মানুষকে অপরাধী বানায় এই নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন থাকবে
Reporter Name 


















