
মোহাম্মদ মাহাবুব আলম,পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি
পঞ্চগড় | ১৬ এপ্রিল ২০২৬
পঞ্চগড় সদর উপজেলার বোয়ালমারী এলাকায় পুকুরের মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের বর্বরোচিত হামলায় নারীসহ অন্তত ৩ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মো. মন্তাজ আলী বাদী হয়ে পঞ্চগড় সদর থানায় ৭ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৩-৪ জনের বিরুদ্ধে লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, বোয়ালমারী এলাকার মো. মন্তাজ আলীর সঙ্গে প্রতিবেশী মো. আব্দুল খালেক ও মো. দুলু ইসলামের দীর্ঘদিন ধরে একটি পুকুর নিয়ে বিরোধ চলছিল। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দুপুর ১২টার দিকে মন্তাজ আলীর ভোগদখলীয় পুকুরে আব্দুল খালেক জোরপূর্বক পোনা মাছ ছাড়তে গেলে মন্তাজ আলীর স্ত্রী মোছাঃ জোসনা বেগম (৫১) বাধা দেন।
অভিযোগে বলা হয়, এ সময় পূর্বপরিকল্পিতভাবে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে প্রতিপক্ষরা জোসনা বেগমের ওপর হামলা চালায়। ১নং আসামি দুলু ইসলাম ধারালো হাসুয়া দিয়ে তার মাথায় কোপ দিলে তিনি গুরুতর আহত হন। তার মাথায় ৫টি সেলাই দিতে হয়েছে। পরে ২নং আসামি আব্দুল খালেক তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা এবং শ্লীলতাহানির অভিযোগও উঠেছে।
জোসনা বেগমকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তার বোন মোছাঃ আলেয়া বেগম (৫০) ও পারুল বেগম (৩০)কেও পিটিয়ে জখম করা হয়। লোহার রডের আঘাতে আলেয়া বেগমের বাম পা ভেঙে গেছে বলে জানা গেছে।
গুরুতর আহত জোসনা বেগমকে প্রথমে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসক তাকে দ্রুত দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। বর্তমানে আলেয়া ও পারুল বেগম পঞ্চগড় সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বাদী মন্তাজ আলী বলেন, “আসামীরা অতর্কিত হামলা চালিয়ে আমার স্ত্রীকে প্রায় মেরেই ফেলেছিল। তিনি এখন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই
এ বিষয়ে পঞ্চগড় সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জানান, অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা এ নৃশংস হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
Reporter Name 


















