
আব্দুস শহীদ শাকির জকিগঞ্জ (সিলেট) প্রতিনিধি: জকিগঞ্জ টু সদরপুর রোডে গত কয়েকদিন ধরে রাত ৮টার পর রিকশা ভাড়া নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। নির্ধারিত ১০ টাকা ভাড়ার পরিবর্তে চালকরা ২০ টাকা আদায় করলেও, এই অস্থিরতার মাঝে এক উজ্জ্বল ব্যতিক্রম হয়ে দাঁড়িয়েছেন মানবিক রিকশা চালক শাকিল আহমদ। যেখানে অন্যান্য চালকরা বাড়তি ভাড়া আদায়ে করলেও সেখানে শাকিল আহমদ যাত্রীদের সামর্থ্য ও সুবিধার কথা বিবেচনা করে মানবিকতার এক অনন্য নজির স্থাপন করেছেন।গত কয়েকদিন ধরে রাত ৮টার পর জকিগঞ্জ-সদরপুর রোডে রিকশা ভাড়া দ্বিগুণ করা হয়েছে। চালকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, রাস্তার বেহাল দশা, রিকশা চার্জের চড়া বিল এবং ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে তারা বাড়তি ১০ টাকা নিতে বাধ্য হচ্ছেন। তবে হঠাৎ করে এই ভাড়া বৃদ্ধিতে সাধারণ ও নিম্নবিত্ত যাত্রীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।ভাড়া নিয়ে যখন যাত্রীদের সাথে চালকদের সম্পর্ক অবনতি পথে তখন শাকিল আহমদ কোনো যাত্রীকে ২০ টাকা ভাড়ার জন্য বাধ্য করছেন না। তিনি জানান:”আমি কাউকে ২০ টাকা ভাড়ার জন্য চাপ দেই না। যে যা খুশি হয়ে দেয়—১০, ১৫ বা ২০ টাকা, আমি তা-ই নেই। সদরপুর ও খিলসদরপুর গ্রামে অনেক গরিব মানুষ থাকেন। তাদের কষ্টের কথা চিন্তা করেই আমার এই ছোট উদ্যোগ।”শাকিল আহমদের এই উদ্যোগ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও স্থানীয় পর্যায়ে বেশ প্রশংসিত হচ্ছে। নিয়মিত যাত্রী পারভেজ আহমদ বলেন, “শাকিল আহমদের এমন সিদ্ধান্তকে আমি স্বাগত জানাই। বর্তমান সময়ে এমন পরোপকারী মানসিকতার মানুষ পাওয়া কঠিন। তিনি সত্যিই একজন মানবিক ড্রাইভার।”আরেক যাত্রী শামিম আহমদ বলেন, “কারো ইচ্ছা থাকলে যে কোনো অবস্থান থেকেই মানবিক কাজ করা যায়, শাকিল আহমদ তার জ্বলন্ত প্রমাণ। তার এই ত্যাগের মূল্য অনেক বেশি।”অর্থনৈতিক সংকট আর নানা সমস্যার অজুহাতে যখন সাধারণ মানুষের পকেট কাটতে অনেকে ব্যস্ত, তখন শাকিল আহমদের মতো সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের এই উদারতা আমাদের শেখায়—সবকিছুর উপরেও মানুষের সেবা করা সম্ভব। তার এই কাজ অন্য চালকদের জন্যও এক বড় অনুপ্রেরণা হতে পারে।
Reporter Name 


















