বাংলাদেশ ০৮:২৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সুনামগঞ্জে পৃথক বজ্রপাতের ঘটনায় ৫ জনের মৃ/ত্যু

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৯:৪৩:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
  • ২৭ Time View

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জে পৃথক বজ্রপাতের ঘটনায় এক কলেজ শিক্ষার্থীসহ পাঁচ জনের মৃ/ত্যু ঘটেছে। শনিবার দুপুরে কালবৈশাখী ঝড়ের সময় হাওরে ধান কাটা মাড়াইকালে এই ঘটনা ঘটে।

ধর্মপাশায় বজ্রপাতে হবিবুর রহমান (২২) ও রহমত উল্লাহ (১৩) নামে দুই জনের মৃ/ত্যু ঘটে। হবিবুর উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়নের বড়ইহাটি গ্রামের ফজলুর রহমানের ছেলে এবং বাদশাগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের ডিগ্রি ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী এবং রহমত উল্লাহ জয়শ্রী ইউনিয়নের সরস্বতিপুর গ্রামের জয়নাল হকের ছেলে।

হবিবুর রহমান তার চাচার সাথে টগার হাওর সংলগ্ন চকিয়াচাপুর গ্রামে বোরো ধান কাটতে যান। সেখানে দুপুরের দিকে হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড় শুরু হয় এবং বজ্রপাত হলে হবিবুর রহমানসহ কয়েকজন আহত হয়। পরে গুরুতর আহতাবস্থায় হবিবুরকে ধর্মপাশা সদর হাসপাতালে নেওয়ার জন্য রওনা দিলে পথে হবিবুরের মৃ/ত্যু হয়। আহতরা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন।

অপর দিকে দুপুর একটার দিকে জয়শ্রী ইউনিয়নের সরস্বতিপুর ইসলামপুর গ্রামেও বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে। এতে ওই গ্রামের জয়নাল হক (৩৫), তার ছেলে রহমত উল্লাহ এবং লাল সাধুর স্ত্রী শিখা মনি (২৫) গুরুত্বর আ/হত হয়। তাদেরকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে রহমত উল্লাহকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন এবং জয়নাল ও শিখা মনিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

একই সময়ে তাহিরপুরে আবুল কালাম ওরফে কালা মিয়া (২৮) নামের একজন বজ্রপাতে মা/রা যান। আরেকজন আহত হন। নি/হত কালা মিয়া উপজেলার জামলাবাজ গ্রামের আবু বকরের ছেলে।

জামলাবাজ গ্রামের সামনে একটি হাসেঁর খামারে এই ঘটনা ঘটে। দুইজনেই এই খামারে কাজে ছিলেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নওশাদ আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

জামালগঞ্জ উপজেলায় বজ্রপাতে নুরুজ্জামান নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু ঘটেছে। নিহতের বাড়ি সদর ইউনিয়নের চাঁনপুর। পাগনার হাওরে কাজ করার সময় হঠাৎ বজ্রপাতে নুরুজ্জামান ও তার চাচাতো ভাই গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে দ্রুত জামালগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক নুরুজ্জামানকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত অপর ব্যক্তিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেটে প্রেরণ করা হয়েছে।

দিরাই উপজেলায় বজ্রপাতে লিটন মিয়া (৩৮) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। তিনি উপজেলার পেরুয়া আশনাবাজ গ্রামের চান্দু মিয়ার ছেলে।

শনিবার ১৮ এপ্রিল দুপুরে কালিয়াগোটার (আতরার) হাওরের একটি বিলের পাশে ধান কাটার সময় আকস্মিক বজ্রপাতে তিনি গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা. প্রশান্ত দাস তালুকদার লিটন মিয়ার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

jogo hosterbd

Popular Post
error: Content is protected !!

সুনামগঞ্জে পৃথক বজ্রপাতের ঘটনায় ৫ জনের মৃ/ত্যু

Update Time : ০৯:৪৩:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জে পৃথক বজ্রপাতের ঘটনায় এক কলেজ শিক্ষার্থীসহ পাঁচ জনের মৃ/ত্যু ঘটেছে। শনিবার দুপুরে কালবৈশাখী ঝড়ের সময় হাওরে ধান কাটা মাড়াইকালে এই ঘটনা ঘটে।

ধর্মপাশায় বজ্রপাতে হবিবুর রহমান (২২) ও রহমত উল্লাহ (১৩) নামে দুই জনের মৃ/ত্যু ঘটে। হবিবুর উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়নের বড়ইহাটি গ্রামের ফজলুর রহমানের ছেলে এবং বাদশাগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের ডিগ্রি ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী এবং রহমত উল্লাহ জয়শ্রী ইউনিয়নের সরস্বতিপুর গ্রামের জয়নাল হকের ছেলে।

হবিবুর রহমান তার চাচার সাথে টগার হাওর সংলগ্ন চকিয়াচাপুর গ্রামে বোরো ধান কাটতে যান। সেখানে দুপুরের দিকে হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড় শুরু হয় এবং বজ্রপাত হলে হবিবুর রহমানসহ কয়েকজন আহত হয়। পরে গুরুতর আহতাবস্থায় হবিবুরকে ধর্মপাশা সদর হাসপাতালে নেওয়ার জন্য রওনা দিলে পথে হবিবুরের মৃ/ত্যু হয়। আহতরা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন।

অপর দিকে দুপুর একটার দিকে জয়শ্রী ইউনিয়নের সরস্বতিপুর ইসলামপুর গ্রামেও বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে। এতে ওই গ্রামের জয়নাল হক (৩৫), তার ছেলে রহমত উল্লাহ এবং লাল সাধুর স্ত্রী শিখা মনি (২৫) গুরুত্বর আ/হত হয়। তাদেরকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে রহমত উল্লাহকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন এবং জয়নাল ও শিখা মনিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

একই সময়ে তাহিরপুরে আবুল কালাম ওরফে কালা মিয়া (২৮) নামের একজন বজ্রপাতে মা/রা যান। আরেকজন আহত হন। নি/হত কালা মিয়া উপজেলার জামলাবাজ গ্রামের আবু বকরের ছেলে।

জামলাবাজ গ্রামের সামনে একটি হাসেঁর খামারে এই ঘটনা ঘটে। দুইজনেই এই খামারে কাজে ছিলেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নওশাদ আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

জামালগঞ্জ উপজেলায় বজ্রপাতে নুরুজ্জামান নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু ঘটেছে। নিহতের বাড়ি সদর ইউনিয়নের চাঁনপুর। পাগনার হাওরে কাজ করার সময় হঠাৎ বজ্রপাতে নুরুজ্জামান ও তার চাচাতো ভাই গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে দ্রুত জামালগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক নুরুজ্জামানকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত অপর ব্যক্তিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেটে প্রেরণ করা হয়েছে।

দিরাই উপজেলায় বজ্রপাতে লিটন মিয়া (৩৮) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। তিনি উপজেলার পেরুয়া আশনাবাজ গ্রামের চান্দু মিয়ার ছেলে।

শনিবার ১৮ এপ্রিল দুপুরে কালিয়াগোটার (আতরার) হাওরের একটি বিলের পাশে ধান কাটার সময় আকস্মিক বজ্রপাতে তিনি গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা. প্রশান্ত দাস তালুকদার লিটন মিয়ার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।