বাংলাদেশ ০৮:১০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হোয়াক্যং রেঞ্জ কর্মকর্তা মিনার চৌধুরীর বিরুদ্ধে লাগামহীন দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। 

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:৫২:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬
  • ২৩ Time View

স্টাফ রিপোর্টার আমিন কক্সবাজার: কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের হোয়াক্যং বন রেঞ্জে দায়িত্ব পালনকারী রেঞ্জ কর্মকর্তা জহির উদ্দিন মোহাম্মদ মিনার চৌধুরীর বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘ প্রায় ছয় বছর একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করায় স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ভূমিদস্যু, পাহাড়খেকো ও কাঠ পাচারকারী সিন্ডিকেটের সঙ্গে যোগসাজশের মাধ্যমে সংরক্ষিত বনাঞ্চলে অবৈধ দখল, পাহাড় কেটে মাটি পাচার এবং একাধিক অবৈধ ইটভাটা গড়ে ওঠার পেছনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার নীরব ভূমিকা রয়েছে। ফলে বনভূমি ধ্বংসের মাত্রা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, হোয়াক্যং ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় বন বিভাগের জমি দখল ও পাহাড় কাটার ঘটনা ঘটলেও দৃশ্যমান কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এতে করে বন রক্ষার দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে স্থানীয়দের মাঝে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হোয়াক্যং ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের চাকমার কুল এলাকায় আমীর আলীর ছেলে মমতাজ মিয়া বন বিভাগের জমিতে দালান নির্মাণ করেছেন। একইভাবে কেরুনতলী এলাকার সোহাগ বনভূমি দখল করে বাড়ি নির্মাণ করেছেন। এছাড়া মোহাম্মদ ইউনুস ও ‘আর্মি’ নামে পরিচিত আরেক ব্যক্তি বন বিভাগের পাহাড় কেটে সাবাড় করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, এসব অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িতদের কাছ থেকে অর্থের বিনিময়ে নীরব থাকেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা। এমনকি অভিযুক্তদের কেউ কেউ প্রকাশ্যে দাবি করছেন, বন বিভাগের সংশ্লিষ্টদের ‘ম্যানেজ’ করেই তারা এসব কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে রেঞ্জ কর্মকর্তা মিনার চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “বিষয়টি দেখা হচ্ছে।যা স্থানীয়ভাবে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

পরিবেশবাদীরা বলছেন, এভাবে চলতে থাকলে সংরক্ষিত বনাঞ্চল মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে। তারা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, “টাকা দিলে সবকিছু ঠিক, আর টাকা না দিলে মামলা” এমন অবস্থার অবসান চান তারা। হোয়াক্যং বন রেঞ্জে চলমান এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন এলাকাবাসী।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

jogo hosterbd

Popular Post
error: Content is protected !!

হোয়াক্যং রেঞ্জ কর্মকর্তা মিনার চৌধুরীর বিরুদ্ধে লাগামহীন দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। 

Update Time : ০১:৫২:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার আমিন কক্সবাজার: কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের হোয়াক্যং বন রেঞ্জে দায়িত্ব পালনকারী রেঞ্জ কর্মকর্তা জহির উদ্দিন মোহাম্মদ মিনার চৌধুরীর বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘ প্রায় ছয় বছর একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করায় স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ভূমিদস্যু, পাহাড়খেকো ও কাঠ পাচারকারী সিন্ডিকেটের সঙ্গে যোগসাজশের মাধ্যমে সংরক্ষিত বনাঞ্চলে অবৈধ দখল, পাহাড় কেটে মাটি পাচার এবং একাধিক অবৈধ ইটভাটা গড়ে ওঠার পেছনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার নীরব ভূমিকা রয়েছে। ফলে বনভূমি ধ্বংসের মাত্রা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, হোয়াক্যং ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় বন বিভাগের জমি দখল ও পাহাড় কাটার ঘটনা ঘটলেও দৃশ্যমান কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এতে করে বন রক্ষার দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে স্থানীয়দের মাঝে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হোয়াক্যং ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের চাকমার কুল এলাকায় আমীর আলীর ছেলে মমতাজ মিয়া বন বিভাগের জমিতে দালান নির্মাণ করেছেন। একইভাবে কেরুনতলী এলাকার সোহাগ বনভূমি দখল করে বাড়ি নির্মাণ করেছেন। এছাড়া মোহাম্মদ ইউনুস ও ‘আর্মি’ নামে পরিচিত আরেক ব্যক্তি বন বিভাগের পাহাড় কেটে সাবাড় করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, এসব অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িতদের কাছ থেকে অর্থের বিনিময়ে নীরব থাকেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা। এমনকি অভিযুক্তদের কেউ কেউ প্রকাশ্যে দাবি করছেন, বন বিভাগের সংশ্লিষ্টদের ‘ম্যানেজ’ করেই তারা এসব কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে রেঞ্জ কর্মকর্তা মিনার চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “বিষয়টি দেখা হচ্ছে।যা স্থানীয়ভাবে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

পরিবেশবাদীরা বলছেন, এভাবে চলতে থাকলে সংরক্ষিত বনাঞ্চল মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে। তারা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, “টাকা দিলে সবকিছু ঠিক, আর টাকা না দিলে মামলা” এমন অবস্থার অবসান চান তারা। হোয়াক্যং বন রেঞ্জে চলমান এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন এলাকাবাসী।