
মোঃ জাকির হোসেন, সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি॥নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের ব্যস্ততম সড়কগুলোর ফুটপাত জুড়ে পাশের দোকানের মালামালের পসরার আধিপত্য দেখে মনে হয় যেন এখানে কোন ফুটপাতই নেই। এতটা ব্যাপকভাবে ফুটপাতগুলো দখল করা হয়েছে যে, অনেক জায়গায় তা রাস্তার মাঝ বরাবর পর্যন্ত বিস্তার হয়েছে। এতে রাস্তাগুলোতে পায়ে হেটে চলাচলের জায়গা নেই বললেই চলে। একারণে ফাঁকা থাকা সংকীর্ণ সড়কে যাতায়াত করা চরম দুরহ হয়ে পড়েছে। তার পাশাপাশি যানবাহনের আধিক্যের কারণে অবর্ণনীয় দুরাবস্থা দেখা দিয়েছে। প্রায় সময়ই সড়কগুলোতে লম্বা যানজটের সৃষ্টি হওয়ায় প্রতিনিয়ত অসহনীয় ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বছরের পর বছর ধরে প্রশাসনের নাকের ডগায় এমন পরিস্থিতি বিরাজ করলেও কোন ভ্রুক্ষেপ নেই কারও। মাঝে মাঝে অভিযানের নামে লোক দেখানো উচ্ছেদ কার্যক্রম চালানো হলেও তা দুই একদিন বজয় থাকলেও পরে আবারও পূর্বের চেয়ে দ্বিগুণ হারে দখল হয়ে যায় সড়কগুলো। নিয়মিত মনিটরিং এবং কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় এই অবস্থার শিকার সৈয়দপুরবাসী বলে মনে করছেন ভুক্তভোগীরা।
সরেজমিনে গেলে দেখা যায়, শহরের প্রধান সড়ক শহীদ ডা. জিকরুল হক সড়ক, শহীদ সামসুল হক সড়ক, শেরে বাংলা সড়ক ও শহীদ জহুরুল হক সড়ক, শহীদ তুলশীরাম সড়ক ও রংপুর রোড এবং এই সড়কগুলোর সংযুক্ত মোড়গুলো যেন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। শুধুমাত্র সড়কগুলোর দুইপাশের দোকানদারদের অবিবেচনা প্রসুত মন মানসিকতার কারণেই মানুষের দুভোর্গের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সড়কের উভয়পাশের দোকানদাররা তাদের দোকানের মালামাল ফুটপাত পেরিয়ে সড়কের অর্ধেকজুড়ে রাখায় স্বাভাবিক পথচারীসহ ক্রেতারাও চলাচলে সমস্যায় পড়ছেন। আর এর মধ্যদিয়ে রিকশা, মোটর সাইকেলসহ চলাচলকালে এই সমস্যা প্রকট হয়ে দেখা দিচ্ছে। এতে সড়কগুলো চরম সংকীর্ণ হয়ে স্বাভাবিক চলাচল বিঘিœত হওয়াসহ প্রায়ই দূর্ঘটনার পড়ছে সবাই। বিশেষ করে পথচারীরা চলাচলে অসহনীয় বিড়ম্বনায় পড়ছে পথ চলতে গিয়ে।
উল্লেখিত সড়কগুলোতে এমনিতেই প্রয়োজনীয় সকল ধরণের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান হওয়ায় ক্রেতাদের চাপ থাকে সব সময়। বিশেষ করে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত এবং সন্ধা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত ব্যাপক লোক সমাগম ঘটে রাস্তার পাশের দোকানগুলোতে। কিন্তু প্রয়োজনে এসব সড়কে গেলেই অস্বস্তিতে পড়তে হয় শুধুমাত্র চলাচলের ক্ষেত্রেই। তার উপর সময় নিয়ে কেনাকাটা করতেও নাভিশ^াস উঠে যায়। রাস্তার পাশের দোকানদারদের এমন দখলবাজির কারণে মার্কেটের ভিতরের দোকানদাররাও সমস্যা পড়ছেন। সংকীর্ণ রাস্তা পেরিয়ে মার্কেটে প্রবেশে কষ্ট করতে হয় ক্রেতাদের। যে কারণে অনেক ক্রেতা এই দুর্ভোগ থেকে বাঁচতে এই এলাকায় না এসে পাশের সৈয়দপুর প্লাজা মার্কেটে যেতে বাধ্য হন। এতে সৈয়দপুর কাপড় মার্কেট ও পুরাতন কাপড় মার্কেট, প্ইাকারী কসমেটিক্স ও অন্যান্য প্রসাধনী বিক্রির চুরিপট্টি মার্কেট, গোশত ও মাছ বাজারে লোকজন ঢুকতে না পারায় ক্রেতা কমে গেছে।
শহীদ ডা. জিকরুল হক সড়কের আকবর আলী নামের একজন ব্যবসায়ী বলেন, রাস্তার পাশের দোকানদাররা যেভাবে ফুটপাত ও রাস্তার উপর পন্যের পসরা সাজিয়ে ব্যবসা করছেন তাতে মনে হয় দোকানগুলো গোডাউন আর রাস্তা ও ফুটপাতই যেন দোকান। প্রশাসনের সামনেই এমন অরাজক পরিবেশ দিনের পর দিন অব্যাহত থাকলেও কার্যকর কোন পদক্ষেপ নেই। প্রশাসন যেন দেখে না দেখার ভান করে নির্বিকার। মাঝে মাঝে পৌর কর্তৃপক্ষ ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দকে নিয়ে ফুটপাত দখলমুক্ত করতে উচ্ছেদ অভিযান চালালেও সকালে মুক্ত সড়ক বিকালেই দখল হয়ে যায়। ধারাবাহিক তদারকি নেই। আর এর খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষসহ মার্কেটের ভিতরের ব্যবসায়ীদের। আমরা এই দুরাবস্থার নিরসন চাই।
একইভাবে সৈয়দপুর কাপর মার্কেটের ব্যবসায়ী আরমান হোসেন বলেন, শহীদ সামসুল হক সড়ক যেন পুরোটাই বাজার। রাস্তা, ফুটপাত জুড়ে দোকানের মালামালের অবস্থান। দুইপাশের দোকানদারদের মাল বোঝাইয়ের ফলে সড়কটি এতটাই সংকীর্ণ হয়ে পড়েছে যে, পায়ে হেটে যাওয়াই দুষ্কর। আর যানবাহন নিয়ে চলাচল তো কঠিন বিষয়। যত সাবধানেই চালানো হোক কারো না কারো সাথে ধাক্কা লাগবেই। এমন পরিস্থিতিতে আমাদের মার্কেটে কেনাকাটা করতে আসা ক্রেতারা চরম দুর্ভোগের শিকার। এনিয়ে আমরা অনেকবার পৌর কর্তৃপক্ষ ও উপজেলা প্রশাসনকে বলার পরও কার্যকর কোন সমাধান আসেনি। বরং প্রতিবার অভিযানের পর এই দখলবাজির মাত্রা যেন বেড়ে যায়। আরও বেপরোয়াভাবে সড়ক ও ফুটপাত দখল করে পসরা সাজায়। এজন্য ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দের দায়িত্বহীনতার সাথে প্রশাসনের অবহেলা দায়ি। তারা কঠোরভাবে ব্যবস্থা নিলে এই দুর্ভোগ থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব। নিয়মিত অভিযান চালানোর সময় মালামাল জব্দ করাসহ জরিমানা করার দাবি জানান তিনি।
সৈয়দপুর বস্ত্র মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আমরা সংগঠের পক্ষ থেকে রাস্তা ও ফুটপাত থেকে মালামাল সরানোর জন্য মাইকিং করেছি। যাতে আমাদের সমিতির সদস্যরা আগাম সতর্ক হয়ে যান। এরপরও কেউ কথা না শুনলে আমরা প্রশাসনকে সাথে নিয়ে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করবো। এতে মালামাল জব্দ করাসহ জরিমানা করা হতে পারে। ইতোমধ্যে এ ব্যাপারে মিটিং করা হয়েছে। কিছুদিনের মধ্যেই এই ব্যবস্থা নেয়া হবে।
শহরের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আলতাফ হোসেন বলেন, ফুটপাত ও রাস্তার উপর দোকানের পসরা সত্যিই একটা খারাপ দৃষ্টান্ত। আমরা দোকানদারদের বার বার বলার পরও তারা সচেতন না হওয়ায় এই খারাপ অবস্থা স্থায়ী রুপ নিয়েছে। প্রশাসনের সাথে যৌথভাবে অভিযান চালানো হলেও তারা মাত্র দুই একদিনের মধ্যেই আবারও পুর্বের অবস্থায় ফিরে যান। যে কারণে জন দূর্ভোগ কোনভাবেই কমছেনা। এবার আমরা আবারও উদ্যোগ নিয়েছি ব্যবসায়ীদের মটিভেশনের। তারপরও যদি তারা তাদের আদত না ছাড়ে তাহলে জোড়ালো ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবো।
সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক ফারহা ফাতেহা তাকমিলা মুঠোফোনে বলেন, শহরের সড়কগুলো দখলমুক্ত করে জনগনের চলাচল স্বাভাবিক করতে আমরা প্রায়ই উচ্ছেদ অভিযান চালাই। কিন্তু কয়েক দিনের মাথায় তা আবার আগের মতই দখল হয়ে যায়। এনিয়ে কাজ করতে গেলে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ সহযোগিতা করলেও তারাই আবার কঠোর পদক্ষেপ না নেওয়ার অনুরোধ করেন। এবার তারা নিজেরাই বিষয়টি সমাধান করবেন বলে সময় নিয়েছেন। দেখি তারা কতটুকু কি করেন। না হলে আমরা আগের চেয়ে কঠিনভাবে পদক্ষেপ নিয়ে উচ্ছেদের পাশাপাশি জরিমানা করবো। তবে তার আগে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের সাথে শেষবারের মত বসবো।
Reporter Name 


















